1. admin@theinventbd.com : admin :
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

করোনা থেকে সুরক্ষায় হারমনির নেচারোপ্যাথি সেবা

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৪ বার পঠিত

চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়েই প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা খাত। বাংলাদেশসহ অনেক উন্নত দেশেও প্রচলিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও নানা দুর্বলতায় বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি ঝুঁকছে মানুষ। বিপুল জনসংখ্যার বাংলাদেশে মহামারি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের কাছে বিনা মূল্যে এমন প্রাকৃতিক চিকিৎসা বা নেচারোপ্যাথির সেবা পৌঁছে দিচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হারমনি ট্রাস্ট।

সম্প্রতি ‘কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনায় নেচারোপ্যাথি’ শিরোনামে একটি ফ্রি অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা কোর্স পরিচালনা শুরু করেছে হারমনি ট্রাস্ট। যারা কোভিড পজিটিভ, বা রিকভারি স্টেজে আছেন, কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন কোর্সটি বিশেষভাবে তাদের জন্যই পরিচালিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত নেচারোপ্যাথির তিনটি মেথড ইয়োগা, আকুপ্রেশার ও রিফ্লেক্সোলজি-এর কোভিড সংশ্লিষ্ট অংশগুলো শেখানো হচ্ছে এই কোর্সে। ঝুঁকিমুক্তভাবে এই পদ্ধতিগুলি নিজের ওপর প্রয়োগ করতে পারবেন কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা। এছাড়াও এই কোর্সে রয়েছে পরীক্ষিত কয়েকটি হার্বস বা ঔষধি ভেষজের ব্যবহার ও পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ।

অনলাইনের এই কোর্স সেশনগুলিতে ক্লাস নিচ্ছেন মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ডের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা, যারা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নেচাররোপ্যাথি নিয়ে কাজ করছেন।

একদিনের সোয়া ঘণ্টার সেশনটি করার পর যে কেউ নিজে নিজে নিরাপদে এই পদ্ধতিগুলি অনুশীলন করতে পারবেন। পাশাপাশি সাপোর্ট হিসেবে থাকছে অডিও ভিজুয়াল টিউটোরিয়াল এবং এক্সপার্টদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ।

এ পর্যন্ত যারা কোর্সটিতে অংশ নিয়েছেন তাদের মতে প্রশিক্ষণটি কার্যকর এবং যে পদ্ধতিগুলো শেখানো হচ্ছে সেগুলি করোনা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। করোনার তাৎক্ষণিক শ্বাসকষ্টেও মেথডগুলো খুব উপকারী। এসব প্রাকৃতিক সুরক্ষা পদ্ধতির অনুশীলন একই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর।

মহামারির দ্বিতীয় বছরে করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতা শুধু শারীরিক নয় মানসিকভাবেও আমাদের ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। এই অবস্থায় নেচারোপ্যাথির মেথডগুলো সহায়ক হিসেবে মানুষ নিজে নিজের ওপর প্রয়োগের মাধ্যমে স্বনির্ভর হলে দেশে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা আরও সহজ হবে।

এই কোর্সটি আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য মানুষ যাতে কোভিডের এ সময়ে ঘরে বসে ঝুঁকিমুক্তভাবে সহায়ক এ পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। এবং যারা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা যাতে নিয়মিত পদ্ধতিগুলো চর্চা করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারেন।

এই প্রশিক্ষণে যে বিষয়গুলি শিখিয়ে দেওয়া হয় সেসব বিনা খরচে নিজে নিজে চর্চা করা যায়। কোর্সটির ফোকাস হলো সংক্রমিত অবস্থায় শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, ঠান্ডা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও রিকভারি স্টেজে পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। নেচারোপ্যাথির এ মেথডগুলি শরীরের নার্ভাস সিস্টেমের ওপর কাজ করে। যা নিয়মিত চর্চা করলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলি অনেক সুস্থ থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং অসুস্থ হলে দ্রুত আরোগ্যলাভে সাহায্য করে।

অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয় সে জন্যই হারমনি ট্রাস্ট বিনা মূল্যে এই কোর্সটির আয়োজন করেছে। যারা ক্লাস নিচ্ছেন তারাও সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। দেশের বর্তমান সংকটময় অবস্থায় এ উদ্যোগটি হারমনি ট্রাস্টের স্বাস্থ্য আন্দোলনের একটি অংশ। মানুষ যেন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পেশাজীবী-নির্ভরতা কমিয়ে স্ব-নির্ভর হয়ে উঠতে পারে, এটাই বেসরকারি এই উন্নয়ন সংস্থাটির মূল চাওয়া।

এ প্রসঙ্গে হারমনি ট্রাস্টের সিইও অমিতাভ ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে জানান, আকস্মিক এই বৈশ্বিক মহামারিতে উন্নত-অনুন্নত নির্বিশেষে পায় সব দেশেই মূলধারার স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মক সংকটে পড়েছে। কেননা, চিকিৎসা ব্যবস্থায় হয় প্রিভেনশন নয় কিওর এই দুই প্রক্রিয়াতেই সেবা দেওয়া হয়। কিন্তু কোভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধের কোনো টিকা তো আগে থেকে ছিল না। মহামারির এক বছর পেরিয়ে টিকা আসলেও এখনো দুনিয়াজুড়েই টিকার সংকট চলছে। বাংলাদেশেও এখনো জনসংখ্যার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই টিকা গ্রহণের বাইরে রয়ে গেছে। এ তো গেল রোগ প্রতিরোধের কথা। আর করোনার যেহেতু কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা আগে থেকে ছিল না এবং এখনো মারাত্মক এই ভাইরাসটি নিয়ত পরিবর্তনশীল, তাই চিকিৎসকদেরও ক্রমাগত এর নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকরাও এখন করোনা আক্রান্তদের শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামসহ অন্যান্য যোগাসন চর্চার এবং নানা ভেষজ সেবনের মধ্য দিয়ে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। যা আমাদের অনুসৃত নেচারোপ্যাথি বা প্রাকৃতিক চিকিৎসার অন্যতম অঙ্গ। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এমনিতেই চিকিৎসক ঘাটতির দেশ। উপরন্তু আমাদের স্বাস্থ্য খাতও খুবই ভঙ্গুর। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই হারমনি ট্রাস্ট দেশের সাধারণ মানুষকে ঘরে বসে প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার মতো মহামারি মোকাবিলায় চিরায়ত প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো মানুষকে নিজের স্বাস্থ্য নিজে ব্যবস্থাপনার অর্থাৎ স্ব-ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কোর্সটিতে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহীরা হারমনি ট্রাস্টের ফেইসবুক পেইজে বিনা মূল্যে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।

‘কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনায় নেচারোপ্যাথি’ কোর্সের রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://www.facebook.com/HarmonyTrustBD

হারমনি ট্রাস্টের ওয়েবসাইট: https://harmonybd.org

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!