1. admin@theinventbd.com : admin :
  2. worksofine@rambler.ru : JefferyDof :
  3. kevin-caraballo@mainello5.tastyarabicacoffee.com : kevincaraballo :
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সৈয়দপুরে জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে ১৭ বছর থেকে বিধবা ভাতা উত্তোলন, সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ঝিকরগাছায় আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত জলঢাকায় ১১ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের মাঝে ১০৯টি বাইসাইকেল বিতরণ জলঢাকায় যানজটে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলছে : নিরসনের দাবি পৌরবাসির বেনাপোলে গৃহহীনদের ঘর নিয়ে ভুমি অফিসের সহকারীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ। ঝিকরগাছায় সাপের কামড়ে ১ গৃহবধূর মৃত্যু বেনাপোলে র‍্যাবের অভিযানে গাজাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী আটক সৈয়দপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বিতরণ সৈয়দপুরে সাহিত্য আসরের ৪থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন সৈয়দপুরে উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় বক্তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত সৈনিকেরা ষড়যন্ত্রকে ভয় পায়না তারা লড়াই করেই বাঁচে, বিজয়ী হয়

এলাকাভিত্তিক বিশেষ ‘লকডাউন’ শুরু

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১
  • ৫৩ বার পঠিত

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কয়েক দিন আগে দেশের ভারত সীমান্তবর্তী সাত জেলায় ক্লাস্টারভিত্তিক ‘লকডাউনের’ সুপারিশ করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি। জেলাগুলো হলো নওগাঁ, নাটোর, সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও খুলনা। এসব জেলার কোনো কোনোটিতে ইতিমধ্যে করোনা শনাক্তের হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশের আলোকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ক্লাস্টারভিত্তিক ‘লকডাউন’ আরোপ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এর মধ্যে গতকাল বুধবার নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় সাত দিনের ‘বিশেষ লকডাউন’ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। আরেক জেলা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে এ সময়ে সাধারণ মানুষের বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। খুলনায় আপাতত ‘লকডাউন’ দেওয়া না হলেও আগামীকাল শুক্রবার থেকে নগরীর তিনটি থানা এলাকায় এক সপ্তাহের জন্য ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় যশোর, সাতক্ষীরা ও নাটোরসহ সীমান্তবর্তী আরও কয়েকটি জেলায় স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিস্তারিত দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদকদের পাঠানো খবরে :

নওগাঁয় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় সাত দিনের ‘বিশেষ লকডাউন’ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল দুপুর দেড়টায় এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ গণমাধ্যমকর্মীদের এ সিদ্ধান্ত জানান। আজ রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এ ‘বিশেষ লকডাউন’ কার্যকর হবে।

‘লকডাউনে’ নওগাঁ পৌরসভা থেকে জেলার অন্য উপজেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধসহ ১৫ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ‘লকডাউন’ ঘোষণার পর থেকে দোকানপাট ও রাস্তায় মানুষের ভিড় বেড়েছে। গতকাল বিকেল থেকে শহরের কাঁচাবাজার, মুদি দোকানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন দোকানে ছুটছেন ক্রেতারা। ‘লকডাউনে’ পরিবারের জন্য নিত্যপণ্যসহ জিনিসপত্র নিয়ে ফিরতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। শহরের ব্রিজের মোড়, বাটার মোড়, চুড়িপট্টি, তুলাপট্টি, মসজিদ মার্কেট, গোস্তহাটির মোড়ে যানবাহনের ভিড় দেখা গেছে।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ জানান, গত ১৪ দিনে জেলায় করোনা শনাক্তের গড়হার ২৬ শতাংশের ওপরে। ২৫-২৬ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। গত দুই সপ্তাহে সংক্রমণ বেড়েছে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী নিয়ামতপুর উপজেলায় সংক্রমণ হার বেশি। সেখানে ৭৫ জন রোগী করোনা পজিটিভ। আর নওগাঁ সদরে ১২৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। পুরো জেলায় ২৩৪ জন করোনা রোগী রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় ৭ গ্রাম লকডাউন : সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ বেড়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন এলাকায়। এ ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম ‘লকডাউন’ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া সংক্রমিত এলাকায় করোনা পরীক্ষায় নমুনা সংগ্রহে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে এক দিনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৮ জনের মধ্যে ২৪ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলোকে এক মাসের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম পর্যায়ক্রমে ‘লকডাউনের’ আওতায় আনা হয়। এ সময় ওই গ্রামের প্রবেশ ও বাহির পথগুলোতে বাঁশ এবং গাছের গুঁড়ি বেঁধে দেওয়া হয়। এছাড়া ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় ওই ইউনিয়নের হরিরামপুর ও শিবনগর গ্রামের সাধারণ মানুষকে করোনা পরীক্ষা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের ‘লকডাউন’ করা গ্রামগুলো হলো শিবনগর, হরিরামপুর, জাহাজপোতা, মুন্সিপুর, কুতুবপুর, পীরপুরকুল্লা ও হুদাপাড়া। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সাত গ্রামের বাসিন্দা কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন না। সেই সঙ্গে বহিরাগত কেউ ওইসব গ্রামে প্রবেশ করতে পারবেন না।

খুলনা মহানগরীর তিন থানায় কঠোর বিধিনিষেধ : করোনা সংক্রমণ প্রতিরাধে আপাতত খুলনায় ‘লকডাউন’ দেওয়া হচ্ছে না। তবে আগামীকাল শুক্রবার থেকে মহানগরীর তিনটি থানা এলাকায় এক সপ্তাহের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। থানাগুলো হচ্ছে খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা ও খালিশপুর। উল্লিখিত সময়ের জন্য এসব এলাকায় সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হবে। জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় কমিটির সভাপতি ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। পরে জেলা প্রশাসক সিদ্ধান্তটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারির কথা বলেন।

