1. admin@theinventbd.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সৈয়দপুরে ৮ বছরের শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একমাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ।। হাতেনাতে সৎ নানা আটক কিশোরগঞ্জে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগীদের ৯ মাসের টাকা বেহাত কিশোরগঞ্জে ১টি পরিবারকে ৫ দিন ধরে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ সৈয়দপুরে চালককে ছুরিকাঘাত করে ভ্যান ছিনতাই নীলফামারীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই শিক্ষার্থী পেল পোর্টেবল ভিডিও ম্যাগনিফায়ার জলঢাকায় ববিতা রানী সরকারের প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইল চেয়ার বিতরন আমজাদ সরকার সভাপতি ও খায়রুল সম্পাদক জলঢাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কমিটি গঠন জলঢাকায় হরিজন সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করবেন ব্যারিস্টার তুরিন মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিবাদে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সৈয়দপুরে গোয়াল ঘরের তালা কেটে গাভী চুরি

মসজিদের কারুকাজে সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | শনিবার, ২৯ মে, ২০২১
  • ৩৩ বার পঠিত

শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের কারুকাজময়, উঁচু উঁচু মিনার আর চোখ ধাঁধানো নকশা করা মসজিদগুলো যে কারও মন আকর্ষণ করে। অনেক মসজিদের বাইরে কিংবা বারান্দায় লাগানো টাইলসে কোরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি, কালিমা, আল্লাহ ও রাসুলের নাম, মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববির ছবিসহ বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর নকশা অঙ্কিত থাকে। মসজিদের বাইরের অংশের এমন কারুকাজ নিয়ে কোনো আপত্তি নেই। সমস্য হলো মসজিদের ভেতরের বাহারি নকশা নিয়ে।

নামাজিদের একাগ্রতা রক্ষা করতে মসজিদের ভেতরের দেয়ালে কিংবা নামাজিদের সামনে পড়ে এমন অংশে কোনো ধরনের কারুকাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। ফকিহদের মতে, মসজিদ ইবাদতের স্থান। এটা শিল্পচর্চার জায়গা নয়। নবী করিম (সা.) মসজিদকে যেকোনো ধরনের চাকচিক্য কিংবা অপ্রয়োজনীয়ভাবে সাজাতে নিষেধ করেছেন। এমনভাবে মসজিদকে সাজানো জায়েজ নেই, যার কারণে মুসল্লিদের নামাজে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং তাদের দৃষ্টি অন্যদিকে চলে যেতে পারে। এ ধরনের সাজসজ্জা করা বৈধ নয়।

ফতোয়ার কিতাব দুররে মুখতারে (১/৬৫৮) বলা হয়েছে, ‘মসজিদের সামনের দেয়ালে কিছু লিখবে না বা লেখা টাঙাবে না, রংবেরঙের নকশা ও কারুকাজ করবে না। তাতে মুসল্লিদের নামাজের খুশু-খুজু (একাগ্রতা) নষ্ট হয়ে যায়, যা নামাজের রূহ। জরুরি কোনো লেখা টাঙাতে হলে দুই পাশের দেয়ালে কিংবা পেছনের দেয়ালে তার ব্যবস্থা করবে।’

আল্লামা ইবনুল আবিদীন বলেছেন, ‘আমাদের অনেক মাশায়েখ মেহরাবে এবং কেবলার দেয়ালে কারুকাজকে মাকরুহে তাহরিমি সাব্যস্ত করেছেন। কেননা তা মুসল্লির অন্তরকে নামাজ থেকে নির্লিপ্ত করবে।’ একদা নবী করিম (সা.) নকশা আঁকা এক চাদরে নামাজ আদায় করেন। নামাজের ভেতরে তার দৃষ্টি একবার নকশার দিকে পড়ে যায়। নামাজ শেষে তিনি বললেন, আমার এ চাদর আবু জাহমার কাছে নিয়ে যাও। আবু জাহমার আম্বিজানিয়া চাদর নিয়ে এসো। কেননা এটা এখনই আমার নামাজ নষ্ট করেছে।’ হিশাম ইবনে উরউয়ার বর্ণনায় আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি নামাজের দিকে তাকাচ্ছিলাম আর ভয় পাচ্ছিলাম, এ চাদর আমাকে গোনাহগার বানাবে।’ সহিহ্ বোখারি : ৩৭৩

দেখুন, নবী করিম (সা.) থেকে বড় নামাজি আর কে আছেন, নামাজে তার চেয়ে বেশি মনোযোগী আর কে হবেন? তিনিই যখন নিচে, সামনে নকশা থাকলে নামাজে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেননি, সংগত কারণেই তখন বলা যায়; সামনে-নিচে দৃষ্টিনন্দন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নকশা থাকলে কোন মুসল্লির নামাজে মনোযোগ ঠিকমতো থাকবে?

মাসয়ালা হলোÑ কেবলার দিক ও মেঝে ছাড়া অন্যদিকে খুব সামান্য নকশা (ব্যক্তিগত অর্থায়নে হলে ভালো) করা যেতে পারে। তবে এ ব্যাপারেও হজরত উমর ইবনে আবদুল আজিজের (রহ.) প্রসিদ্ধ একটি উক্তি আছে, ‘তিনি যখন মসজিদে হারামে অর্থ পাঠাতে দেখলেন তখন বললেন, ‘খুঁটিগুলোর চেয়ে দরিদ্রদের অর্থের প্রয়োজন বেশি।’

মসজিদের নকশার কাজে আল্লাহ, রাসুল, কালিমা ও কোরআনের বিভিন্ন আয়াতলিখিত টাইলস লাগানোর সময় আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, কোনো অবস্থাতেই যেন টাইলস কাটার সময় কোনো অক্ষরের অর্ধেক কাটা না পড়ে। দেয়ালের ভাঁজের সঙ্গে টাইলসের মিল রাখতে যেয়ে অনেক সময় কোনো কোনো টাইলস এমনভাবে কাটা হয়, যার ফলে আরবি শব্দ অপূর্ণাঙ্গ থাকে। তাতে শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আরেকটি বিষয় হলো টাইলসের কেটে ফেলা অতিরিক্ত অংশে অনেক সময় আল্লাহ, রাসুলসহ কোরআনের আয়াতের অংশ লেখা থাকে। কেটে ফেলা এসব টাইলস ময়লাযুক্ত স্থান কিংবা মানুষ চলাচলের রাস্তায় ফেলা হয়। না জেনে মানুষ এসবের ওপর দিয়ে চলাচল করে। এটাও অনুচিত।

আগেই বলা হয়েছে, আল্লাহ, রাসুল ও কোরআনের আয়াত সংবলিত টাইলস মসজিদে না লাগানোই ভালো। তার পরও যদি লাগানো হয়, কঠোরভাবে খেয়াল রাখা, যাতে লেখা কাটা না যায়। অর্থ ঠিক রেখে টাইলসের কোনো অংশ কাটলেও ওই অংশগুলো ভালো জায়গায় মাটি চাপা দিয়ে রাখা। কোনোভাবেই রাস্তা অথবা ময়লাযুক্ত স্থানে না ফেলা।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!