1. admin@theinventbd.com : admin :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
করোনায় একদিনে আরো ২৫৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৯২৫ করোনা টেস্টে গ্রামীণ জনগণের ভীতি নিরসনে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুরে বিধিনিষেধ না মানায় ১০ জনের ২৩ হাজার টাকা জরিমানা ও চোলাই মদসহ আটক যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড সৈয়দপুর ব্যস্ততম বাজারের সড়কে ময়লার ভাগার॥ দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী ও পথচারী সৈয়দপুরে ধসে পড়ল সরকারী নির্মাণাধীন ভবন জলঢাকায় ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষক মাধবকে শিক্ষক সংঘের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান জলঢাকায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের বৃক্ষরোপণ করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ২৪৭ মৃত্যু, ১৫১৯২ শনাক্ত সৈয়দপুরে ভুয়া কেসস্লিপসহ মাইক্রোবাস আটক করোনা: ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু আরও ২২৮, শনাক্ত ১১২৯১

করোনাকালে কিন্ডারগার্টেন /পেট চলে না ৩০ হাজার শিক্ষকের

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১
  • ৬১ বার পঠিত

গাজীপুর শহরের একটি নামকরা কিন্ডারগার্টেনে সস্ত্রীক শিক্ষকতা করতেন মো. জিল্লুর রহমান। করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গাজীপুরের সব কিন্ডারগার্টেনও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েন এই দম্পতি। প্রথম ৫-৬ মাস একমাত্র সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে ধারদেনা করে দিন পার করেছেন তারা। পরে কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না। অন্য কোনো পেশাতেও ঢুকতে পারছিলেন না তারা দুজন। বাধ্য হয়ে জিল্লুর রহমান শহরের একটি শপিং মলে সেলসম্যানের কাজ নেন। স্ত্রী কোনো কাজ না পেয়ে বাসায় থাকেন। এক বছর ধরে শখের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে, বাপের বাড়ি থেকে টাকা পয়সা এনে ও ধারদেনা করে কোনোমতে দিনাতিপাত করছেন জিল্লুর দম্পতি।

জিল্লুর রহমানের মতো একইভাবে হঠাৎই বেকার হয়ে পড়েছেন গাজীপুর জেলা ও মহানগরীর প্রায় দুই হাজার কিন্ডারগার্টেনের ৩৫ হাজারের বেশি শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারী। স্কুল বন্ধ থাকায় প্রায় এক বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না তারা। এ ছাড়া এসব স্কুলের অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রাইভেট টিউশনিও করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে। স্কুলের স্বল্প বেতন ও প্রাইভেট টিউশনির টাকা দিয়ে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা। করোনার কারণে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থাভাবে অনেকটাই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। ধারদেনা করে এতদিন চললেও এখন অনেকের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। লোকলজ্জায় কাউকে বলতেও পারছেন না। আবার করোনাকালে সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার কারণে অনেকে ত্রাণের জন্য লাইনেও দাঁড়াতে পারছেন না।

কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন গাজীপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন মাস্টার জানান, গাজীপুর জেলায় কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। শুধু গাজীপুর মহানগরীতে আছে ১ হাজার ২৩০টি কিন্ডারগার্টেন। যেখানে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত রয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক। আছেন প্রায় পাঁচ হাজার কর্মচারী। প্রায় ১৪ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্ডারগার্টেনের আয়ের উৎস শিক্ষার্থীদের বেতন ও পরীক্ষা ফি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীদের ফি আদায়। এতে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতনভাতা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, করোনা মহামারীতে গত বছর এপ্রিল মাসে গাজীপুর সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম মহানগরীর তিন হাজার শিক্ষক ও এক হাজার কর্মচারীকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছিলেন। পরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ১১০০ শিক্ষককে সাত দিনের খাদ্য সহায়তা দেয়। গত এক বছরে এ ছাড়া আর কোনো সহায়তা পাননি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক কিন্ডারগার্টেন কর্র্তৃপক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠানের ভবন ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে পারবেন কিনা সেই শঙ্কায় রয়েছে। অবশ্য অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে লোকসানের কারণে বন্ধও হয়ে গেছে।

গাজীপুর শাহীন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সোহেল রানা চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক শিক্ষক ত্রাণ সহায়তাও পাচ্ছেন না। বিশেষ করে সামাজিক মর্যাদার কারণে অনেকেই ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়াতে পারছেন না। অনেকে গ্রামে চলে গেছেন। কেউ পেশা পরিবর্তন করেছেন। আবার কেউ রাতের আঁধারে রিকশাও চালাচ্ছেন।’

ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুলের পরিচালক মো. রমজান হোসেন বলেন, ‘কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের বেতন ও টিউশন ফি দিয়েই চলে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বেতনেই শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের ভাড়া প্রদানসহ সব ব্যয় নির্বাহ করা হয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে টিউশন ফি বন্ধ থাকায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাসিক সম্মানীও বন্ধ।’

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!