1. admin@theinventbd.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

কলকাতার পত্রিকায় প্রকাশ হয় শরণার্থী কবরীর খবর

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩২ বার পঠিত

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে চলে যান সদ্য প্রয়াত অভিনেত্রী, নির্মাতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী। সেখান থেকে পাড়ি জমান ভারতে।

আগরতলা হয়ে কলকাতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী।

তখনকার স্মৃতিচারণ করে একবার বলেছিলেন, “সেখানকার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অবস্থার কথা তুলে ধরেছিলাম। কীভাবে আমি মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন সবাইকে ছেড়ে এক কাপড়ে পালিয়ে সেখানে পৌঁছেছি, সে কথা বলেছিলাম। সেখানে গিয়ে তাদের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের দেশকে সাহায্যের আবেদন করি।”

ওই সময় কবরীর সঙ্গী ছিলেন স্বামী চিত্ত চৌধুরী ও দুই ছেলে অঞ্জন-রঞ্জন। মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী হিসেবে আগরতলা যাওয়ার পর তাদের নিয়ে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘কবরী চৌধুরী কলকাতায়’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

সংগ্রামের নোটবুক নামের একটি ফেইসবুক পেজে পাওয়া যায় ১৯৭১ সালের ১ মে প্রকাশ হওয়া প্রতিবেদনটি।

বিশেষ প্রতিনিধির বরাত দিয়ে লেখা হয়, “দক্ষিণ কলকাতায় এক বাড়িতে কবরী চৌধুরীর দেখা পেলাম । ঢাকা থেকে আগরতলা হয়ে এখানে পৌঁছেছেন। কবরী সেখানকার সবচেয়ে নামী এবং সবচেয়ে দামি চিত্রাভিনেত্রী। স্বামী এবং দুই পুত্রও সঙ্গে এসেছেন। স্বামী চিত্ত চৌধুরী ঢাকার বিশিষ্ট চিত্র প্রযোজক। ১৯৬৩ সাল থেকে ছবির ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। কবরী দেবীও ওই বছরেই ছবির জগতে আসেন। ছবির সূত্রেই ওদের প্রথম পরিচয়, পরে পরিণয়। দুই পুত্র অঞ্জন আর রঞ্জনও ছবিতে নেমেছে।”

“পথের দুঃখের কথা বলছিলেন কবরী চৌধুরী। পরনে ছেঁড়া শাড়ি ছেঁড়া ব্লাউজ (ছদ্মবেশী না হয়ে উপায় ছিল না), পায়ে হেঁটে পঞ্চাশ মাইল পথ পার হতে হয়েছে। তার ওপর সারা রাস্তা মুষলধারে বৃষ্টি। এই বৃষ্টিই অবশ্য পাক হানাদারদের অবিশ্রান্ত গোলা বৃষ্টির কবল থেকে পরোক্ষভাবে ওদের রক্ষা করেছে। ১৩ এপ্রিল ওরা চট্টগ্রাম ছেড়েছেন। ঢাকা ছাড়তে হয়েছিল আরও কয়েক দিন আগেই। ১৫ এপ্রিল ওরা ত্রিপুরা সবরুম বর্ডার দিয়ে কপর্দকহীন হয়ে আগরতলায় পৌঁছেন। সীমান্তের জনসাধারণ ওদের সঙ্গে অকুণ্ঠ সহযোগিতা করেছেন। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বললেন সে কথা।

আরও লেখা হয়, “ওই বাংলার মুক্তিফৌজের সম্পর্কেও কবরী দেবীর কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই। জয় ওদের অনিবার্য । খুব জোর দিয়ে কথাটা বললেন। বিদায় নিতে উঠে দাঁড়ালাম করজোড়ে কবরী দেবী হাসলেন।”

এ ছাড়া ১৯৭২ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের ক্যাপশনে লেখা হয় “শ্রীমতি কবরী চৌধুরী শীঘ্রই চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন ভারতীয় ছবিতে কাজ করার জন্য।”

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবরী।

শনিবার বাদ জোহর জানাজা শেষে বেলা ২টার দিকে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে একইস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ শোবিজ অঙ্গনের তারকা, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো।

গত ৫ এপ্রিল কবরীর নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর ওইদিন রাতেই তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৮ এপ্রিল তাকে স্থানান্তর করা হয় শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আইসিইউতে।

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কবরী। তার পারিবারিক নাম ছিল মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণ দাস পাল ও মা লাবণ্য প্রভা পাল। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় কবরীর। তার অন্যান্য জনপ্রিয় ছবির মধ্যে রয়েছে জলছবি, বাহানা, সাত ভাই চম্পা, আবির্ভাব, বাঁশরি, যে আগুনে পুড়ি,  দীপ নেভে নাই, দর্পচূর্ণ, ক খ গ ঘ ঙ, বিনিময়, সুজন সখী, আগন্তুক, নীল আকাশের নীচে, ময়নামতি, সারেং বৌ, দেবদাস, হীরামন, চোরাবালি, পারুলের সংসার, আরাধনা, দুই জীবন ও তিতাস একটি নদীর নাম।

৫ দশকের বেশি সময় চলচ্চিত্রে রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল ও বুলবুল আহমেদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ঢাকার চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন রাজ্জাক-কবরী। ফারুক ও বুলবুল আহমেদের সঙ্গেও তার জুটি জনপ্রিয়তা পায়।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-সহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন কবরী।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!