1. admin@theinventbd.com : admin :
  2. worksofine@rambler.ru : JefferyDof :
  3. kevin-caraballo@mainello5.tastyarabicacoffee.com : kevincaraballo :
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
জলঢাকায় ফেন্সিডিল সহ গ্রেফতার- ২ পলাতক-১’জন মোটরসাইকেল জব্দ সৈয়দপুরে জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে ১৭ বছর থেকে বিধবা ভাতা উত্তোলন, সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ঝিকরগাছায় আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত জলঢাকায় ১১ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের মাঝে ১০৯টি বাইসাইকেল বিতরণ জলঢাকায় যানজটে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলছে : নিরসনের দাবি পৌরবাসির বেনাপোলে গৃহহীনদের ঘর নিয়ে ভুমি অফিসের সহকারীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ। ঝিকরগাছায় সাপের কামড়ে ১ গৃহবধূর মৃত্যু বেনাপোলে র‍্যাবের অভিযানে গাজাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী আটক সৈয়দপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বিতরণ সৈয়দপুরে সাহিত্য আসরের ৪থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

যাত্রী নিয়ে রাতে তলে তলে চলছে বাস

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১
  • ৬৮ বার পঠিত

‘সর্বাত্মক লকডাউন’ কিংবা কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালীন সারা দেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকার কথা থাকলেও ঢাকা থেকে সারা দেশেই তলে তলে বাস চালাচ্ছে মালিকরা। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সরকারি নিয়ম অমান্য করে প্রধান সড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প রাস্তা দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গে দেদার চলছে বাস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, “সাধারণত পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই তারা চলছেন।” হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের সম্মতিতেই এই বাস চলছে। পাশাপাশি অনেকেই আবার বাসে ‘জরুরি ধান কাটার শ্রমিক’ স্টিকার লাগিয়ে দূরপাল্লার পরিবহন চালাচ্ছে। তবে ঝামেলাও কম পোহাতে হয় না। করোনাভাইরাসের বিস্তার কমাতে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশে লকডাউনের বিধিনিষেধ জারি হয়, ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় ‘কঠোর’ লকডাউন। তখন থেকেই সড়ক, নৌ ও রেলপথে যাত্রী পরিবহন বন্ধ। তবে, ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। গণপরিবহনসহ তিন দফা দাবি আদায়ে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গত শুক্রবার কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে গত রবিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

সম্প্রাতি দেশের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী ১২টি বাসের বিরুদ্ধে মামলা করেন বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান গতকাল সোমকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কীভাবে যাচ্ছে সে বিষয়টা আমাদের জানা নেই। বাস চলাচলের কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি। তিনি বলেন, ‘জেলা পুলিশ  এবং হাইওয়ে পুলিশ একসঙ্গে বিষয়টি তদারকি করছে। যদি এরকম ঘটনা ঘটে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়টি আমাদের নলেজে নেই।’ আপনাদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা নেবে।’ বাংলাদেশ বাস ট্রাক মালিক সামিতির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাস্তায় তারা কীভাবে চলছে তা আমাদের জানা নেই। যার যার ইচ্ছায় তারা নিজেদের মতো করে চলছে।’ এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখা যাক অফিস খুলুক তারপর একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসগুলো সারা দেশে চলছে। গত শনিবার রবিবার সাতক্ষীরা, যশোর থেকে আসা একাধিক যাত্রীবাহী গাড়ির তথ্য দেশ রূপান্তরের কাছে এসেছে। এছাড়া নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর থেকে যাত্রীবাহী গাড়ি দেদার ঢাকায় ঢুকছে এবং বের হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ‘জরুরি সংবাদপত্র’ স্টিকার লাগিয়ে কুমিল্লা, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাস চলছে। গত রবিবার বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম জিল্লুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দিনের বেলা বাস চলার তো কোনো প্রশ্নই আসে না। তবে, রাতের বেলায় ধান কাটার জরুরি শ্রমিকের গাড়ি ফেরিতে উঠতে দেওয়া হয়।’ গত রবিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে গ্রীন বাংলা, মুখার্জি, এমআর, শ্যামনগর এক্সপ্রেস, ইসলাম পরিবহন, দ্রুতি পরিবহনসহ বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী পরিবহনকে ঘাট পার হতে দেখা গেছে।

