1. admin@theinventbd.com : admin :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১১:৫২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ

বিক্রি কম হলেও খুশি দোকানিরা

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩৪ বার পঠিত

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল রবিবার সারা দেশের শপিংমল ও বিপণিবিতান চালু হয়েছে। প্রথম দিনে রাজধানীর বেশিরভাগ শপিংমল ও বিপণিবিতানে কর্মীদের ধোয়ামোছার কাজে ব্যস্ত দেখা গেছে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে কেনাকাটা করতে আসেন। তাদের সবাই মাস্ক পরলেও কারও কাছেই ‘মুভমেন্ট পাস’ পাওয়া যায়নি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকান খুলতে পেরে তারা খুশি। প্রথম দিনে তেমন বেচাবিক্রি হয়নি। তবে কঠোর বিধিনিষেধ উঠে গেলে এবং গণপরিবহন চালু হলে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। বাড়বে বেচাকেনা। গতকাল সরেজমিনে রাজধানীর বিজয় সরণি, ফার্মগেট, নিউ মার্কেট, নিউ সুপার মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, চাঁদনি চক, গাউসিয়া, এলিফ্যান্ট রোড, আজিজ সুপার মার্কেট, গুলিস্তান, সদরঘাট, ইসলামপুরে কয়েকটি শপিংমল ও বিপণিবিতানে গিয়ে জীবাণুনাশক টানেল দেখা গেছে। ফটকের সামনে নিরাপত্তাকর্মীরা স্যানিটাইজার ও তাপমাত্রার পরিমাপ যন্ত্র নিয়ে বসে আছেন। কেউ এলে তার হাতে স্যানিটাইজার দিচ্ছেন, শরীরের তাপমাত্রা দেখে দিচ্ছেন।

সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ফার্মভিউ সুপার মার্কেট ও সেজান পয়েন্টের দোকানগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। বেলা ১১টার দিকে নিউ সুপার মার্কেটের প্রবেশদ্বারে নিরাপত্তারক্ষীরা স্যানিটাইজ দিতে গেলেও ক্রেতাদের মধ্যে তা নিতে অনীহা দেখা যায়।

নিউ সুপার মার্কেটের বিক্রেতা আবুল কাশেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক দিন পর দোকান খুলেছি, ক্রেতা নেই। এতে কোনো সমস্যা নেই। শুরু হয়েছে, ক্রেতাও আসবে। এখন যারাই আসছেন, সবাই মাস্ক পরছেন।’ পাঞ্জাবির দোকানের বিক্রেতা শাকিল হোসেন বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুবই খারাপ। তবে চানরাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে পারলে কর্মচারীদের কিছু দিতে পারব।’

এলিফ্যান্ট রোডের জুতার দোকানের বিক্রেতা বাশার ইসলাম বলেন, ‘দুপুর পর্যন্ত কিছুই বেচতে পারিনি। আসলে গণপরিবহন চালু না হলে বেচাবিক্রি হবে না।’

নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা ওমর ফারুক বলেন, ‘ঝুঁকি তো আছেই। তাই বলে বাসায় বসে থাকলে চলবে? বাচ্চাদের অনেক দরকারি জিনিসও কেনা হয়নি। এজন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শপিং করতে এসেছি।’

মা-বাবাকে নিয়ে বসুন্ধরা সিটিতে আসা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছি। কিছুদিন পর ফ্লাইটে বাইরে যেতে হবে। এজন্য ঝুঁকি থাকলেও শপিং করতে হবে।’

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি নিজে অনেকগুলো মার্কেট ঘুরে দেখেছি। সবাই শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানার চেষ্টা করছেন। তবে গাউছিয়ায় দুটি কাপড়ের দোকান স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এক ঘণ্টা করে বন্ধ রাখা হয়।’

ইসলামপুরের আশা মেচিন কর্নারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালীদ হোসেন ফাহিম বলেন, ‘গণপরিবহন চালু না হলে ইসলামপুরে বেচাকেনা বাড়বে না। সারা দিন দোকান খুলে সামান্য কিছু বেচাকেনা করেছি। অথচ করোনার আগে এ সময়ে ক্রেতাদের ভিড় লেগে যেত।’

গ্রেটওয়াল শপিং সেন্টারের গাজী বাবু ইউনিক কালেকশনের ম্যানেজার রাফসান জানি সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রথম দিন তো ক্রেতার চাপ কম। লকডাউন শেষ হলে ক্রেতার আনোগোনা বাড়বে।’

ইসলামপুরে পাইকারি থ্রি-পিস কিনতে আসা টঙ্গীর নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবহন না থাকায় কষ্ট করে আসতে হয়েছে। মালও বেশি নিতে পারছি না। আশা করছি দ্রুত সরকার গাড়ি চালুর ঘোষণা দেবে।’

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার জনসমাগম এড়াতে প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরও দুদিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে সে সময় সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু ছিল। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সব ধরনের অফিস ও পরিবহন বন্ধের পাশাপাশি বাজার-মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবে উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যাংকে লেনদেন করা যাচ্ছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত জনবল দিয়ে বিভিন্ন শাখা চালু রেখেছে ব্যাংকগুলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!