1. admin@theinventbd.com : admin :
শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
জলঢাকায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচী পালন করছে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠন জলঢাকায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে উপজেলা যুবলীগ ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ এর জন্মদিনে জলঢাকার ফাউন্ডেশনে কর্মীদের মিষ্ট মুখ সৈয়দপুরে করোনায় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টসহ দুই জনের মৃত্যু নীলফামারীর সৈয়দপুরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অভিযান পরিচালনা করে ৫শ’৭০ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। জলঢাকায় ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গ্রেফতার – ১ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসার জের, ভুড়ি বের করে দিলো প্রতিপক্ষ পাথর বোঝাই ৪০টি ওয়াগন নিয়ে বাংলাদেশে আসলো ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন ডিমলায় ভিজিডি কার্ডের চাল না দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নামে থানায় জিডি জলঢাকায় ক্যান্সার আক্রান্ত দুই শিক্ষককে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

বদলে যাওয়া ভূমি: করোনা পরিস্থিতির বাস্তব ও নান্দনিক রূপচিত্র

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ১১৫ বার পঠিত

হারুন পাশা (জন্ম. ১০ নভেম্বর ১৯৯০) তরুণ কথাসাহিত্যিক; বয়সে নবীন হলেও লিখে যাচ্ছে নিষ্ঠার সাথে। লিখেছে এখন পর্যন্ত তিনটি উপন্যাস এবং গোটাবিশেক গল্প। ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় তার লেখা প্রথম গল্প। তার উপন্যাসগুলো হলো ‘তিস্তা’, ‘চাকরিনামা’ এবং ‘বদলে যাওয়া ভূমি’।

‘তিস্তা’র প্রকাশসাল ২০১৭, ‘চাকরিনামা’ ২০১৮ এবং ‘বদলে যাওয়া ভূমি’ ২০২১। হারুন পাশা পরিশ্রমী লেখক। লেখার জন্য পরিশ্রম করে এবং বিনিয়োগ করে দীর্ঘ সময়। যতটুকু জেনেছি তার প্রথম উপন্যাস ‘তিস্তা’ লিখেছে তিন বছর ধরে। এটা পরিশ্রম আর সময় বিনিয়োগের ভালো উদাহরণ। সে লেখে প্রস্তুতি নিয়ে।

হারুন পাশার লেখায় কিছু কৌশল আছে। তার গল্প-উপন্যাসে লেখকের উপস্থিতি থাকে না। চরিত্ররা উপন্যাসে পালন করে মুখ্য ভূমিকা। শুরুর পর মধ্যভাগ বা উপন্যাসের পরিণতি আসে চরিত্রের কথকথায়। আবার এক চরিত্র গল্প শোনায় আরেক চরিত্রকে। চরিত্ররা কখনো আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে, কখনো কথা বলে প্রমিত বয়ানে। উপন্যাসের ভেতরে রয়েছে ‘সংযুক্তি’ অংশ— এই সংযুক্তি উপন্যাসের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং এক কাহিনির সাথে আরেক কাহিনির লিঙ্কআপ বা সেতু হিসেবে ব্যবহৃত। এমন কৌশল প্রয়োগে পাশা নতুন ফর্মে লেখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ প্রাকরণিক অভিনবত্ব প্রশংসার দাবি রাখে।

হারুন পাশা কাজ করে বিচিত্র বিষয় নিয়ে। তার তিনটি উপন্যাস তিন রকমের বিষয় নিয়ে লেখা। ‘তিস্তা’ খরায় আক্রান্ত পানি না-থাকা তিস্তা নদী এবং তিস্তাপারের মানুষের বিপর্যস্ত জীবনকথা। ‘চাকরিনামা’ বেকার মানুষের হতাশা, জীবন যন্ত্রণা, সম্ভাবনা ও সাফল্যের আখ্যান। আর তৃতীয় উপন্যাস ‘বদলে যাওয়া ভূমি’ করোনা মহামারিতে সংকটাপন্ন দেশ এবং দেশের বাইরের মানুষের জীবনকথা। তার তিনটি উপন্যাসেই আছে কোনো না-কোনো সংকটের কথা। অর্থাৎ তার কথাসাহিত্যে ব্যক্তি, সমাজ কিংবা দেশের সংকটময় অবস্থার চিত্র প্রকাশ পায়। এটা তার লেখার বিষয়গত বৈশিষ্ট্য।

 

দুই.

