1. admin@theinventbd.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সৈয়দপুরে ৮ বছরের শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একমাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ।। হাতেনাতে সৎ নানা আটক কিশোরগঞ্জে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগীদের ৯ মাসের টাকা বেহাত কিশোরগঞ্জে ১টি পরিবারকে ৫ দিন ধরে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ সৈয়দপুরে চালককে ছুরিকাঘাত করে ভ্যান ছিনতাই নীলফামারীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই শিক্ষার্থী পেল পোর্টেবল ভিডিও ম্যাগনিফায়ার জলঢাকায় ববিতা রানী সরকারের প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইল চেয়ার বিতরন আমজাদ সরকার সভাপতি ও খায়রুল সম্পাদক জলঢাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কমিটি গঠন জলঢাকায় হরিজন সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করবেন ব্যারিস্টার তুরিন মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিবাদে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সৈয়দপুরে গোয়াল ঘরের তালা কেটে গাভী চুরি

ইবাদত-বন্দেগিতে অলসতা নয়

শায়খ ড. হুসাইন আলে শায়খ |
  • প্রকাশকাল | সোমবার, ১০ মে, ২০২১
  • ৩৬ বার পঠিত

নিশ্চয়ই সব ইবাদতের মহৎ লক্ষ্য ও ব্যাপক তাৎপর্য রয়েছে। ফলে যেসব ইবাদত শরিয়তসম্মত করা হয়েছে, তাতে বান্দার ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ নিহিত। ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি (শরয়ি বিধিবিধানের) শরিয়ত-প্রণেতার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছে, সে-ই তো প্রকৃত ফকিহ (ইসলামি আইন ও শরিয়তের বিধিবিধানে বিশেষজ্ঞ) হতে পেরেছে।’

রমজান মাসের রোজা ও অন্য যেসব ইবাদতের বিধান দেওয়া হয়েছে তাতে রয়েছে মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ। ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) বলেছেন, ‘অনেক কল্যাণ ও উপকারিতার জন্য শরিয়তসম্মত করা হয়েছে, যা সাধারণ সুস্থ বিবেক-জ্ঞান ও প্রকৃতিগত স্বভাব থেকেই চেনা যায়।’

তাই তো ইমানকে নবায়ন করতে, উচ্চাকাক্সক্ষা ও সৎ সাহস তৈরি করতে, হৃদয়কে পঙ্কিলতামুক্ত করতে, অন্তরাত্মাকে জাগ্রত করতে এবং বান্দার অন্তরে ভদ্রতা, সম্মানবোধ ও স্বচ্ছতা সঞ্চালন করতে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ইবাদতসমূহ ফিরে ফিরে আসতে থাকে। রমজানের রোজা ও নামাজে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হচ্ছে, বান্দার হৃদয়ে আল্লাহর তাকওয়া বাস্তবায়ন করা। এটাই প্রত্যেক ইবাদত ও সৎ আমলের উদ্দেশ্য।

ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) বলেছেন, ‘তাকওয়া অর্জনের জন্য সবচেয়ে বড় সহায়ক হচ্ছেÑ রোজা। রোজা মুত্তাকিদের লাগাম এবং সৎ ও নৈকট্যশীল বান্দাদের অনুশীলনের মাধ্যম।’

এ মাসে এমন কিছু ইবাদত করুন, যাতে অন্তর ও দেহের পরিশুদ্ধতা রয়েছে। যার কারণে মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন এবং ইহকালীন ও পরকালীন সাফল্য মিলবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং কু-প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে, নিশ্চয়ই জান্নাতই হবে তার আবাস।’ (সুরা আন নাজিয়াত : ৪০-৪১)

পবিত্র এ মাসে আল্লাহকে সর্বোচ্চ ভালোবাসার চেষ্টা করতে হবে। তার প্রতি পূর্ণ বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ এবং তার আদেশ পালন ও যা নিষেধ করেছেন তা পরিহার করে চলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। ইমাম শাতেবি (রহ.) বলেন, ‘শরয়ি বিধান প্রণয়নের লক্ষ্য হচ্ছে, ব্যক্তিকে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বের করে আনা। যেন সে স্বেচ্ছায় আল্লাহর বন্দেগি করে, কেননা সে তা নিরুপায়ভাবে আল্লাহর বান্দা।’