সভায় জেলা সিভিল সার্জন দপ্তরের পক্ষ থেকে খুলনা জেলা ও মহানগরীর সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে জানানো হয়, খুলনা মহানগরীর সদরে করোনা সংক্রমণ হার শতকরা ৩৫। খালিশপুরে ২৫ ও সোনাডাঙ্গাতে এই হার শতকরা ১৭ ভাগ। তবে রূপসা উপজেলাতে করোনা সংক্রমণের হার শতকরা ৪ দশমিক ১৮ ভাগ। অন্যান্য উপজেলাতে এই হার শতকরা প্রায় এক ভাগ। এছাড়া অন্যান্য স্থানে সংক্রমণের হার নিম্নগামী।

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কঠোর ‘লকডাউন’ : করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজশাহীর সব দোকানপাট, মার্কেট, বিপণিবিতান বন্ধ থাকবে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এক সভা শেষে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে ১০টি নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গতকাল বিকেলে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে ওই সভা করে স্থানীয় প্রশাসন। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, ‘সরকার যে লকডাউন দিয়েছে তা আরও কঠোর হবে। এর বাইরে আলাদা করে কোনো লকডাউন দেওয়া হবে না। তবে আমাদের সব বিভাগকে বলব, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে তারা যেন সেই লকডাউন কঠোরভাবে মেনে চলে।’

তিনি জানান, আজ বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। আইডি কার্ড ছাড়া, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাসার বাইরে বের হতে পারবে না। জেলায় সব ধরনের গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোও বন্ধ থাকবে। তবে ধানসহ সব কৃষিপণ্য, খাদ্য, অত্যাবশ্যকপণ্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জন আটক : সাতক্ষীরার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। বিশেষ করে সীমান্ত সুরক্ষিত না হওয়ায় বেশি উদ্বেগ জানান প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল সীমান্তে কড়া নজরদারির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত ১৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত জেলায় করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ২৬২ জনের। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে ২৭০ জনের। সংক্রমণের এই হার ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

করোনা প্রতিরোধে বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ভোমরা স্থলবন্দরে প্রতিদিন আসা ভারতীয় ট্রাক ও হেলপারদের প্রকাশ্যে বেড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজিবির টহল জোরদার করে চোরাচালান, মানুষ পাচারকারী ও অবৈধ যাতায়াতকারীদের প্রতিরোধ করা হয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরায় বিজিবি অভিযান চালিয়ে ১০ নারী-পুরুষকে আটক করেছে। গতকাল তলুইগাছা, কাকডাঙ্গা ও মাদরা সীমান্ত থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক মোহাম্মদ আল-মাহমুদ জানান, আটকরা অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছিল। বিজিবির টহলরত সদস্যরা তাদের আটক করে।

যশোরে করোনা প্রতিরোধে কঠোর প্রশাসন : করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সকাল থেকে শহরের দড়াটানা, চৌরাস্তা, চিত্রামোড়, মণিহার মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান নিয়ে জনগণের মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করাসহ সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত যথাযথ নিয়মে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শহরে সচেতন করতে করা হচ্ছে মাইকিং।

জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেছেন, চলমান বিধিনিষেধ কঠোরভাবে পালনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল জেলায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ২১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ জন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের করোনার ভয়াবহ চিত্র : গতকাল রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়েছে ৭৪ জনের দেহে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে আসা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় ২৭১ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৭২ জন। সংক্রমণ হার ঘোরাফেরা করছে শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগের আশপাশেই। উত্তরের সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে করোনা আক্রান্ত সাতজনের দেহে ধরা পড়েছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট।

কুষ্টিয়ায় সংক্রমণ বেড়ে পাঁচ গুণ : কুষ্টিয়ায় গত দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে করোনা সংক্রমণের হার পাঁচ গুণ ছাড়িয়ে প্রায় ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা চরম উদ্বেগজনক মনে করছেন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বহার চলতে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কষ্টসাধ্য হবে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে সংক্রমণের হার ছিল মাত্র ৭-৮ শতাংশ, যা এসে দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগই গ্রহণ করেছে।’

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘নমুনা পরীক্ষায় সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে। এটা আমাদের সবার জন্য চরম উৎকণ্ঠার। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলাজুড়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায়সহ মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক সাইদুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায়সহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে সবরকম মনিটরিং করা হবে। তবে জেলায় কোনো ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়নি।

নাটোরে বেড়েছে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার : নাটোরে হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়েছে করোনা সংক্রমণের হার। সংক্রমণের শতকরা হার বেড়ে ৫৩ ভাগে উঠে গেছে। দুদিন আগেও যা ছিল ২৫ ভাগের মধ্যে।

নাটোর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ৩১ বেডের সবই রোগীতে পূর্ণ হয়ে গেছে। বর্তমানে ৩১ বেডের মধ্যে ৩২ জন ভর্তি রয়েছে করোনা ওয়ার্ডে। তবে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ও সিলিন্ডার অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই বলে জানান সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. পরিতোষ কুমার।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘মাস্ক ছাড়া কোনো ব্যক্তি শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া শহরের ছোট ছোট যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, ‘সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে জরুরি সভা করা হয়েছে। সভায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা আরও কয়েকটা দিন সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব। তাছাড়া শহরের দোকানপাটগুলোতে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব দোকান নির্দেশনা মানবে না, তাদের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!