1. admin@theinventbd.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সৈয়দপুরে ৮ বছরের শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একমাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ।। হাতেনাতে সৎ নানা আটক কিশোরগঞ্জে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগীদের ৯ মাসের টাকা বেহাত কিশোরগঞ্জে ১টি পরিবারকে ৫ দিন ধরে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ সৈয়দপুরে চালককে ছুরিকাঘাত করে ভ্যান ছিনতাই নীলফামারীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই শিক্ষার্থী পেল পোর্টেবল ভিডিও ম্যাগনিফায়ার জলঢাকায় ববিতা রানী সরকারের প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইল চেয়ার বিতরন আমজাদ সরকার সভাপতি ও খায়রুল সম্পাদক জলঢাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কমিটি গঠন জলঢাকায় হরিজন সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করবেন ব্যারিস্টার তুরিন মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিবাদে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সৈয়দপুরে গোয়াল ঘরের তালা কেটে গাভী চুরি

পশ্চিমবঙ্গে যে কারণে জনপ্রিয় মমতা বন্দোপাধ্যায়

নিবেদিতা বিশ্বাস
  • প্রকাশকাল | বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১
  • ৫৮ বার পঠিত

মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এসে আমার হৃদয়ের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও অনুভূতি এমন এক মানুষ সম্পর্কে প্রকাশ করছি, যার কথা না বলতে পারলে আমার রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জীবনের একটা বিশেষ দিক অপূর্ণ থেকে যাবে। সদ্য পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে এবং বিপুল ও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস আবার পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসতে চলেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো যে মানুষটির অক্লান্ত পরিশ্রমে এই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে তিনি আর কেউ নন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনীতি মানে আমরা জানি রাজার নীতি ,কিন্তু রাজনৈতিক পরিবেশে বা রাজনৈতিক সংকটকালে তিনি রাজশক্তিকে সঠিকভাবে কূটনৈতিক পথে পরিচালিত করলেও ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন-যাপন করেন। রাজকীয় বৈভব ও বিলাস-ব্যাসনের মধ্যে তিনি ছিলেন না। তাই স্বাভাবিকভাবে মনে হতে পারে, পশ্চিমবঙ্গে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি এত জনপ্রিয় কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তার উৎস কোথায়? কেন একজন মুখ্যমন্ত্রীকে মানুষ শুধুই ‘দিদি’ বলে ডাকে, যেন মনে হয় একান্তই আমাদের পাশের বাড়ির মেয়ে?

এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাকে রূপালি পর্দার মতো একটু ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে যেতে হবে।

সময়টা ২০১০ এর মাঝামাঝি। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে তখন বাম শাসনের শেষ পর্যায় চলছে। এ রকমই এক জুন কী জুলাইয়ের দুপুরে আমি বসিরহাট থেকে হারোয়া, শালিগ্রাম হয়ে রাজধানী কলকাতায় যাচ্ছিলাম। হঠাৎ হারোয়া পর্যন্ত আসার পর আমার গাড়ি আর সামনে এগোতে পারছে না। আমার গাড়ির চালক অমিত দা বলে উঠল, দিদি দেখুন রাস্তা দিয়ে প্রচণ্ড লোক দৌড়াচ্ছে, কেন বলুন তো, এত ভিড় কীসের? এই কথা শেষ হতে না হতেই দেখি হেলিকপ্টারের পাখার শব্দ। অমিত দা বলছে, দিদি ওই দেখুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি অবাক বিস্ময়ে দেখছি আমার থেকে ১২-১৩ হাত দূরে কপ্টারের আওয়াজ হচ্ছে আর আমাদের নেত্রী সাদা শাড়ি পরে ওই কপ্টারের মধ্যে বসে। শুনলাম একটু পরই হারোয়ায় তৃণমূলের মিটিং হবে এ মাঠেই।

এরপর অমিত দার ডাকে আমার ঘোর কাটে। আমি এক বুক অনির্বচনীয় আনন্দ নিয়ে গাড়িতে উঠে বসি। আর সারা রাস্তা ভাবতে থাকি এই বাম শাসনেও একজন বিরোধী দলীয় নেত্রীর এত জনপ্রিয়তা। এটা কী করে সম্ভব? সেদিন আমি ওই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিতে পারিনি। কিন্তু আজ ১১ বছর পর এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে জলের মতো পরিষ্কার।