হারুন পাশার তৃতীয় উপন্যাস ‘বদলে যাওয়া ভূমি’। করোনা মহামারি নিয়ে অধিকতর পরিণত বয়ানে লেখা এ উপন্যাস।

বিশ্বমারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শেষপর্যন্ত বাংলাদেশেও আসে। রাজধানীতে আবির্ভূত এই ভাইরাস ক্রমশ বিস্তার ঘটায়। যা এক সময় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। করোনা সংক্রমণের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, চিরাচরিত বহুমুখী সামাজিক দুর্নীতি, সরকারি ত্রাণপ্রচেষ্টায় জনপ্রতিনিধিসহ ব্যবসায়ীকুলের দুর্নীতি, নিম্নবর্গীয় মানুষের দুঃখকষ্ট সবকিছুই স্বল্প সংখ্যক চরিত্রের কথকথায় চিত্রিত। চরিত্রের কথকথায় আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ঘটনাক্রম চিত্রিত হওয়া হারুন পাশার উপন্যাসের আঙ্গিক বৈশিষ্ট্য।

উপন্যাসটি ব্যতিক্রমধর্মী এই অর্থে যে, দুর্ভিক্ষ বা মন্বন্তর নিয়ে বাংলা সাহিত্যে সফল গল্প-উপন্যাস সৃষ্টি হলেও মহামারি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের দেখা মেলে না। নাৎসি জার্মানির ফ্রান্স আক্রমণের দুর্দশার প্রতীকী উপন্যাস আলবেয়ার কামুর ‘দ্য প্লেগ’ এক মহৎ সৃষ্টি। পাশার বইটির তুলনায় সেটি বেশ কিছু ভিন্ন চরিত্রের। সেদিক বিচারে হারুন পাশার করোনা মহামারিভিত্তিক উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এখানে মূল ঘটনার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বহুমাত্রিক,বিশেষত সামষ্টিক বিচারে।

এ উপন্যাসের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এর অন্তর্নিহিত শ্রেণিচেতনা। করোনা ভাইরাসের টার্গেট ফুটপাতে ঘুমানো শ্রমিক বা দেহাতি মানুষ, বস্তিবাসীর তুলনায় নধরকান্তি, মেদস্থুল দেহের অধিকারী বিত্তবান, উচ্চশ্রেণির মানুষ। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, পেশাজীবী প্রভৃতি সুবিধাবাদী শ্রেণিও করোনার টার্গেট।

সমাজে, প্রশাসনে, ব্যবসা-বাণিজ্যে যে দুর্নীতিচিত্র দীর্ঘ সময় ধরে চলছে স্বরূপ উদঘাটন এবং বিস্তার করোনা সংক্রমণের উপলক্ষে চিত্রিত। পাশাপাশি এর ইতিবাচক দিক দুর্নীতি ও অনৈতিকতা-বিরোধী প্রতিবাদী আন্দোলন, নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবর্গীয়দের বেঁচে থাকার লড়াই। এককথায় উপন্যাসে ইতি ও নেতির দ্বৈত রূপের প্রকাশ আপন বৈশিষ্ট্যে পরিস্ফুট। অর্থাৎ যথাযথ প্রতীকের ব্যবহারে।

এ উপন্যাসে কেবল দেশের নয়, এসেছে বহির্বিশ্বের আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংকট। চরিত্ররা কেবল দেশে বিদ্যমান সমস্যা-সংকট নিয়েই চিন্তিত নয়, তারা খোঁজ রাখছে বহির্বিশ্বের সমস্যা ও সংকটের। কারণ যুগটা বিশ্বায়নের, দেশগুলো নানা স্বার্থে পরস্পর-সংশ্লিষ্ট।

এ উপন্যাসের আখ্যান দুটি পর্বে বিভক্ত। একটি হলো ‘ঘর আমার আপন হলো’ এবং অন্যটি ‘সবুজ ডগায় ধূসর নাচ’। আর এ উপন্যাসে যেহেতু লেখকের উপস্থিতি নেই সেহেতু এসেছে ‘সংযুক্তি’ অংশ। দুই পর্ব বা উপন্যাসের কাহিনির লিঙ্কআপ হলো এই ‘সংযুক্তি’।

‘বদলে যাওয়া ভূমি’ উপন্যাসে মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি হিশাম এবং সাব্বির। হিশাম ব্যবসা করত এবং সাব্বির চাকরি করত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

