1. admin@theinventbd.com : admin :
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

শ্রমজীবীর মর্যাদা

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | রবিবার, ২ মে, ২০২১
  • ১৯ বার পঠিত
মানবতার ধর্ম ইসলাম কোনো কাজকে অবজ্ঞা করে না, ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখে না। শ্রমের বিনিময়ে উপার্জনকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রেষ্ঠতম উপার্জন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমজীবীর উপার্জনই শ্রেষ্ঠতর যদি সে সৎ উপার্জনশীল হয়।’ তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘কোন ধরনের উপার্জন শ্রেষ্ঠতর?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জন।’ইসলাম সব বৈধ পেশাকে উৎসাহিত করে এবং সব পেশার মানুষকে সমান সম্মান করে। কাজেই যেকোনো পেশার লোক সম্মানের পাত্র। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কারও নিজ পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে এনে বিক্রি করা কারও কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম। তাকে (প্রার্থীকে) সে কিছু দিক বা না দিক।’ (সহিহ বোখারি : ৭৩০)

উপার্জনের জন্য শ্রমে লিপ্ত থাকাকে নবী করিম (সা.) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ বলে উল্লেখ করেছেন। এক লোক নবী করিম (সা.)-এর কাছ দিয়ে গমন করলে সাহাবারা তার শক্তি, স্বাস্থ্য ও উদ্দীপনা দেখে বলতে লাগল, লোকটি যদি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে থাকত! হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘লোকটি যদি তার ছোট ছোট সন্তান অথবা তার বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য উপার্জন কিংবা নিজেকে পরনির্ভরতা থেকে মুক্ত রাখতে উপার্জনের চেষ্টায় বেরিয়ে থাকে, তাহলে সে আল্লাহর পথেই রয়েছে।’ (হাইসামি : ৪/৩২৫)

এভাবেই ইসলাম শ্রমজীবী মানুষকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করে তাদের অধিকারসমূহ নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইসলামে শ্রম ও শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা যথাযথভাবে স্বীকৃত। এক হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুকালে যে উপদেশ দিয়েছেন তা হলো ‘তোমরা নামাজ এবং অধীনদের ব্যাপারে সাবধান থেকো (ইবনে মাজা)।’ এখানে অধীন বলতে যারা কারও অধীনে শ্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্জাম দিয়ে থাকেন তাদের বোঝানো হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি উত্তম, যে তার অধীনস্থদের নিকট উত্তম।’ইসলামে মালিক-শ্রমিকের সম্পর্কের ভিত্তি ভ্রাতৃত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। শ্রমিকদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার, তাদের বেতন-ভাতা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ ইত্যাদি সম্পর্কে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীসমূহ দ্বারা বৈপ্লবিক ও মানবিক শ্রমনীতির সম্যক পরিচয় পাওয়া যায়। ইসলাম সব ধরনের অন্যায়-অবিচার থেকে বাঁচার জন্য মালিক ও শ্রমিক পরস্পরের প্রতি কিছু দায়িত্ব অর্পণ করেছে। শ্রমিকের দায়িত্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘সর্বোত্তম শ্রমিক সেই, যে শক্তিশালী ও আমানতদার।’ (সুরা কাসাস : ২৬)

নবী করিম (সা.) হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ইমান নেই।’ মালিকের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করা, অপচয় না করা, আত্মসাৎ না করা, সঠিক হিসাব পেশ করা একজন শ্রমিকের দায়িত্ব। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কাউকে কোনো ব্যাপারে দায়িত্ব প্রদান করা হলে সে তার নিজের কাজ যত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব তদ্রুপ না করলে কিয়ামতের দিন তাকে উল্টো করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কারও ওপর কোনো দায়িত্ব অর্পিত হলে সে যদি এক টুকরো সুতা বা তার চেয়েও কোনো ক্ষুদ্র জিনিস খেয়ানত করে তবে কিয়ামতের দিন খেয়ানতের বোঝা মাথায় করে সে উত্থিত হবে।’ আল্লাহ বলেন, ‘এদের বেদনাদায়ক শাস্তি প্রদান করা হবে যারা তাতফিক অর্থাৎ মাপে কম-বেশ করে। নিজের হক নেওয়ার সময় পুরোপুরি আদায় করে নেয় কিন্তু অন্যকে মেপে দিতে গেলেই কম দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১-৩)

তাতফিক অর্থ ওই শ্রেণির মালিক ও মজদুর, যারা (মালিক) নির্ধারিত পারিশ্রমিক পুরোপুরি পরিশোধ করে না ও (শ্রমিক) কাজে গাফিলতি করে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা সবাই আল্লাহর বান্দা ও পরস্পর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। তাই তিনি মালিকদের সম্পর্কে বলেন, ‘তোমাদের অধীন ব্যক্তিরা তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ যে ভাইকে যে ভাইয়ের অধীন করে দিয়েছেন, তাকে তাই খাওয়াতে হবে, যা সে নিজে খায় এবং তাকে তাই পরতে দিতে হবে যা সে নিজে পরিধান করে।’ (সহিহ বোখারি)

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তি-সামর্থ্যরে অতিরিক্ত কাজ শ্রমিকদের ওপর চাপাবে না। যদি তার সামর্থ্যরে অতিরিক্ত কোনো কাজ তাকে দাও তাহলে সে কাজে তাকে সাহায্য করো।’ (সহিহ বোখারি)

সুতরাং মালিকদের কর্তব্য হলো, শ্রমিকদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা, কথাবার্তা, ওঠাবসার ক্ষেত্রে ইসলামি ভ্রাতৃত্বসুলভ ব্যবহার ও আচার-আচরণ অবলম্বন করা, মৃত্যু, রোগ-শোক ও অন্যান্য ঘটনা-দুর্ঘটনায় নিজে উপস্থিত থেকে সহানুভূতি প্রকাশ করা। বলতে দ্বিধা নেই, বর্তমানে অধিকাংশ মালিকের প্রতি শ্রমিকরা পোষণ করে ঘৃণা ও বিদ্বেষ এবং শ্রমিকের প্রতি মালিকরা পোষণ করে সন্দেহ ও অবিশ্বাস। এর ফলে প্রায়ই নানা ধরনের অসন্তোষের ঘটনা ঘটে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিন শ্রেণির লোকদের দ্বিগুণ সওয়াব দেওয়া হবে। তাদের একজন, যে নিজের মালিকের হক আদায় করে এবং সঙ্গে আল্লাহর হকও।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে অধীনস্থ খাদেম আল্লাহ ও তার মালিকের অনুগত থেকে দায়িত্ব পালন করে তাকে মালিকের সত্তর বছর আগে বেহেশতে প্রবেশ করানো হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!