সবচেয়ে বড় কথা হলো মমতা বন্দোপাধ্যায় ছোট থেকেই অত্যন্ত দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে তার পড়াশোনা। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সংসার চালিয়েছেন। একজন মানুষ যখন টালির ঘরে থেকেও এত প্রতিভা নিয়ে জন্মেছেন, তবু যখন তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন ও পরবর্তীতে যখন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তখনো তার সেই সহজ-সরল জীবনকেই তিনি বেছে নিয়েছেন। এখানেই আমার মনে হয় তার বিপুল জনপ্রিয়তার চাবিকাঠি।

তা ছাড়া আমি অনুভব করেছি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি যখন প্রথম ২০১১ সালে নির্বাচিত হন, তখন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা তিনি পরিদর্শন করেন। ৩৪ বছরের বাম অপশাসনের দিক গুলি খুঁজে বের করে সেগুলোর সংশোধনেরও চেষ্টা করেন। এটা ও তার অসম্ভব জনপ্রিয়তার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

এ ছাড়া প্রথমেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এসে মা-বোনদের শিক্ষা ও প্রথাগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে কারিগরি শিক্ষা ও বেশ কিছু বা স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তোলেন। যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মেয়েরা কিছুটা হলেও নিজের পায়ে ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করে। এটাও তার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করা যায়।

তিনিই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী যিনি বিভিন্ন জীবনদায়ী ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করেন। যে প্রকল্পগুলোর দ্বারা লাখ লাখ মানুষ এখন পর্যন্ত এর সুফল ভোগ করছে। যেমন- কৃষকের জন্য ‘অন্নদাতা প্রকল্প’, মেয়েদের জন্য ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’। তার সেরা প্রকল্প হলো ‘স্বাস্থ্য সাথী’ যার আওতায় সারা পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষকে নিয়ে আসা হয় ও এই ‘স্বাস্থ্য সাথী’ বিমার মধ্যে দিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

আমি নিজে একজন শিক্ষিকা হিসেবে দেখেছি, স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত কীভাবে একজন স্টুডেন্ট এই ‘কন্যাশ্রী’র মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে। এগুলো আমার মনে হয় একজন মানুষের, একজন জনপ্রতিনিধির, একজন জননেত্রীর সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে মুখ্যমন্ত্রী থেকে ‘দিদি’ হয়ে ওঠার পক্ষে যথেষ্ট ।

শিশুদের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে তাদের স্কুলে ‘মিড ডে মিল’, অর্থাৎ দুপুরে কোনো শিশু স্কুলে এলে সে রোজ খেতে পাবে, এটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে বড় প্রাপ্তি। এর মাধ্যমে অনেক বেকার নারীর কর্মসংস্থান ও হচ্ছে। এটাও দিদির জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

সবশেষে আর একটি কথা না বললেই নয়, যখন ২০২০ সালের ২২ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার সারা ভারতে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করল। সেদিনও দিদি এমনিভাবে পশ্চিমবঙ্গের সব মানুষের সঙ্গে ছিলেন। তিনি ২০২০ এর মার্চ থেকে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্রিতে সব স্তরের মানুষকে রেশন দিয়েছেন।

কিন্তু এখানেই আমার মমতাময়ী মমতার গল্প শেষ নয়। এরপর পশ্চিমবঙ্গের আকাশে আরেকটি দুর্যোগ নেমে এল। হঠাৎ ২০২০ সালের ২৪ মে ‘আমফান’ নামক একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ল গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে। শুরু করল তাণ্ডবলীলা। এ প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় বিপর্যয় বলে ঘোষণা করলেও তেমন কিছু অর্থ সাহায্য করেনি, যাতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ খানিকটা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। সারা রাত রাজধানী কলকাতার নবান্নের কন্ট্রোল রুমে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিদ্রাহীন চোখে সব জেলার সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রেখেছেন।

এরপর সবশেষে বলি। পশ্চিমবঙ্গে ঈদ, দুর্গাপুজো, শবে বরাত  সবই সুষ্ঠুভাবে মানুষ পালন করেছে। ইংরেজি নববর্ষও পালিত হয়েছে। আর এটাও তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

নিবেদিতা বিশ্বাস: শিক্ষিকা, সমাজকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মী।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!