‘ঘর আমার আপন হলো’ হিশামের চিন্তা-ভাবনার নোট। যে চিন্তা-ভাবনা করোনার সময়ে তার নিজের, সমাজের মানুষের উদ্ভট কার্যক্রম, ব্যবসায়ীদের ধূর্ততা এবং করোনায় ঘটে যাওয়া নানা সংকট থেকে আগত।

‘সবুজ ডগায় ধূসর নাচ’ অংশ হলো সাব্বিরের জীবন, সংসার বা চারপাশে ঘটে যাওয়া সংকটের নোট। যেখান থেকে জানা যায় সাব্বিরের পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট এবং বাবা, ছোটোভাই, ছোটো ভাইয়ের বউয়ের করোনায় আক্রান্ত হওয়া। জানা যায়— সাব্বিরের অর্থ-সংকট, পরিবারে করোনা রোগি, চাকরি থাকা, না-থাকা নিয়ে তার সংশয়, এ অবস্থাতেও হাসিমুখে ছেলেমেয়েকে সময় দেওয়া, বউকে সংসারের কাজে সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে সাব্বিরের বিপর্যস্ত জীবনের চিত্র।

এ উপন্যাসে করোনাক্রান্ত ভূমির সঙ্গে পাওয়া যায় করোনামুক্ত ভূমিও। উপন্যাসের শেষে চরিত্ররা আনন্দ করে করোনামুক্ত ভূমিতে। কারণ তখন তাদের হাতে এসে গেছে করোনার ভ্যাক্সিন। আবার পাওয়া যায় অনেকেই যে আন্দোলন করছে তারও চিত্র। এ আন্দোলন করছে তারাই যারা করোনাকালে চাকরি হারিয়েছে, যাদের আত্মীয়-স্বজন চিকিৎসা অবহেলায় মারা গেছে, মত প্রকাশ করতে গিয়ে আইসিটি আইনে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তির দাবিতেও হচ্ছে এ আন্দোলন।

সব কিছু মিলিয়ে উপন্যাসটি হয়ে উঠেছে স্বদেশ-বিদেশে বিরাজমান সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকটের বাস্তব উপাদান, সেইসঙ্গে সমাধানের সুস্পষ্ট আভাস-ইঙ্গিতে। চরিত্র প্রধান কাহিনি বর্ণনার নতুনত্ব তথা অভিনবত্ব পূর্ব উপন্যাসের চেয়েও এ উপন্যাসে অধিকতর কুশলতায় প্রতিফলিত। পাঠক এ উপন্যাসে করোনা সংক্রমণের বাস্তব ও নান্দনিক রূপচিত্রের প্রতিফলন দেখতে পাবেন। বিষয় নির্বাচন ও প্রকাশশৈলীর অভিনবত্বই এ উপন্যাসের বড়ো গুণ।

হারুন পাশার তিনটি উপন্যাসেই আন্দোলন দৃষ্টিগোচর। ‘তিস্তা’য় পানির জন্য আন্দোলন, ‘চাকরিনামা’য় কোটো সংস্কারের জন্য আন্দোলন এবং ‘বদলে যাওয়া ভূমি’-তে আন্দোলন দুর্নীতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যখাত, আইসিটি আইনের বিরুদ্ধে ও চাকরি ফিরে পাওয়া, এ আন্দোলন বিরাজমান সমাজ বদলের লক্ষ্যে।

‘বদলে যাওয়া ভূমি’ উপন্যাসের ভাষা আপনশৈলীতে সহজ, সরল, গতিময়, স্বভাবতই সুখপাঠ্য। উপন্যাসমাত্রেরই এটি অন্যতম একটি বড়ো গুণ যা উপন্যাসকে সৃষ্টির সার্থকতার পথে চালিত করতে পারে। দ্বিতীয়ত কাহিনিবিন্যাসের কুশলতা ও সমাজবাস্তবতার যথার্থ চিত্রণ যা উপন্যাসকে পরিকল্পিত অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। তারুণ্যেই হারুন পাশার উপন্যাস-সৃষ্টির যাত্রা সেই লক্ষ্যাভিমুখী সেকথা নিশ্চিত বলা যায়। এ যাত্রার পরিমাণ এবং অবশেষ ভবিষ্যৎ একমাত্র আগামীকালই বলার অধিকার রাখে। তবে আমি আশাবাদী। শ্রম, দৃষ্টিভঙ্গি ও আদর্শ সঠিক থাকলে অভাবিত অর্জনও সম্ভব। হারুন পাশা তরুণ কথাসাহিত্যিক বলেই শেষোক্ত কথাগুলো উপসংহারে বলা।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!