1. admin@theinventbd.com : admin :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
করোনায় একদিনে আরো ২৫৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৯২৫ করোনা টেস্টে গ্রামীণ জনগণের ভীতি নিরসনে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুরে বিধিনিষেধ না মানায় ১০ জনের ২৩ হাজার টাকা জরিমানা ও চোলাই মদসহ আটক যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড সৈয়দপুর ব্যস্ততম বাজারের সড়কে ময়লার ভাগার॥ দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী ও পথচারী সৈয়দপুরে ধসে পড়ল সরকারী নির্মাণাধীন ভবন জলঢাকায় ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষক মাধবকে শিক্ষক সংঘের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান জলঢাকায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের বৃক্ষরোপণ করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ২৪৭ মৃত্যু, ১৫১৯২ শনাক্ত সৈয়দপুরে ভুয়া কেসস্লিপসহ মাইক্রোবাস আটক করোনা: ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু আরও ২২৮, শনাক্ত ১১২৯১

আনন্দের ঈদে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১
  • ৪৩ বার পঠিত

ঈদকে কেন্দ্র করে মার্কেট-দোকানপাট, রাস্তাঘাট ও যানবাহনে অস্বাভাবিক জনসমাগম ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কোনোভাবেই মানুষকে ঈদযাত্রা থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। মাস্কের ব্যবহার কিছুটা বাড়লেও সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউ। বিশেষ করে সরকারের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে স্রোতের মতো মানুষের বাড়ি ফেরায় নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা সবচেয়ে বেশি। ফলে আনন্দের ঈদ শেষ পর্যন্ত সংক্রমণ বাড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় কি না তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঈদের এমন পরিস্থিতিতে করোনার ভারতীয় ধরন সংক্রমণের ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই দেশে দুজনের শরীরে দ্রুত সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন ভারতের ‘বি১.৬১৭.২’ টাইপের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। জিনোম সিকোয়েন্স করে দেখা গেছে, এ ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত সংক্রমণ হয়। অর্থাৎ সংক্রমণ সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। যারা ভ্যাকসিন নেবে, ওই ভ্যাকসিনের কারণে শরীরে যে অ্যান্টিবডি (করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা) তৈরি হয়, সেটাকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের ভাইরাস বেরিয়ে যেতে পারে। এছাড়াও এ ভ্যারিয়েন্টের কারণে অ্যান্টিবডি পুরোপুরি কাজ করতে পারবে না। এ ভাইরাসের ২০ ভাগ সিভিয়ারিটি বেশি। বাংলাদেশ ও চীনের উহানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেসব ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, সেগুলোর তুলনায় এটার দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের জনসমাগমের কারণে দেশের ভেতরকার ধরনের পাশাপাশি করোনার ভারতের ধরন ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া খুব কঠিন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোগীর পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে যেতে পারে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমতে থাকা সংক্রমণ আবার বেড়ে যাবে। এটা যদি তৃতীয় ঢেউয়ে রূপ নেয়, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘ঈদে যেভাবে মানুষ বাড়ি ফিরছে, তাতে দেশে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আমরা নিজেদের সর্বনাশ নিজেরা ডেকে আনলে, করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া মুশকিল। এখন যে মানুষগুলো বাড়ি ফিরছে, তারা যখন ঢাকায় ফিরবে তখন করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অথচ দেশে করোনাভাইরাসের সেকেন্ড ওয়েভ মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। সারা দেশের কভিড হাসপাতালগুলোর অধিকাংশ বেড খালি। শনাক্ত ও মৃত্যুর হারও কমেছে।’

এ কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ভারতে যে সংক্রমণ হয়েছে, তার ভয়াবহতা আপনারা দেখেছেন। করোনা পৃথিবী থেকে কবে যাবে, তা কেউ বলতে পারে না। ফলে যতদিন করোনা থাকবে ততদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।’

ঈদকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক জনসমাগম ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার কারণে সংক্রমণ বাড়বে কি না তা ঈদের এক সপ্তাহ পর বোঝা যাবে বলে মনে করছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তৃতীয় ঢেউ, নাকি দ্বিতীয় ঢেউয়ের অংশবিশেষ হবে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। তবে সংক্রমণ বাড়ার একটা আশঙ্কা আছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে যেগুলো খোলা ছিল, এখন সেগুলো বন্ধ আছে। যেমন কমিউনিটি সেন্টার, নির্বাচন, ওয়াজ মাহফিল ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ। হোটলগুলোতে মিটিং হচ্ছে না। এখন তিনটি জায়গা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ গণপরিবহন, বিপণিবিতান ও মসজিদ। এটার একটা প্রভাব পড়বে। প্রত্যেকটা পদক্ষেপের ফল দুই সপ্তাহ পর বোঝা যায়। ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই ভিড়টা হচ্ছে। ঈদের পর এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি বোঝা যাবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে বাড়বে। তবে কতটুকু বাড়বে, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। মার্চ-এপ্রিলের মতো না-ও বাড়তে পারে। কারণ মার্চ-এপ্রিলে তো সবকিছুই খোলা ছিল।’

