1. admin@theinventbd.com : admin :
  2. worksofine@rambler.ru : JefferyDof :
  3. kevin-caraballo@mainello5.tastyarabicacoffee.com : kevincaraballo :
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
জলঢাকায় ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ফাউন্ডেশনের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত জলঢাকায় ইএসডিও- ডাভ সেলফ এস্টিম প্রকল্পের অবহিতকরন সভা অনুষ্ঠিত তিস্তায় পানি বৃদ্ধি ২২ গ্রাম প্লাবিত হুমকির মুখে তিস্তার তীরবর্তী মানুষ জলঢাকায় ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন পালন জলঢাকায় শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন পালন করেছে যুবলীগ জলঢাকায় ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নারী উদ্দোক্তা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত আনন্দের ভাগিদার হতে ছুটে এসেছি জলঢাকায় পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে ড. তুরিন আফরোজ জলঢাকায় মঙ্গলদ্বীপের উদ্যোগে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত জলঢাকায় প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করতে রং তুলির কাজে ব্যস্ত এখন কারিগররা জলঢাকায় অনির্বাণ স্কুলে একাডেমিক ভুবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিপুল ব্যয়ের বাজেট প্রস্তাব আজ

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১
  • ১১৪ বার পঠিত
করোনা মহামারীর প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ নজর দিয়ে রেকর্ড ঘাটতির বিশাল বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেট এটি। এবারের বাজেটে সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে জীবন ও জীবিকা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৃষি খাত। স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড়। এ ছাড়া ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন, কৃষি খাত, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থবছরের পুরো সময়ে থাকবে সরকারের নানা ধরনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, বাড়ানো হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা। বাজেটে ব্যয় বাড়লেও নতুন করের বোঝা চাপাতে চান না অর্থমন্ত্রী।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজেটে কর্মসংস্থান, নতুন করে দরিদ্রদের সহায়তা, কৃষি, এসএমই শিল্প ও জনশক্তি রপ্তানিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আগামী বাজেটে রাজস্বের যে লক্ষ্য ধরা হচ্ছে, তা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া অর্জন কঠিন হবে। এ ছাড়া সঠিক জায়গায় সঠিকভাবে বরাদ্দের অর্থ ব্যয় করাও চ্যালেঞ্জিং হবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও অনিয়ম কমাতে কঠোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। সব মিলিয়ে আগামী দিনের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে টিকার ওপর। যত দ্রুত জনসাধারণকে টিকার আওতায় আনা যাবে, অর্থনীতির মঙ্গলের সম্ভাবনা ততটাই বাড়বে।

আজকের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা গতকাল বুধবার বলা হয়েছে, আগামী বাজেটে প্রাধিকার পাবে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামের এবারের বাজেটি প্রস্তুত হয়েছে সরকারের অতীতের অর্জন এবং উদ্ভূত বর্তমান পরিস্থিতির সমন্বয়ে। এবারের বাজেটে সংগত কারণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। পাশাপাশি কভিড-১৯ মোকাবিলায়  ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন, কৃষি খাত, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থবছরের পুরো সময়ই থাকবে সরকারের নানা ধরনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, বাড়ানো হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা।

