1. admin@theinventbd.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সৈয়দপুরে ৮ বছরের শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একমাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ।। হাতেনাতে সৎ নানা আটক কিশোরগঞ্জে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগীদের ৯ মাসের টাকা বেহাত কিশোরগঞ্জে ১টি পরিবারকে ৫ দিন ধরে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ সৈয়দপুরে চালককে ছুরিকাঘাত করে ভ্যান ছিনতাই নীলফামারীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই শিক্ষার্থী পেল পোর্টেবল ভিডিও ম্যাগনিফায়ার জলঢাকায় ববিতা রানী সরকারের প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইল চেয়ার বিতরন আমজাদ সরকার সভাপতি ও খায়রুল সম্পাদক জলঢাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কমিটি গঠন জলঢাকায় হরিজন সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করবেন ব্যারিস্টার তুরিন মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিবাদে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সৈয়দপুরে গোয়াল ঘরের তালা কেটে গাভী চুরি

সৈয়দপুরে পথচারীদের জন্য পাঠাগার

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৩ বার পঠিত

দুপুরের তখন কাঠফাটা রোদ। চারদিকে সুনসান নীরবতা। কোথাও সেরকম কর্মচঞ্চলতা নেই। রাস্তাঘাট প্রায় ফাকা। টুকটাক যানবাহন চলছে। এরকম সময় সামনে এগুতে পথের ধারেই দেখা মিললো একটি বুক সেলফের। সেলফে ভর্তি বই। পাশেই দাড়িয়ে কেউ বই পড়ছেন। আর কেউবা নিজের পছন্দমতো বই খুজছেন। দৃশ্যটি পথের পাঠাগারের। পথচারীদের জন্য ব্যতিক্রমী এই পাঠাগারটি গড়ে উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে।

সৈয়দপুর শহরের ক্যান্টনমেন্ট সিএসডি মোড় এলাকার গোলচত্বরে গেলে দেখা মিলবে পথের পাঠাগারের। কর্মব্যস্ত জীবনে একটুখানি বিশ্রামের ফাকে এই পাঠাগারটি যেনো পথচারীদের একমাত্র বিনোদনের খোড়াক। তাইতো মধ্য দুপুরেও বইপ্রেমীদের দুই-একজনকে দেখা গেলো বইয়ের নেশায় বুদ হতে। অল্প সময়ে সাড়া জাগানো উন্মুক্ত এই পাঠাগারটি সর্বক্ষণই পথচারীদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে।

পাঠাগার আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হৃদয়ে সৈয়দপুর’ এই পাঠাগারটি গড়ে তুলেছে। চলতি বছরের ২৯ ই জানুয়ারি অর্ধশতাধিক বইয়ের সমারোহে পথের পাঠাগারটি উদ্ভোদন করা হয়। প্রথম থেকেই ভিন্নধর্মী এই পাঠাগারটি যেনো পথচারীদের আগ্রহের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। সৈয়দপুরের বইপ্রেমীদের অনেকেই প্রতিদিন নিয়ম করে একবার করে হলেও পথের পাঠাগারে আসেন। নিরিবিলি কিছুটা সময় বই পড়তে মগ্ন থাকেন। এখানে আছে ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্মীয় ও মনীষীদের জীবনীর উপরে বিভিন্ন বই।

ধীরেধীরে সৈয়দপুরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া এই পাঠাগারের তত্বাবধানে রয়েছে হৃদয়ে সৈয়দপুরের সদস্যরা। তারা এখানে প্রত্যেক মাসে মাসে নতুন বইয়ের ব্যবস্থা করেন। নিয়মিত পত্রিকাও রাখেন। পাঠকদেরও কেউ কেউ নিজের সংগ্রহে থাকা বই পথের পাঠাগারে এনে দেন। এখানে আছে একটি রেজিষ্ট্রেশন খাতা। পথচারীদের যে কেউ এই পাঠাগারের সদস্য হতে পারবেন। নাম নিবন্ধন করে বাড়িতে নিয়ে গিয়েও বই পড়ার সুযোগ পাবেন। সর্বসাধারণকে বই পড়তে উদ্ভুদ্ধ করা এই পাঠাগারটিকে এখন পথচারীরা নিজের করে নিয়েছে। পরম যত্ন আর গভীর ভালোবাসায় পথের পাঠাগারকে আগলে রাখার কাজের কাজটা পথচারীরাই করে যাচ্ছে।

পথের পাঠাগারের একজন নিয়মিত পাঠক মেরিনা আক্তার মৌলি জানান, ‘নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্দ্যোগ। চলার পথে ব্যতিক্রমী এই পাঠাগারটি দেখে আমরা সবাই নতুন করে বই পড়তে উদ্ভুদ্ধ হচ্ছি। যান্ত্রিক জীবনের শতো ব্যস্ততার মাঝেও বই পড়ার জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় বের করার চেষ্টা করছি।’ হৃদয়ে সৈয়দপুরের পথের পাঠাগারের আরেক পাঠক মুন্না সরকার জানান, ‘পথচারীদের জন্য গড়ে উঠা এই পাঠাগারটিকে আগলে রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। একারণে আমি নিজের সংগ্রহে থাকা কিছু বই পথের পাঠাগারে দিয়েছি।’

পথের পাঠাগারের প্রধান উদ্দ্যোক্তা ও হৃদয়ে সৈয়দপুর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সোহেল রানা জানান, ‘প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় স্মার্টফোন এখন হাতে হাতে। বর্তমানে সবাই ব্যস্ত ইন্টারনেট দুনিয়ায়। আগের মতো বই পড়ার অভ্যাস এখন ক’জনেরই বা আছে। এজন্য পথের মাঝে উন্মুক্ত পাঠাগার গড়ে তুলে সকলকে বই পড়তে উৎসাহিত করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। বইপ্রেমী সোহেল রানা আরো জানান, ‘সময়ের সাথে আমাদের এই পথের পাঠাগারটি সৈয়দপুরে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। পাঠাগারের কিছু নিয়মিত পাঠকও তৈরি হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা সৈয়দপুরে আরো কিছু পথের পাঠাগার গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!