1. admin@theinventbd.com : admin :
  2. worksofine@rambler.ru : JefferyDof :
  3. kevin-caraballo@mainello5.tastyarabicacoffee.com : kevincaraballo :
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
জলঢাকায় ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ফাউন্ডেশনের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত জলঢাকায় ইএসডিও- ডাভ সেলফ এস্টিম প্রকল্পের অবহিতকরন সভা অনুষ্ঠিত তিস্তায় পানি বৃদ্ধি ২২ গ্রাম প্লাবিত হুমকির মুখে তিস্তার তীরবর্তী মানুষ জলঢাকায় ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন পালন জলঢাকায় শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন পালন করেছে যুবলীগ জলঢাকায় ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নারী উদ্দোক্তা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত আনন্দের ভাগিদার হতে ছুটে এসেছি জলঢাকায় পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে ড. তুরিন আফরোজ জলঢাকায় মঙ্গলদ্বীপের উদ্যোগে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত জলঢাকায় প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করতে রং তুলির কাজে ব্যস্ত এখন কারিগররা জলঢাকায় অনির্বাণ স্কুলে একাডেমিক ভুবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

গুজব রটানো পাপের কাজ

মুফতি মাহফূযুল হক
  • প্রকাশকাল | বুধবার, ৫ মে, ২০২১
  • ১০৩ বার পঠিত

পবিত্র রমজানের তেইশতম খতমে তারাবিতে আজ তেলাওয়াত করা হবে ছাব্বিশতম পারা। অর্থাৎ সুরা আহকাফ দিয়ে তেলাওয়াত শুরু করে একে একে পাঠ করা হবে- সুরা মুহাম্মদ, সুরা আল ফাতহ, সুরা আল হুজরাত, সুরা কাফ ও সুরা আয যারিয়াতের ৩০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত।

আজকের পঠিত অংশের মধ্যে সুরা আহকাফে মক্কার কাফেরদের গোমরাহি, জিদ, গর্ব ও অহংকারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এসব কারণে তারা ইমানের আলো থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গোমরাহির ফলাফল সম্পর্কে কাফেরদের সাবধান করাই এ সুরার মূল আলোচ্য বিষয়।

সুরা মুহাম্মদ নাজিলের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। মক্কাসহ আরবের সর্বত্র যখন মুসলমানদের জুলুম-নির্যাতনের লক্ষস্থল বানানো হচ্ছিল, তখন এসব অঞ্চল থেকে এসে মুসলমানরা মদিনার নিরাপদ আশ্রয়ে জড়ো হয়েছিল। কিন্তু মক্কার কোরাইশরা এখানেও তাদের শান্তিতে থাকতে দিতে প্রস্তুত ছিল না। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সুরাটি নাজিল হয়। ইমানদারদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে প্রাথমিক পথনির্দেশনা দেওয়াই এ সুরার আলোচ্য বিষয়। সুরায় মুসলমানদের আল্লাহর সাহায্য ও দিকনির্দেশনার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

সুরা আল ফাতহ কোরআনে কারিমের অন্যতম একটি উল্লেখযোগ্য সুরা। ৬ষ্ঠ হিজরির জিলকদ মাসে মক্কার কাফেরদের সঙ্গে সন্ধি চুক্তি সম্পাদনের পর নবী করিম (সা.) যখন মদিনার দিকে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন সুরাটি নাজিল হয়। মহান আল্লাহ হুদাইবিয়ার সন্ধির আকারে নবী করিম (সা.) ও মুসলমানদের যে বিজয় দান করেছিলেন সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই সুরায়। হুদায়বিয়ার সন্ধির প্রেক্ষাপট, ফলাফল ও প্রভাব ইত্যাদি সামনে রেখে সুরাটির অধ্যয়ন বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

সুরা আল হুজরাতের বিষয়বস্তু হচ্ছে- মুসলমানদের আদব-কায়দা, শিষ্টাচার ও আচরণ শিক্ষা দেওয়া। যা তাদের ইমানদারসুলভ স্বভাব চরিত্র ও ভাবমূর্তির উপযুক্ত ও মানানসই। ইরশাদ হচ্ছে, ‘মুমিনরা! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ আনে, তবে তোমারা তা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কতৃকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’ -সুরা হুজরাত: ৬

বর্ণিত আয়াতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি খবর বিশ্বাস করা এবং সে অনুসারে কোনো কর্মকাণ্ড করে বসা ঠিক নয়। যদি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো খবর পাওয়া যায় তাহলে গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে খবর পাওয়ার মাধ্যম নির্ভরযোগ্য কি না। নির্ভরযোগ্য না হলে তার ভিত্তিতে কোনো তৎপরতা চালানোর পূর্বে খবরটি সঠিক কি না তা যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। এই আয়াতের ভিত্তিতে বলা চলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা কিংবা আলোচনার ক্ষেত্রে যে কোনো সংবাদের সত্যতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাল সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি মানুষের তীব্র মনোযোগ। তাই কোনো সংবাদ, ছবি পোস্ট করার আগে এর সত্যতা যাচাই করতে হবে। অসত্য, মিথ্যা, সন্দেহ সৃষ্টিকারী, গুজব কিংবা পরস্পরে শত্রুতা সৃষ্টি হয়-  এমন কিছু পোস্ট ও প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।

অনেক দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ পুরনো কোনো ছবিকে নতুন ঘটনা কিংবা এক ঘটনার ছবিকে আরেক ঘটনার ছবি হিসেবে সূক্ষ্মভাবে সম্পাদনা করে পোস্ট করে। চটকদার শিরোনাম দেখে অনেকেই বিভিন্ন পোর্টালের লিংক শেয়ার করে। এগুলো কোনোটাই ঠিক না। ইসলামের দৃষ্টিতে এসব কাজ সম্পূর্ণ হারাম, এগুলো থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

সুরা হুজরাতে মুসলমানদের সেসব খারাপ জিনিস থেকে আত্মরক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা সমাজ জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং যার কারণে পারস্পরিক সম্পর্ক খারাপ হয়। ইরশাদ হচ্ছে, ‘মুমিনরা! কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোনো নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ কোরো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাকে মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এমন কাজ থেকে তওবা করে না- তারাই জালেম।’ -সুরা হুজরাত: ১১

বর্ণিত আয়াতের আলোকে, একে অপরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা, বদনাম ও উপহাস করা, মন্দ নামে আখ্যায়িত করা, খারাপ ধারণা পোষণ করা, অন্যের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করা, অসাক্ষাতে মানুষের বদনামের অভ্যাস মারাত্মক গোনাহের কাজ। এগুলো সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট করে। মহান আল্লাহ এগুলোকে নাম ধরে ধরে হারাম ঘোষণা করেছেন।

এ সুরায় গোত্রীয় ও বংশগত বৈষম্যের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। এটাও পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির অন্যতম কারণ। নিজ নিজ জাতি, গোত্র ও বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা, অন্যকে নিজের চেয়ে নিম্নস্তরের মনে করা, নিজের বড়ত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যকে হেয় করাও জঘন্য অভ্যাস।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!