1. admin@theinventbd.com : admin :
  2. worksofine@rambler.ru : JefferyDof :
  3. kevin-caraballo@mainello5.tastyarabicacoffee.com : kevincaraballo :
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
জলঢাকায় ফেন্সিডিল সহ গ্রেফতার- ২ পলাতক-১’জন মোটরসাইকেল জব্দ সৈয়দপুরে জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে ১৭ বছর থেকে বিধবা ভাতা উত্তোলন, সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ঝিকরগাছায় আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত জলঢাকায় ১১ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের মাঝে ১০৯টি বাইসাইকেল বিতরণ জলঢাকায় যানজটে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলছে : নিরসনের দাবি পৌরবাসির বেনাপোলে গৃহহীনদের ঘর নিয়ে ভুমি অফিসের সহকারীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ। ঝিকরগাছায় সাপের কামড়ে ১ গৃহবধূর মৃত্যু বেনাপোলে র‍্যাবের অভিযানে গাজাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী আটক সৈয়দপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বিতরণ সৈয়দপুরে সাহিত্য আসরের ৪থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার গুরুত্ব

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
  • ৮০ বার পঠিত

রমজান মাসে বাংলাদেশের অধিকাংশ মসজিদে খতমে তারাবি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন তারাবিতে তেলাওয়াতকৃত অংশ থেকে বাছাই করে গুরুত্বপূর্ণ অংশের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির উপস্থাপন করেছেন মুফতি মাহফূযুল হক

আজ ৮ম তারাবিতে তেলাওয়াত করা হবে কোরআনে কারিমের ১১ নম্বর পারা অর্থাৎ সুরা তওবার ৯৪ নম্বর আয়াত থেকে সুরা হুদের ৫ নম্বর আয়াত পর্যন্ত। আজকের তেলাওয়াতকৃত অংশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনা রয়েছে। এর একটি হলো মুসলিম সমাজের কিছু প্রতিভাবান মেধাবীকে অন্য সব দায়িত্ব থেকে মুক্ত করে নিরেট দ্বীনি জ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় নিয়োজিত রাখার নির্দেশ। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর সমস্ত মুমিনের অভিযানে (একসঙ্গে যুদ্ধে) বের হওয়া সংগত নয়। তাই তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সংবাদ (জ্ঞান) দান করে স্বজাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, যেন তারা (গোনাহ থেকে) বাঁচতে পারে।’ সুরা তওবা : ১২২

জ্ঞান চর্চা ইসলামের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষের জীবনের দুটি অংশ, দুনিয়া ও আখিরাত। ইসলাম মানুষের উভয় জীবনের সুখ, শান্তি, সফলতা ও উন্নতি কামনা করে। তাই মানুষের উভয় জীবনের সুখ, শান্তি, সফলতা ও উন্নতির জন্য যতগুলো শাস্ত্রের জ্ঞান চর্চা দরকার ইসলাম সেই সমুদয় শাস্ত্রের জ্ঞান চর্চাকে উৎসাহিত করে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে বিদেশি ভাষা শিখেছেন সাহাবিরা। তরুণ সাহাবিরা প্রবীণদের কাছ থেকে সাহিত্য, ব্যবসায়-বাণিজ্য, হস্তশিল্প ও কৃষিসহ ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেছেন। সাহাবাদের পরে খেলাফত আমলে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষালয়গুলোতে মানুষের প্রয়োজনীয় সব শাস্ত্রের চর্চা ও গবেষণা হতো। ইসলাম মানুষের উভয় জীবনের সুখ, শান্তি, উন্নতি, সফলতার প্রতি গুরুত্বারোপ করলেও সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে থাকে মানুষের পরকালীন জীবনের সফলতা ও সুখের প্রতি। তাই সংগত কারণেই উভয় জীবনের জ্ঞান চর্চার প্রতি ইসলামের গুরুত্বারোপ থাকলেও ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বারোপ থাকে দ্বীনি জ্ঞানের চর্চার ও গবেষণার প্রতি।

