1. admin@theinventbd.com : admin :
  2. worksofine@rambler.ru : JefferyDof :
  3. kevin-caraballo@mainello5.tastyarabicacoffee.com : kevincaraballo :
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সৈয়দপুরে জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে ১৭ বছর থেকে বিধবা ভাতা উত্তোলন, সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ঝিকরগাছায় আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত জলঢাকায় ১১ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের মাঝে ১০৯টি বাইসাইকেল বিতরণ জলঢাকায় যানজটে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলছে : নিরসনের দাবি পৌরবাসির বেনাপোলে গৃহহীনদের ঘর নিয়ে ভুমি অফিসের সহকারীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ। ঝিকরগাছায় সাপের কামড়ে ১ গৃহবধূর মৃত্যু বেনাপোলে র‍্যাবের অভিযানে গাজাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী আটক সৈয়দপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বিতরণ সৈয়দপুরে সাহিত্য আসরের ৪থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন সৈয়দপুরে উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় বক্তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত সৈনিকেরা ষড়যন্ত্রকে ভয় পায়না তারা লড়াই করেই বাঁচে, বিজয়ী হয়

নিম্ন আয়ের ৬২% মানুষ কাজ হারিয়েছে

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১
  • ৮৮ বার পঠিত

করোনা মহামারীর সংক্রমণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়ায় এক বছরে ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। অনেকে পুনরায় কাজ শুরু করতে সক্ষম হলেও কমেছে আয়। ফলে বাধ্য হয়ে তারা ব্যয় কমিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাপনে। জীবিকার প্রয়োজনে তারা পেশা পাল্টে সেবা থেকে কৃষি খাতের কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। কৃষিতে শ্রমিকের সংখ্যাধিক্যের কারণেও আয় কমেছে।

গতকাল বুধবার ‘কভিডকালে আয় ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি : কীভাবে মানুষগুলো টিকে আছে’ শিরোনামের খানা জরিপে উঠে এসেছে সব তথ্য-উপাত্ত। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) ও অক্সফাম বাংলাদেশ যৌথভাবে জরিপ কাজটি পরিচালনা করে।

বাংলাদেশের ১৬টি জেলা এবং শহর ও গ্রাম মিলিয়ে বাছাই করা ২ হাজার ৬০০ পরিবারের তথ্য নিয়ে জরিপকাজ পরিচালিত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ওই জরিপকাজ শেষ হয়। যার কারণে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার কোনো চিত্র উঠে আসেনি এই জরিপে।

অনলাইন এই সংলাপে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সংলাপটি পরিচালনা করেছেন। সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিক ইসলাম খান জরিপের ফলাফলের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

গবেষণার তথ্য উপস্থাপনাকালে সিপিডির গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান জানান, মহামারীর শুরুর প্রথম দিকে এপ্রিল-মে মাসে যারা চাকরি হারিয়েছিলেন, তাদের বেশির ভাগই এক মাস পর চাকরি পেয়েছেন।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়, ৬২ শতাংশ মানুষ করোনা শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। যার বড় অংশ ২০২০ সালের এপ্রিল ও মে মাসে কর্মহীন হয়েছে। পরে অনেকেই কাজে ফিরলেও আগের চাকরি ফিরে পাননি। কর্মহীনদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ এক মাসের বেশি বেকার ছিলেন। তবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় পরে কর্মসংস্থানের হার বেড়েছে। এর মধ্যে কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান প্রশ্ন তোলেন, সরকার কি এ ধরনের জরিপের ফলাফল শুনছে? নাকি নিজেদের মতো করেই বা নিজেরা যা ভাবছে, সেভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে? কর্মসংস্থান ও আয় বাড়াতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী বলেন, মহামারীর সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্নআয়ের মানুষ। কৃষি ও উৎপাদন খাতে শ্রমিকরা চাকরি ও কর্মঘণ্টা উভয় দিক দিয়েই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিতে পড়েছেন। তবে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা না গেলেও এটা নিশ্চিত যে প্রথম ঢেউয়ের ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা গেছে। তিনি বলেন, অন্যদের কথা বলতে পারব না, তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের বিপুল চাহিদা দেখেছি। দুই বছর ধরে আমরা বিপুল সম্প্রসারণে গিয়েছি। কর্মসংস্থানও বাড়ছে। এখন অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ হলে কর্মসংস্থান বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জরিপে দেখা গেছে, কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে। এ খাতে ১৮ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সেবা খাতে ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ কর্মসংস্থান কমেছে। আবার শিল্প খাতেও কর্মসংস্থানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তার মানে হচ্ছে কর্মসংস্থান সেবা খাত থেকে কমে কৃষি খাতে স্থানান্তরিত হয়েছে। যারা কাজে যোগ দিয়েছেন তার ৯০ শতাংশই ছিল স্বপ্রণোদিত। অপ্রাতিষ্ঠানিক সেক্টরে কাজ করছেন। কেউ কেউ স্ব-উদ্যোগে কৃষিকাজ বেছে নিয়েছেন কিংবা কৃষিকাজে পরিবারকে সহায়তা করছেন। আবার কিছু মানুষ দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন। তাদের কাজের কর্মঘণ্টা কমেছে। কারণ হিসেবে দেখা গেছে, অধিক পরিমাণ কৃষিশ্রমিক হওয়ার কারণে তারা চাইলেও বেশি সময় কাজ করতে পারছেন না। অর্থাৎ কৃষি খাতে শ্রমিকের সংখ্যার আধিক্য দেখা গেছে জরিপে।

সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘কভিডের কারণে মানুষ খাওয়া কমিয়েছে। নব্য গরিব হয়েছেন অনেকে। বৈষম্য বাড়ছে। কভিডের অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর। অথচ আমরা প্রবৃদ্ধি-আসক্তিতে ভুগছি। তথ্য-উপাত্তই যেখানে নেই, সেখানে প্রবৃদ্ধি খুঁজতে যাওয়া মানে অন্ধকারে কালো বিড়াল খোঁজা।’

কর্মসংস্থান হলেও আয় কমেছে উল্লেখ করে সিপিডি বলছে, সবচেয়ে আয় কমেছে কৃষি খাতে। এ খাতে ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ আয় কমেছে। এরপরই আছে উৎপাদন খাত, যেখানে আয় কমেছে ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশের। পরিবহন ও নির্মাণসহ সব খাত মিলিয়ে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। কারণ তাদের মজুরি ও কর্মঘণ্টা দুটোই কমেছে। যে কারণে আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ৬০ বছরের বশি বয়স্ক ব্যক্তিদের ওপর। তাদের আয় কমেছে ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ ছাড়া ১৫ থেকে ২৯ বছরের ব্যক্তিদের আয় কমেছে ১০ দশমিক ২০, ৩০ থেকে ৬৪ বছরের মানুষের আয় কমেছে ১২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

করোনার প্রভাবে ৭৮ শতাংশ মানুষ তাদের ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন, ৫২ শতাংশ খরচ কমাতে গিয়ে খাদ্যাভ্যাস কিছুটা পরিবর্তন করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের ঋণের বোঝা বেড়েছে। ঋণ আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

সিপিডির জরিপ বলছে, কর্মসংস্থানে রয়েছেন এমন ৪০ শতাংশ মানুষ করোনা সংক্রমণের আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছেন। আর ৮৬ শতাংশ বলছেন, তারা যা আয় করছেন তাতে সন্তুষ্টির জায়গায় নেই। জরিপের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ছাত্ররা এখন কাজে যোগ দিচ্ছে। যেহেতু সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, সেই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে তারা।

করোনায় আয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের। আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা আয়ের মানুষের আয় কমেছে ২২ থেকে ২৮ শতাংশ। এর ফলে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আয়বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে (দারিদ্র্য, সমতা, পুষ্টিহীনতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের সামর্থ্য) নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সিপিডি মনে করে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) শ্রম খাতবিষয়ক সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অতিমাত্রায় প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি। সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম হয়েছি কি না। অথচ প্রবৃদ্ধির ফল মুষ্টিমেয় লোক ভোগ করছে।’

রিজওয়ানুল ইসলামের প্রশ্ন, ‘প্রবৃদ্ধি অবশ্যই চাই। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি কি অন্তর্ভুক্তিমূলক? এ দিয়ে বেকারত্বের হার কতটা কমাতে পেরেছি? দারিদ্র্যের হার কতটা নামিয়ে আনতে পেরেছি? বৈষম্য কমাতে কী করেছি?’

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!