1. admin@theinventbd.com : admin :
শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
জলঢাকায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচী পালন করছে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠন জলঢাকায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে উপজেলা যুবলীগ ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ এর জন্মদিনে জলঢাকার ফাউন্ডেশনে কর্মীদের মিষ্ট মুখ সৈয়দপুরে করোনায় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টসহ দুই জনের মৃত্যু নীলফামারীর সৈয়দপুরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অভিযান পরিচালনা করে ৫শ’৭০ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। জলঢাকায় ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গ্রেফতার – ১ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসার জের, ভুড়ি বের করে দিলো প্রতিপক্ষ পাথর বোঝাই ৪০টি ওয়াগন নিয়ে বাংলাদেশে আসলো ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন ডিমলায় ভিজিডি কার্ডের চাল না দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নামে থানায় জিডি জলঢাকায় ক্যান্সার আক্রান্ত দুই শিক্ষককে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

মননশীল এক ব্যক্তিত্বের চলে যাওয়া

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩৫ বার পঠিত

বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতি ছিল তার অত্যন্ত প্রিয় একটি বিষয়। জীবনের বেশির ভাগ সময় ব্যয় করেছেন এর চর্চায়। এ বিষয়ে তার নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তুলনারহিত। নিবিষ্ট সাধকের মতো কত অজানা মণি-মাণিক্য তুলে এনেছেন। সমৃদ্ধ করেছেন শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে। বাংলা নববর্ষ নিয়ে তার আলাদা একটা মুগ্ধতা ছিল। এন্তার লিখেছেন বাংলা নববর্ষ ও বাংলা নববর্ষ সংক্রান্ত নানান বিষয়ে। দৈনিক, সাপ্তাহিকসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় তার লেখা ঋদ্ধ প্রবন্ধগুলো মিটিয়েছে মনের খোরাক। কাকতালীয়ভাবে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনেই চলে গেলেন শামসুজ্জামান খান।

মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে সেই ষাট দশকে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তখন থেকেই তিনি বাংলা ও বাঙালিয়ানার দিকে প্রচণ্ডভাবে ঝুঁকে পড়েন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি তার তীব্র অনুরাগ মোটেও লুকোছাপা ছিল না। প্রতিকূল সেই সময়ে এমন মনোভাব ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি তার পরোয়া করেননি। নিজের বিশ্বাসে তিনি বরাবরই ছিলেন অটল ও আত্মবিশ্বাসী।

শিক্ষাব্রতী পরিবারের কাছ থেকে জীবনের যে পাঠ তিনি পেয়েছেন, তাতে গড়ে উঠেছেন উদারনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক ও সংস্কারমুক্ত মনের মানুষ হিসেবে। জীবনভর লালন করেন এই দৃষ্টিভঙ্গি। সেই আলোকে পথ চলেছেন। শিক্ষকতা দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করলেও বাংলা একাডেমি হয়ে ওঠে তার ধ্যান-জ্ঞান-সাধনার পাদপীঠ। এই প্রতিষ্ঠানটি বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তিনিও যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। জীবনের অন্তিম সময় পর্যন্ত তিনি বাংলা একাডেমির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার জগৎ ছিল বইময়। জ্ঞানের বিকাশেই নিজেকে নিবেদন করেন।

তিনি ছিলেন নিভৃতচারী। দূর থেকেই তার খোঁজ-খবর রাখতাম। মূলত তার মননশীল ও চিন্তা উদ্রেককারী লেখা মন দিয়ে পাঠ করতাম। ১৯৯১ সালের শুরুর দিকে ‘সাপ্তাহিক মূলধারা’ পত্রিকার হয়ে তার সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে ভেতরের মানুষটিকে অনুধাবন করতে পারি। জানতে পারি খোলামেলা অনেক কথা। তিনি বিশ্বাস করতেন যুক্তি-তর্কে, অনুসন্ধিৎসায়, বিজ্ঞানে ও গণতান্ত্রিক চেতনায়। মন-মানসিকতায় তিনি ছিলেন অসম্ভব আধুনিক। তার আগ্রহ ছিল সমাজ, রাজনীতি, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ যাবতীয় বিষয়ে। সে সময় তার নিজের কথায়, ‘জ্যাক অব অল ট্রেডস বাট মাস্টার অব নান’।

