1. admin@theinventbd.com : admin :
শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
জলঢাকায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচী পালন করছে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠন জলঢাকায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে উপজেলা যুবলীগ ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ এর জন্মদিনে জলঢাকার ফাউন্ডেশনে কর্মীদের মিষ্ট মুখ সৈয়দপুরে করোনায় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টসহ দুই জনের মৃত্যু নীলফামারীর সৈয়দপুরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অভিযান পরিচালনা করে ৫শ’৭০ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। জলঢাকায় ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গ্রেফতার – ১ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসার জের, ভুড়ি বের করে দিলো প্রতিপক্ষ পাথর বোঝাই ৪০টি ওয়াগন নিয়ে বাংলাদেশে আসলো ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন ডিমলায় ভিজিডি কার্ডের চাল না দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নামে থানায় জিডি জলঢাকায় ক্যান্সার আক্রান্ত দুই শিক্ষককে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

শেষ মুহূর্তেও পছন্দের নিয়োগ দিতে মরিয়া রাবি ভিসি

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | বুধবার, ৫ মে, ২০২১
  • ৫৯ বার পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি ও টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক আবদুস সোবহান। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে। উপাচার্য পদে আবদুস সোবহান আছেন আর মাত্র এক দিন। আগামীকাল বৃহস্পতিবারই শেষ হচ্ছে তার উপাচার্যের মেয়াদকাল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে পছন্দের বেশকিছু প্রার্থীকে অ্যাডহক ভিত্তিতে চাকরি দিতে উপাচার্য আবদুস সোবহান মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এরই অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপাচার্য বাসভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫০৬তম সভা ডাকা হয়। শেষ সময়ে এসে ডাকা এ সিন্ডিকেট সভায় কিছু ‘অবৈধ নিয়োগ’ পাস করানো হতে পারে আশঙ্কায় তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন ‘প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে আন্দোলনকারী একদল শিক্ষক। তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষমেশ গতকালের সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করা হয়।

সিন্ডিকেট সভা স্থগিতের দাবি জানিয়ে গতকাল সকাল ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকরা’ জড়ো হলে সেখানে তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। এ সময় ভিড়ের মধ্যে এক যুবক শিক্ষকদের ‘গুলি করার হুমকি’ দেন বলে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন।

‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের’ দাবি, শেষ মুহূর্তে এসে উপাচার্য আবদুস সোবহান অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগের যে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তার নেপথ্যে রয়েছে আর্থিক লেনদেন। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও উপাচার্য নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন শুধু তার ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্যই। ইউজিসির এক সদস্যও দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে উপাচার্য আবদুস সোবহানের দাবি, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, তার সঙ্গে যা হচ্ছে তা হলো শিক্ষকদের মধ্যে ‘অশুভ প্রতিযোগিতা’।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গতকাল সকালে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। সিন্ডিকেট সভায় অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে এ আশঙ্কায় আগে থেকে সভা বন্ধের দাবিতে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থানের ঘোষণা দেন ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকরা’। তারা সকাল সাড়ে ৯টায় অবস্থানের ঘোষণা দেয়। তবে তাদের আগেই উপাচার্যের বাসভবনের গেটে অবস্থান নেন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা। তাদের অধিকাংশই চাকরিপ্রত্যাশী। সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা উপাচার্যের বাসভবনে ঢুকতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতারা বাধা দেন। শিক্ষকরা বাধা উপেক্ষা করে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের নেতারা শিক্ষকদের ধাক্কা দেন। এ সময় আকাশ নামে ছাত্রলীগের বহিরাগত এক কর্মী শিক্ষকদের গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। আকাশের বাড়ি মেহেরচ-ী এলাকায় বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্রতিনিধি ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, ‘আমরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছি। আমরা চাই না কোনো সিন্ডিকেট সভা হোক আর সেখানে উপাচার্য কোনো দুর্নীতি করুক। প্রশাসন ভাড়াটিয়া নিয়ে এসেছে আমাদের আন্দোলন বন্ধ করতে।’

‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের’ আহ্বায়ক অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম টিপু অভিযোগ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিরাগতদের নিয়ে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই বহিরাগতরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এসেছে। উপাচার্য তার উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এদের নিয়ে এসেছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আমাদের গুলি করার হুমকি দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে বহিরাগতরা হস্তক্ষেপ কেন করবে?’

