1. admin@theinventbd.com : admin :
শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
জলঢাকায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচী পালন করছে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠন জলঢাকায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে উপজেলা যুবলীগ ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ এর জন্মদিনে জলঢাকার ফাউন্ডেশনে কর্মীদের মিষ্ট মুখ সৈয়দপুরে করোনায় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টসহ দুই জনের মৃত্যু নীলফামারীর সৈয়দপুরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অভিযান পরিচালনা করে ৫শ’৭০ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। জলঢাকায় ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গ্রেফতার – ১ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসার জের, ভুড়ি বের করে দিলো প্রতিপক্ষ পাথর বোঝাই ৪০টি ওয়াগন নিয়ে বাংলাদেশে আসলো ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন ডিমলায় ভিজিডি কার্ডের চাল না দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নামে থানায় জিডি জলঢাকায় ক্যান্সার আক্রান্ত দুই শিক্ষককে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

বেতনভাতা দিতে আবারও ঋণ চান মালিকরা

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ৭৩ বার পঠিত
তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের শ্রমিকদের আগামী তিন মাসের বেতনভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধে ঋণ সহায়তা চেয়েছেন এসব খাতের মালিকরা। গতকাল রবিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে এক চিঠিতে এ দাবি করে বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পকে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে শ্রমিক-কর্মচারীদের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতনভাতা ও বোনাস প্রদানের নিমিত্তে আগের মতো একই শর্তে ঋণ প্রদান করতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব ও আর্থিক সংকট মোকাবিলায় এ সহায়তা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছর সব মিলিয়ে ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছিল সরকার। এবারও প্রায় ৮-১০ হাজার কোটি টাকার মতো লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার দ্বিতীয়  ঢেউয়ে বেকায়দায় রয়েছে কারখানা মালিকরা। গতবার দু মাসের জন্য কারখানা বন্ধ ছিল, এবার খোলা থাকলেও উদ্যোক্তারা লোকসানে রয়েছেন। অনেক মালিক ঋণ করে শ্রমিকদের বেতনভাতা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন বকেয়া বিল পরিশোধ করতে হয়। বায়াররাও করোনার কারণে ডিসকাউন্ট নিয়েছে। সব মিলিয়ে এই মালিকদের পক্ষে বেতনভাতা ও ঈদ বোনাস কোনোভাবেই পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। এজন্য ঋণ চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।  চিঠিতে বস্ত্র খাতের ৩টি সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন ও নিট খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি এ. কে. এম সেলিম ওসমান স্বাক্ষর করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা এটা আপৎকালীন সহায়তা হিসেবে চাইছি, রিফান্ডেবল তহবিল হিসেবে। বস্ত্র খাতের টিকে থাকার জন্য এটা খুবই জরুরি। তিনি বলেন, বিশ^ব্যাপী করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক বায়ার অর্ডার দিয়েও পুরোপুরি মাল নিচ্ছে না। অনেকে ১ লাখ পিস মাল তৈরি করে বসে আছেন, কিন্তু শিপমেন্ট হচ্ছে না। এজন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই।

চিঠিতে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত বছর সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে সহজ শর্তে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে পোশাক শিল্প খাতের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। গত বছরের শ্রমিক-কর্মচারীদের এপ্রিল-মে-জুন-জুলাই মাসের বেতনভাতা পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের ফলে এ শিল্পের অস্তিত্ব টিকে রয়েছে এবং সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে পোশাক শিল্পে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে জানিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এর প্রভাবে অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য অনেক ক্রেতা নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার ফলে তাদের কাছ থেকে রপ্তানিকৃত পণ্যের বিপরীতে পেমেন্ট পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ক্রেতা কর্তৃক ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত ও নির্দিষ্ট সময়ে পেমেন্ট না পাওয়ার ফলে পোশাক খাত নিদারুণ আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিশ্ব বাজারে রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশের পোশাক শিল্প অন্যান্য দেশের তুলনায় হ্রাসকৃত মূল্যে পোশাক রপ্তানি করে থাকে, যার মধ্যে মুনাফার অংশ খুবই কম থাকে, টিকে থাকার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে লস দিয়েও ক্রয়াদেশ নিতে বাধ্য হয়। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যয় পরিশোধ করা হতো  ক্রেতার কাছ থেকে পেমেন্ট পাওয়া এবং নগদ সহয়তা বাবদ প্রণোদনার অর্থপ্রাপ্তির পর। কিন্তু রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসন না হওয়ার কারণে নগদ সহায়তার আবেদনও করতে পারছে না। আবার অনেক ক্রেতা ডিসকাউন্ট হারে মূল্য পরিশোধ করছে। যার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো তারল্য সংকট নিরসন করতে পারছে না।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ধীরে ধীরে হ্রাস হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে এটাই সবার কাম্য ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী পুনরায় শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। বিশ্বের অনেক দেশেই আগের মতো লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। যার ফলে যেসব ক্রেতা পেমেন্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিল তারাও পেমেন্ট দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে।

এমতাবস্থায় আসন্ন ঈদে সচল কারখানাগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা ও বোনাস প্রদানের জন্য রপ্তানিকারকদের ওপর প্রচ- চাপ রয়েছে। উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিকদের বেতনভাতা ও বোনাস পরিশোধের জন্য অর্থের জোগান দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পকে সহায়তা করার নিমিত্তে শ্রমিক-কর্মচারীদের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতনভাতা ও বোনাস প্রদানের জন্য আগের মতো সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা একান্ত আবশ্যক। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস সমগ্র বিশ্বে অতিমারী রূপ ধারণ করেছে। এই ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলা করে শিল্প-বাণিজ্যকে টিকিয়ে রাখতে ইতিমধ্যেই বিশ্বের উন্নত-অনুন্নত সব দেশ আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একাধিকবার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণাপূর্বক বাস্তবায়ন করেছে বলেও চিঠিতে বলা হয়েছে।

এমতাবস্থায় দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি পোশাক ও বস্ত্র খাতের রপ্তানি বাণিজ্যের সক্ষমতা টিকিয়ে রাখা, আসন্ন ঈদে শ্রম-অসন্তোষ রোধ এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলায় আগের মতো একই শর্তে ঋণ হিসেবে অর্থের জোগান দেওয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে বস্ত্র খাতের ৩টি সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!