তারপর তো তিন দশক সময় পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে কত দিকেই না তার ব্যাপ্তি ঘটিয়েছেন। তার মেধাবী কলমে, তার পরিশীলিত কণ্ঠের পাশাপাশি তার নিবিড় পরিচর্যায় ভাষা ও সাহিত্যের প্রসার ঘটেছে। ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ে তার সক্রিয়তা টের পাওয়া যায়। অসংখ্য গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধান করেছেন কত শত বিষয়ে। তার সুখ্যাতি ছাড়িয়েছে দেশের সীমানা।

খেলাধুলার প্রতি তার ছিল তীব্র অনুরাগ। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ে তার লেখা ‘দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ’ গ্রন্থটি তার ক্রীড়ানুরাগের অসাধারণ কীর্তি। খেলাটা যে হৃদয়ের কতটা গভীরে লালন করেন, তা তার গীতিময় ও গতিময় শব্দের বুননে বাঙ্‌ময় হয়ে উঠেছিল। ফুটবলের আদ্যোপান্ত ঝরঝরে ভাষায় এমন সাবলীলভাবে তুলে ধরেন, যা পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনায়াসে টেনে নিয়ে যায়। অনুরোধে-উপরোধে খেলা নিয়ে হঠাৎ হঠাৎ লিখে মুগ্ধ করলেও খুব বেশি মনোনিবেশ করার সুযোগ পাননি। আলাপ-আলোচনায় খেলার প্রতি তার গভীর অনুভব উপলব্ধি করা যায়।

১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রকাশ করেছিলাম ক্রীড়া বিষয়ক সংকলন গ্রন্থ ‘খেলার কথা কথার খেলা’। এই গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত সবাইকে তিনি মন্ত্রমুগ্ধ করে দেন। বাংলা একাডেমির প্রকাশনার তালিকায় ক্রীড়া বিষয়ক গ্রন্থ তেমনভাবে স্থান পায় না। এ বিষয়ে তার আগ্রহের কমতি ছিল না। তিনি মহাপরিচালক থাকাকালে ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় আমার লেখা গ্রন্থ ‘বাংলার ফুটবল জাদুকর’। গত বছর প্রকাশিত আমার লেখা ‘ক্রীড়াবিদদের স্মৃতিপটে বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থটি তাঁকে উৎসর্গ করেছিলাম। তারপরও তার সঙ্গে যে নিয়মিত যোগাযোগ হতো, তা বলা যাবে না। তবে আমার প্রতি তার স্নেহ যে অটুট আছে, সেটা বুঝতে পারতাম। সাধারণত বাংলা একাডেমির বার্ষিক সাধারণ সভায় দেখা হলে আন্তরিকভাবে খোঁজ-খবর নিতেন।

শামসুজ্জামান খান তার ব্যক্তিত্বের মাধুর্য দিয়ে আলাদা একটা অবস্থান গড়ে নেন। তার ধীর স্বভাব, তার ধীরস্থির কথা, তার অমায়িক ব্যবহার দিয়ে কাছের তো বটেই দূরের মানুষদেরও আপন করে নিতে পারতেন। তার যুক্তিসংগত কথা, তার দূঢ়তাপূর্ণ মেজাজ, তার প্রগতিশীল ভাবনা সমাজ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। অনুদার, যুক্তিহীন ও মিথ্যাকে কখনো প্রশ্রয় দিতেন না। তিনি বরাবরই চলেছেন সত্যের পথে, যুক্তির পথে, মননশীলতার পথে। তার জীবনদর্শন, তার জীবন জিজ্ঞাসা, তার জীবন উপলব্ধি আমাদেরকে দেখিয়েছে সঠিক পথ। অশীতিপর বয়সেও বিবেকবান মানুষ হিসেবে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তার বোধ, তার বুদ্ধি, তার বিবেচনা একটুও টাল খায়নি। প্রতিনিয়ত তিনি ছিলেন সরব ও সক্রিয়। তার প্রমাণ ছড়িয়ে আছে ফেসবুকে তার স্ট্যাটাসে। যে কারণে তার চলে যাওয়াটা একটা শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। সেই শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না।

লেখক: সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক, সম্পাদক- ক্রীড়াজগত।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!