শিক্ষক-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম ভিসির বাসভবনের সামনে এসে সিন্ডিকেট সভা স্থগিতের ঘোষণা দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে আজকের (গতকাল) সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন এখানে নিয়োগ দিতে সভা আহ্বান করা হয়েছে। এটি একটি ভুল তথ্য। কোনো নিয়োগসংক্রান্ত সভা নয় এটি।’

শিক্ষকদের গুলি করার হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘এটি বড় ধরনের অপরাধ।’ এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এর আগে গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে অর্থ কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। ওইদিন সকালে ছাত্রলীগের নেতারা উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়ে দুপুর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। উপাচার্য শেষ সময়ে অর্থ কমিটির সভা করে নানা বাজেট পাস করাতে পারে এ আশঙ্কায় তারা অবস্থান নেন। পরে অর্থ কমিটির সভা করতে পারেনি প্রশাসন। দুপুরে ছাত্রলীগের নেতারা প্রশাসন ভবন ও সিনেট ভবনে তালা লাগিয়ে দেন। তারা বলেন, উপাচার্য বাসায় থেকে মেয়াদ শেষ করবেন। তিনি আর দাপ্তরিক কাজ করতে পারবেন না। রবিবার দুপুরে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের অপসারণ দাবি করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অ্যাডহক ভিত্তিতে চাকরি দিতে রাবি উপাচার্য আবদুস সোবহানের প্রচেষ্টার বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউজিসির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইউজিসি এর আগে তদন্ত করে তার (উপাচার্য আবদুস সোবহান) বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর ওপর দেশে লকডাউন চলছে। এমন সময়ে খুব জরুরি ছাড়া কোনো নিয়োগ দেওয়া যাবে না। সেখানে (রাবি) এমন নয় যে এখনই শিক্ষক বা কর্মকর্তা লাগবে। তাই নিয়োগ দেওয়ারও প্রশ্ন উঠে না। আর কেউ যদি এ গোপন নিয়োগ নিয়েও থাকে তবে সে-ই পরবর্তী সময়ে বিপদে পড়বে।’

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিয়োগ প্রচেষ্টার অভিযোগ এবং দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলেও উপাচার্য ড. এম আবদুস সোবহানের দাবি, গত চার বছরে তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, অ্যাকাডেমিক, গবেষণা সবখানেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছি। আমি আমার চার বছরের কাজে তৃপ্ত। আমাকে দুবার উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন আমি তা যথাযথভাবে পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমি সততা, দক্ষতা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ হিসেবে আমার যা করণীয় সেটা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।’

তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে উপাচার্য আরও বলেন, ‘একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে যে আচরণ করছে সেটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত, অনভিপ্রেত। তাদের এমন কর্মকা-ের কোনো যুক্তি খুঁজে পেলাম না। এখন আমাদেরই সরকার আছে। তারাও নিজেদের প্রগতিশীল বলে দাবি করে। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে কিন্তু এটা অশুভ প্রতিযোগিতা। আমি দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় বড় আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়ম সংঘটিত হয়। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে হেকেপ প্রকল্পের সাড়ে ৩ কোটি টাকা এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণের টাকা তছরুপসহ কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এরপর থেকেই এসব অপকর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে বিভিন্ন দপ্তরের দফায় দফায় আমার বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোগসমূহ উত্থাপন করেছে। তারা আমার কাছে নানাভাবে অসহযোগিতা ও বিরোধিতা করেছে।’

রাবি উপাচার্য বলেন, ‘আমি আগামী দিনগুলো নিয়ে চিন্তিত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের এমন আচরণ অনভিপ্রেত। তাদের কাছ থেকে নতুন প্রজন্ম ভালো কিছু শিখছে না।’

গত বছর জানুয়ারিতে ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ’ উপাচার্যের বিরুদ্ধে ২৫টি অভিযোগ এনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ জমা দেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইউজিসি তদন্ত কমিটি করে এসব অভিযোগ তদন্ত করে। তদন্ত কমিটি উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, নিয়োগ যোগ্যতা শিথিল করে মেয়ে জামাইকে নিয়োগ প্রদান, নিজ ক্ষমতায় বিশ্ব বিদ্যালয়ের বাড়ি দখল রাখাসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ স্থগিত রাখাসহ ১২টি নির্দেশনা দেয়। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!