আমাদের অবশ্যই ওই লোকদের অবস্থা থেকে কঠোর সতর্ক ও দূরে থাকতে হবে, যারা রমজান শেষ হলে সেই আগের মতো ফরজ আদায়ে অলসতা শুরু করে এবং বিভিন্ন অন্যায় ও অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ে। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমার মৃত্যু আসা পর্যন্ত তুমি তোমার রবের ইবাদত করো।’ (সুরা আল হিজর : ৯৯)

ইমাম আহমাদ ও ফুজাইল বিন ইয়াজ (রহ.) বলেন, ‘তারা কতই না নিকৃষ্ট মানুষ, যারা শুধু রমজানে আল্লাহকে চিনে।’ রমজান মাসে রোজার আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে, মুসলিম সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি পারস্পরিক ভালোবাসা, হৃদ্যতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের সঙ্গে জীবনযাপন করুক। কেননা রমজান একজন মুসলিমকে হিংসা-বিদ্বেষ, বড়াই ও ঝগড়া-বিবাদ পরিহার করে পরিচ্ছন্ন হৃদয়ের অধিকারী হতে উদ্বুদ্ধ করে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন রোজা পালনের দিন অশ্লীল কথাবার্তা ও ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালাগাল করে, তখন সে যেন বলে আমি রোজাদার।’ (সহিহ বোখারি ও মুসলিম।

হজরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনারা কীভাবে রমজানকে স্বাগত জানাতেন? তখন তিনি বললেন, ‘আমাদের মধ্যে কেউ তার নিজের অন্তরে কারও ব্যাপারে ন্যূনতম হিংসা জিইয়ে রেখে রমজানের নতুন চাঁদকে স্বাগত জানাত না।’

বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে রমজানের দিনগুলো অতিক্রম করছি। এখন আমাদের উচিত, এমন কিছুতে ফিরে না যাওয়া; যা দ্বীন ও দুনিয়াকে কলুষিত করে। যা থেকে নবী করিম (সা.) সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘অচিরেই আমার উম্মত পূর্ববর্তী উম্মতের রোগে আক্রান্ত হবে। সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! পূর্ববর্তী উম্মতের রোগ কী? তিনি বললেন, দাম্ভিকতা ও অবাধ্য, পার্থিব প্রাচুর্য ও পারস্পরিক ঘৃণা, বিবাদ এবং হিংসা-বিদ্বেষ। যা অবশেষে চরম বাড়াবাড়ির পর্যায়ের পৌঁছে।’ (মুস্তাদরাক হাকেম)

সবার উচিত সিয়াম (রোজা), কিয়াম (নামাজ) ও কোরআন তেলাওয়াতের এই মাস থেকে উপরোক্ত মহৎ লক্ষ্য ও আদর্শকে গ্রহণ করে স্বীয় জীবনে বাস্তবায়ন করা। যেন জীবনের সর্বস্তরে সরল সঠিক পথে চলতে পারে।

মনে রাখতে হবে, অন্তরের পরিশুদ্ধি অর্জন, বাজে অভ্যাস ও অসৎ চরিত্র বর্জন করে হৃদয়কে পবিত্র করতে রমজানের বাকি দিনগুলোতে আমাদের এই উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক। যেন আমরা কাক্সিক্ষত সর্বোচ্চ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি।

রমজানের রোজা, নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত মানুষকে এ শিক্ষা দেয়, তাদের হৃদয় যেন অহেতুক ও মন্দ বিষয়ে মগ্ন না থাকে এবং সৃষ্টিকর্তার বিধান লঙ্ঘন করে খারাপ কাজের নির্দেশক প্রবৃত্তি ও নফসের অনুগত না হয়। কেননা হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপ।’ (সহিহ বোখারি)

যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগি ও সৎকাজের উপকারিতা স্বয়ং বান্দার দিকেই ফিরে আসে। সুতরাং যে কাজগুলো মহান আল্লাহর সান্নিধ্য ও নৈকট্য এনে দেয় সেগুলো পালনের মাধ্যমে জীবনকে মূল্যায়ন করা দরকার। হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে, (আল্লাহ বলেন) হে আমার বান্দারা! তোমাদের আমলগুলো আমি তোমাদের জন্যই সংরক্ষণ করি। এরপর তোমাদের পুরোপুরিভাবে এসবের বিনিময় প্রদান করি। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণ অর্জন করে, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে তা ব্যতীত অন্য কিছু পায়, সে যেন নিজেকেই দোষারোপ করে।’ (সহিহ মুসলিম)

(গত শুক্রবার মদিনার মসজিদে নববিতে দেওয়া জুমার খুতবা। অনুবাদ করেছেন-মুহাম্মদ আতিকুর রহমান)

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!