তবে বর্তমানে দেশে করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো সংক্রমণের উচ্চহার চলছে জানিয়ে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘এখন যে শনাক্ত, সেটা দুই সপ্তাহ আগের ও মৃত্যু তিন সপ্তাহ আগের প্রভাব। ওই সময় মানুষ বিধিনিষেধ অনেকটাই মেনেছে। এখন সংক্রমণ নিম্নমুখী দেখা যাচ্ছে। তবে সংক্রমণ তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমছে না। পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে এলে কমেছে বলা যাবে। এখনো শনাক্ত হার ১০ শতাংশের সামান্য নিচে ওঠানামা করছে। এখনো সংক্রমণের উচ্চহার। বাংলাদেশের জন্য শনাক্ত হার ১০ শতাংশের ওপরে অতি সংক্রমণশীল, ১০-৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে সংক্রমণশীল ও ৫ শতাংশের নিচে থাকলে নিম্নগামী বলা যেতে পারে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে দেশে এখন বিধিনিষেধ চলছে। ১৬ মে পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। বিধিনিষেধের নির্দেশনা অনুযায়ী, জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ রয়েছে। তবে শিল্পকারখানা চলছে। সীমিত পরিসরে চলছে ব্যাংক লেনদেন। জেলার মধ্যে চলছে বাস। দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিং মল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রয়েছে।

গত ৫ মে’র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকুরেদের ঈদের ছুটিতে বাধ্যতামূলকভাবে কর্মস্থলে থাকতে হবে। নির্দেশনায় বলা হয়, সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদের ছুটিতে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে (অধিক্ষেত্রে) অবস্থান করবেন।

এমনকি করোনা সংক্রমণ রোধে চাকরিজীবীসহ সবাইকে ঢাকায় রাখতে এবার ঈদের ছুটি সংক্ষিপ্ত করেছে সরকার। এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আজ বুধবার অফিস খোলা থাকবে।

তারপরও অনেকে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির পথে ছুটছেন। এর মধ্যে ঈদ সামনে রেখে দেশের মার্কেটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় ঘাটতি এবং গ্রামমুখী মানুষের ঢল নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঈদযাত্রা দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ : ঈদের জামাত উন্মুক্ত স্থানে করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। গতকাল এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জীবনে আরও অনেক ঈদ উপভোগ করতে চাই। কিন্তু আমরা এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নেই। সুতরাং এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যে ঈদ সামনে এসেছে সেটাকে যদি আমরা ঘরের মধ্যে সীমিত আকারে পালন করি তাহলে আমাদের জীবনে আরও অনেক ঈদ উপভোগ করার সুযোগ আসবে। তা না হলে যেভাবে সংক্রমণ ছড়ায়, উন্নত দেশ পর্যন্ত রোগীর চাপ নিতে পারছে না। দেশের প্রস্তুতিরও কিন্তু সবসময় একটা সীমাবদ্ধতা থাকবে। সেদিক থেকে রোগীর সংখ্যা যাতে কোনোভাবে বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। আমাদের ঈদের এই যাত্রা বন্ধ করে নিজেদের ঘরের মধ্যে থেকে ঈদ উদযাপন নিজেদের মধ্যে যাতে সীমাবদ্ধ রাখি সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানাব।’

এ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘ঈদ জামাত কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে উন্মুক্ত জায়গায় আয়োজন করা যায় সেই বিষয়টি লক্ষ রাখার জন্য জনসাধারণকে এবং মসজিদসংশ্লিষ্ট আলেম-ওলামা যারা আছেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিকল্প পদ্ধতিতে ঈদ জামাত আয়োজন করার জন্য বলছি। ঈদ জামাত পরবর্তী সময়ে আমাদের একটা রীতি হচ্ছে কোলাকুলি করা কিংবা হাত মেলানো। সেটাও কিন্তু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণ। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ঈদের সময় আমরা কোলাকুলি না করি, হাত না মেলাই সেই বিষয়ে যেন আমরা লক্ষ রাখি।’

ঈদের কারণে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘যারা শনাক্ত হচ্ছেন, তাদের সঙ্গে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করতে হবে, তাদের চিকিৎসার পরামর্শ দিতে হবে ও আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে প্রত্যক্ষ সংক্রমণ থেকে রোগটি না ছড়ায়, সেটার একটা ব্যবস্থা হবে। অর্থাৎ জানা সংক্রমণের উৎস বন্ধ করা। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় হচ্ছে, অজানা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও ভিড় না করা। তৃতীয় হচ্ছে, ভবিষ্যৎ সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য টিকা নেওয়া। কাজেই জানা সংক্রমণ, অজানা সংক্রমণ ও ভবিষ্যৎ সংক্রমণ এ তিনটি যদি মেনে চলি, তাহলে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!