আজ প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার হতে পারে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার। বাজেটে মোট আয় ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৬.২ শতাংশ। তবে এই সময়ে বিশাল ঘাটতির বাজেট অবাস্তবসম্মত নয়। ঘাটতি বাজেট পূরণে দেশি-বিদেশি দুই উৎস থেকেই অর্থ নেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, কিন্তু এর কাছে যেতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী অর্থবছরের বাজেটেও এ লক্ষ্যমাত্রা বহাল রাখা হয়েছে। যদিও চলতি অর্থবছর এনবিআরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৩ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। কর ব্যতীত রাজস্ব খাত থেকে আগামী অর্থবছর ৪৩ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। মূলত করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর মুনাফার যে অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয় রাখা আছে, সেগুলো কোষাগারে এনে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা মহামারীর সময় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা না বাড়ালেও তা অর্জন চ্যালেঞ্জিং হবে। একমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ালেই এর কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হবে। কারণ যে হারে করছাড় ও অন্যান্য করের আওতা কমানো হচ্ছে, তাতে রাজস্বের ওপর নিশ্চিত প্রভাব পড়বে। তবে করপোরেট কর কমানোর চিন্তা যৌক্তিক। বিশে^র অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে করপোরেট কর এমনিতেই বেশি ছিল। তবে বাজেটের টাকা কোথায়-কীভাবে ব্যয় করা হবে, তার প্রায়োরিটি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী দিনের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে ভ্যাকসিনেশন বা টিকার ওপর। যত দ্রুত সর্বসাধারণকে টিকার আওতায় আনা যাবে, অর্থনীতির মঙ্গলের সম্ভাবনা ততটাই বাড়বে। টিকা সংগ্রহে অর্থায়নের সমস্যা নেই, প্রয়োগেও অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন টিকার সংগ্রহ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তথ্যমতে, করোনা মহামারীতে নতুন করে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোর হিসাবে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে আড়াই কোটির বেশি মানুষ। নতুন দরিদ্রদের বেশির ভাগই করোনার কারণে চাকরিহারা। আজকের বাজেটে  কীভাবে এসব মানুষকে কাজ দেওয়া যায়, কর্ম ফিরিয়ে দিয়ে আয় বাড়ানোর ব্যবস্থা করা যায়, তার একটি কৌশল থাকবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. সালেহউদ্দীন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী বাজেটে নতুন করে দরিদ্রদের সহায়তা নিশ্চিত করা, কৃষি, এসএমই শিল্প ও জনশক্তি রপ্তানিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাজেটে ৫.৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা হয়তো ধরে রাখা যাবে, ৬.২ শতাংশ ঘাটতিও বেশি নয়। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে প্রণোদনা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। আগে একতরফাভাবে তৈরি পোশাক খাতকে দেওয়া হচ্ছিল। করোনার কিছুটা সামগ্রিকীকরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘোষিত বাজেটের বাস্তবায়নটাই বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও অনিয়ম কমাতে কঠোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। এখন যেভাবে চলছে, তার পরিবর্তন জরুরি। স্বচ্ছভাবে অর্থ ব্যয় করার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

করপোরেট কর কমছে : আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজারে অতালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমানো হচ্ছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানেও একই হারে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া একক ব্যক্তির কোম্পানির জন্য করপোরেট করে সাড়ে ৭ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। করোনার কারণে ছয় বছর পর চলতি অর্থবছর ২ দশমিক ৫ শতাংশ কর কমানো হয়েছে। একই বিবেচনায় আগামী বাজেটেও করহার কমানো হবে। বিদ্যমান বাজেটে করপোরেট কর থেকে বছরে  প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আসে। বিদ্যমান করকাঠামো অনুযায়ী, করপোরেট করের স্তর রয়েছে আটটি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ২৫ শতাংশ, তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি ৩২ দশমিক ৫, একক ব্যক্তি কোম্পানির ৩২.৫, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া নতুন ব্যাংক ৩৭ দশমিক ৫, তালিকাবহির্ভূত ব্যাংক ৪০, মার্চেন্টস ব্যাংক ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে করপোরেট ট্যাক্স দিতে হয়।

স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা : স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় পণ্য আমদানিতে অগ্রিম আয় করে (এআইটি) বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিদ্যমান আগাম কর ৪ স্তরের পরিবর্তে ৬ স্তরে এআইটি আদায় করা হবে। তবে স্থানীয় শিল্পে এআইটিতে ছাড় এলেও বিলাসী পণ্যে বাড়তি এআইটি দিতে হবে। এআইটির সর্বোচ্চ হার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানির অগ্রিম আয়কর (এআইটি) বিদ্যমান ৩ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ, সমুদ্রগামী জাহাজশিল্পের এআইটি ২ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে।  অন্যদিকে কৃষিভিত্তিক শিল্পকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের চারটি খাতের শিল্প স্থাপনে ১০ বছরের জন্য কর অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

এসএমই খাতের নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে টার্নওভারের বিপরীতে কর অব্যাহতির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। আইটি খাতের সম্প্রসারণে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও কর অব্যাহতির সুবিধা পাবে। প্রযুক্তির বিকাশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যে যেমন রাউটার, হার্ডডিস্ক, প্রিন্টারের মতো পণ্যে কর অব্যাহতি দেওয়া হবে। কৃষির সম্প্রসারণে কৃষি পণ্যের আমদানি শুল্ক  হ্রাস করা হবে। তবে ব্যক্তিশ্রেণির আয় করসীমা বাড়ছে না। এটা অপরিবর্তিত রাখা হবে।  নন-এসি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার ওপর ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে করারোপ করা রয়েছে বিদ্যমান বাজেটে, আগামী বাজেটে এটি ৫ শতাংশ করা হবে।