সন্ধ্যার পর সাভারের আমিন বাজার মধুমতি মডেল টাউন এলাকা থেকে এসব বাস ছেড়ে তারপর প্রধান সড়ক ব্যবহার না করে অভ্যন্তরীণ রুট ব্যবহার করে সিংগাইর মানিকগঞ্জ ঘিওর হয়ে পাটুরিয়া ঘাটে চলে যায়। ঘাটে আসার পর অনেক পরিবহন তাদের যাত্রীকে ফেরিতে করে পার করে ওপারে অন্য গাড়ি ব্যবহার করে । আবার কোনো কোনো গাড়ি সরাসরি ফেরি পারাপার হয়ে যায়। ঢাকা মেট্রো-ব ১৪৯৭৭ নম্বরের সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস। ঢাকা মেট্রো-ব ১৫৬৪০৬ নম্বরের এসডি এক্সপ্রেসের এইচ আর পরিবহন যার নম্বর প্লেট ১১-০১৫৪ এই গাড়িগুলোকে ফেরি পার হতে দেখা গেছে।

সাতক্ষীরাগামী ‘এসডি পরিবহনের’ যাত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাচাতো বোনের বিয়ে তাই জরুরি প্রয়োজনে বিয়ের মার্কেটিং নিয়ে বাড়ি যেতে হচ্ছে।’ কীভাবে টিকিট পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরার পরিবহন শ্রমিকদের মাধ্যমে ৫০০ টাকার টিকিট ১ হাজার টাকায় কিনেছেন। তবে গাবতলী থেকে না উঠে তাকে আমিনবাজার থেকে উঠতে হয়েছে।’

পথে কোনো ঝামেলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘মানিকগঞ্জে বাস থামিয়েছিল হাইওয়ে পুলিশ। তবে হেলাপার গিয়ে কথা বললে তারা গাড়ি ছেড়ে দেয়।’ গাড়িতে কেমন যাত্রী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুরো বাসভর্তি যাত্রী ছিল। ধান কাটার কোনো শ্রমিক ছিল কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘না । কাউকে দেখে এরকম মনে হয়নি।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ‘এসডি পরিবহনের’ ম্যানেজার রাজু আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের পারমিশন আছে। তাই আমরা গাড়ি চালাই।’ কী ধরনের পারমিশন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শ্রমিক পরিবহনের। তবে শ্রমিক পরিবহনের পারমিশন নিয়ে কীভাবে যাত্রী পরিবহন করেন জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এদিকে গতকাল সোমবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আগামী ৬ মে থেকে ঈদকে সামনে রেখে জনস্বার্থ বিবেচনায় সরকার শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন চালুর ব্যাপারে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে। তিনি জানান, জেলার গাড়িগুলো জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কোনোভাবেই জেলার সীমানা অতিক্রম করতে পারবে না। সিটির ক্ষেত্রেও সিটি পরিবহন সিটির বাইরে যেতে পারবে না বলেও জানান মন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো গাড়ি ঢাকা জেলার সীমারেখার বাইরে যেতে পারবে না।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরার জেলা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ সাম্প্রতিক সময়ে ১২টি বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।’ পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই বাস চলছে দাবি পরিবহন সংশ্লিষ্টদেরÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ম্যানেজ করার কোনো সুযোগ নেই। জানতে পারলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নীলফামারীতে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া গণপরিবহন প্রবেশ করছে এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিনা আকতার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শ্রমিক পরিবহনের যে গাড়িগুলো আমরা এখান থেকে ছাড়ছি তার সঙ্গে ফরওয়ার্ডিং লেটার দিয়ে দিচ্ছি। সেই তালিকা অনুসারে যাতে ব্যাক করে। এ ব্যাপারে জানতে পারলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আমিনবাজার হয়ে যে গাড়িগুলো দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় সেই বাসগুলো দিনাজপুর এবং ঠাকুরগাঁও রোডের মাঝামাঝি কাহারুল উপজেলার দশমাইল এলাকায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। এ বিষয়ে দিনাজপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাগফুরুল হাসান আব্বাসী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমরা শুনতে পেয়েছি। তবে কখন আসে সেটা জানি না। রাস্তায় পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’ কীভাবে ঢাকা থেকে দিনাজপুরে বাস আসেÑ এই প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তাহলে প্রশাসনের গাফিলতি আছে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় ধাপে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ নামে পরিচিতি পায়। এই বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস ও গণপরিবহন আগের মতোই বন্ধ আছে। তবে উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চালাতে পারবে। সম্প্রতি দোকানপাট, শপিংমল ও বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করা হলেও রেলপথে ও গণপরিবহনে যাত্রী পরিবহন এখনো বন্ধ রয়েছে।  এদিকে মহামারীর এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুধু শহরের মধ্যে সীমিত আকারে যানবাহন চালুর অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম জানিয়েছেন। গতকাল মহাখালীতে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি ঈদের সময় গণপরিবহন চালু করা ঠিক হবে না। গতকাল আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে সব মেয়রের সঙ্গে। সেখানে সবাই একমত হয়েছেন যে ইন্ট্রাসিটি চলতে পারে, কিন্তু ইন্টারসিটি না।’

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন মানিকগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নীলফামারী, দিনাজপুর ও রংপুর প্রতিনিধি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!