একজন মানুষের জীবনে বহু শাস্ত্রের দরকার আছে। সে অসুস্থ হলে, কর্মক্ষম থাকতে হলে চিকিৎসা শাস্ত্র তার দরকার, বাসস্থানের জন্য স্থাপত্য শাস্ত্র দরকার, পোশাকের জন্য শিল্প শাস্ত্র দরকার, খাদ্যের জন্য কৃষি শাস্ত্র দরকার। কিন্তু মানুষের সামর্থ্য সীমিত। অধিকাংশ মানুষ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হয় না। একজন মানুষ বহু শাস্ত্রে অবদান রাখতে পারে না, বহু শাস্ত্র নিয়ে জ্ঞানার্জন ও গবেষণা করতে পারে না। মানুষের এ সীমাবদ্ধতার কথা আল্লাহতায়ালা খুব ভালোভাবেই জানেন। তাই তিনি কাজ ভাগ করে দিয়েছেন। সমাজের সবাই চিকিৎসক হবে, সবাই প্রকৌশলী হবে, সবাই কৃষিবিদ হবে, সবাই ইসলামি স্কলার হবে- এটা আল্লাহ চাননি। তাই তিনি সমাজের কিছু মানুষকে দ্বীনি জ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জনের লক্ষ্যে অবসর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কিছু মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞানে বিশেষজ্ঞ হতে আদেশ করেছেন। তারা দিন-রাত, জীবন-যৌবন দ্বীনি জ্ঞানের জন্য উৎসর্গ করবেন।

নবী করিম (সা.) -এর যুগে মসজিদে নববির বারান্দায় দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের জন্য নিবেদিত একদল মানুষ পড়ে থাকত। যারা কোরআন-হাদিস মুখস্থ করা ছাড়া আর কিছুই করত না। তাদের একজন হলেন সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.)। একদা প্রবীণ এক সাহাবি বলেন, আমরা সুদীর্ঘকাল নবীজির সান্নিধ্য পেয়ে এত হাদিস বর্ণনা করতে পারি না যত হাদিস আবু হুরায়রা অল্পদিনের সান্নিধ্যে বর্ণনা করেন। তখন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, আমার মুহাজির ভাইয়েরা দিনে ব্যবসার কাজে বেরিয়ে যেতেন, আনসার ভাইয়েরা দিনে কৃষি কাজে বেরিয়ে যেতেন। আমি না ব্যবসায় যেতাম, না ক্ষেতে যেতাম। আমি তো দিন-রাত মসজিদে পড়ে থেকে হাদিস মুখস্থ করতাম।

যেকোনো শাস্ত্রের ওপর বিশেষজ্ঞ ছাড়া কোনো শাস্ত্র পৃথিবীতে টিকে থাকে না, থাকতে পারে না। তাই ইসলাম টিকিয়ে রাখতে হলে, প্রত্যেক যুগে ইসলাম বিষয়ে অভিজ্ঞ লোক তৈরি করতে হবে। যারা জ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় নিয়োজিত থেকে জাতিকে সঠিকভাবে পথনির্দেশ করবে।

মোটকথা মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান চর্চার ও গবেষণার জন্য স্বতন্ত্র একটি শ্রেণি থাকবে। তবে এই শ্রেণির লোকেরা মুখ দেখে, বংশগতভাবে এ দায়িত্বে নিয়োজিত হবেন না। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন মেধা ও যোগ্যতা বলে। তিনি যে কোনো বংশের, যেকোনো পরিবারের সন্তান হতে পারেন। গবেষক শ্রেণির আলেম হওয়ার দরজা সবসময় সবার জন্য উন্মুক্ত। এই শ্রেণির আলেমদের একটাই কাজ হবে, যথানিয়মে পূর্ববর্তী আলেমদের দীর্ঘ সান্নিধ্য এবং নিবিড় তত্ত্বাবধান ও পরিচর্যায় থেকে নিজেকে সত্যনিষ্ঠ আলেমরূপে তৈরি করার কঠোর সাধনায় ব্রতী হওয়া। যুগ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা, প্রয়োজনীয় বিষয়ে মুসলমানদের পরামর্শ দেওয়া। যে পরামর্শ ও সতর্কবার্তা গ্রহণ করে মানুষ উপকৃত হবে। সমাজ নানা মত ও পথের বিভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে রক্ষা পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!