টিকা আমদানি : অন্যদিকে করোনা মহামারীকালে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাসামগ্রী উৎপাদন ও কাঁচামালের আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। এ ছাড়া করোনা টেস্টের কিটের আমদানি শুল্ক ৩০ জুন পর্যন্ত রেয়াত দেওয়া আছে, তা ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

বাড়ছে সামাজিক নিরাপত্তার বেষ্টনীর আওতা : ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এটি মোট বাজেটের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এটি ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার চলতি বাজেটের ১৬.৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৪ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। আসছে বাজেটে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হচ্ছে।

নতুন বাজেটে প্রথমবারের মতো দেশের ১৫০টি উপজেলার সব বয়স্ক মানুষ ও বিধবা নারীকে ভাতা দেওয়া হবে। বর্তমানে ১১২ উপজেলার প্রত্যেক বয়স্ক ব্যক্তিই ভাতা পাচ্ছেন। এতে নতুন করে আরও আট লাখ সুবিধাভোগী যুক্ত হচ্ছেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ আছে ২ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা।

আসছে বাজেটে ১৫০ উপজেলার প্রত্যেক বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তকেও ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। এতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেড়ে ২৪ লাখ ৭৫ হাজারে দাঁড়াবে। এটি বাস্তবায়নে ১ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। চলতি বাজেটে এই উপকারভোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৫০ হাজার। চলতি বাজেটে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ আছে ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা।

আগামী বাজেটে নতুন করে ১৮ লাখ অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, প্রায় আট লাখ দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী, প্রায় তিন লাখ ল্যাকটেটিং ভাতাভোগী মায়ের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া বাজেটে হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৮৬ হাজার থেকে ৯৫ হাজারে উন্নীত করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবাররা আগামী বাজেটে সুখবর পাবে। নতুন বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার পরিমাণ ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

পরিচালন ব্যয় : আজকের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের পরিচালন বা অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। করোনা মহামারীর ফলে সরকারের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। চলতি বছরের বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। সেই তুলনায় আসছে বছরে পরিচালন ব্যয় বাড়বে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। আর আবর্তক ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬২ হাজার কোটি টাকা। আর বিদেশি ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।

এডিপির বরাদ্দ : আসছে বাজেটে মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা; যা এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের বাজেটে এডিপির আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপির বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৫ শতাংশের কম।

বাজেট ঘাটতি : দীর্ঘদিন পর এই প্রথমবারের মতো বাজেট ঘাটতি ৬ শতাংশের বেশি ধরা হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সরকারের আয় কমে যাওয়া। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সরকারের রাজস্ব আয়ে ধস নেমেছে। ফলে আগামী বছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হচ্ছে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। চলতি বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এত দিন বাজেট ঘাটতি মোট জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার বৃত্ত ভেঙে তা ৬ শতাংশের ওপরে চলে যাচ্ছে; যা মূলত সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করবে। শুধু তা-ই নয়, অনুদান বাদে আসছে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হচ্ছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ১১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা।

ঘাটতি অর্থায়ন : বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকার বরাবরই দুই উৎস বেছে নেয়। এর মধ্যে বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ উৎস। আগামী বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎসের নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে বৈদেশিক উৎসের প্রতি নির্ভরতা বাড়ানো হচ্ছে। আসছে বছরে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নেবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। আর জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেবে ৩২ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য খাত থেকে নেওয়া হবে ৫ হাজার ১ কোটি টাকা। বাজেটে বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ পাওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে, সেটাও এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।

বাজেটের লিংক : বাজেটকে অধিকতর অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট িি.িসড়ভ.মড়া.নফ-এ বাজেটের সব তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন। দেশ বা বিদেশ থেকে ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ প্রেরণ করা যাবে। প্রাপ্ত সব মতামত ও সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। সংসদ কর্তৃক বাজেট অনুমোদনের সময়ে ও পরে তা কার্যকর করা হবে। নিম্নলিখিত সরকারি ওয়েবসাইট লিংকেও বাজেটসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।  যঃঃঢ়ং://হনৎ.মড়া.নফ, যঃঃঢ়ং://ঢ়ষধহফরা.মড়া.নফ, যঃঃঢ়ং://রসবফ.মড়া.নফ, যঃঃঢ়ং://িি.িফঢ়ঢ়.মড়া.নফ. অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাজেট উপস্থাপনের পরদিন অর্থাৎ ৪ জুন শুক্রবার বেলা ৩টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন হবে। জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়া যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!