1. admin@theinventbd.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সৈয়দপুরে ৮ বছরের শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একমাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ।। হাতেনাতে সৎ নানা আটক কিশোরগঞ্জে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগীদের ৯ মাসের টাকা বেহাত কিশোরগঞ্জে ১টি পরিবারকে ৫ দিন ধরে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ সৈয়দপুরে চালককে ছুরিকাঘাত করে ভ্যান ছিনতাই নীলফামারীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই শিক্ষার্থী পেল পোর্টেবল ভিডিও ম্যাগনিফায়ার জলঢাকায় ববিতা রানী সরকারের প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইল চেয়ার বিতরন আমজাদ সরকার সভাপতি ও খায়রুল সম্পাদক জলঢাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কমিটি গঠন জলঢাকায় হরিজন সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করবেন ব্যারিস্টার তুরিন মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিবাদে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সৈয়দপুরে গোয়াল ঘরের তালা কেটে গাভী চুরি

হালাল উপার্জনে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ প্রচেষ্টা

মাহমুদা নওরিন
  • প্রকাশকাল | শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১
  • ৩২ বার পঠিত
প্রত্যেক মেয়ে বাবা-মায়ের নয়নমনি, ঘরের আলো। ভাই-বোনের স্নেহ-ভালোবাসার পাত্রী। তাদের নিয়েই আবর্তিত হয় তার জীবন। একসময় তার জীবনধারায় পরিবর্তন আসে। সে হয়ে যায় নতুন কিছু মানুষের আত্মীয়। একজন পুরুষ হয় তার একান্ত আপন- স্বামী। তাকে নিয়ে সে স্বপ্ন দেখে, তাকে ঘিরে নতুন জীবনের নতুন বাগান সাজায়। সৎ ও নেককার স্ত্রী স্বামীর জন্য রহমত। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম সম্পদ হিসেবে গণ্য করেছেন।

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন এই আয়াতটি নাজিল হলোÑ ‘যারা স্বর্ণ-রৌপ্য জমা করে এবং তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তাদের কষ্টদায়ক মর্মন্তুদ আজাবের সুসংবাদ দিন।’ হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তিন বার বললেন, ‘স্বর্ণ-রুপার বিনাশ হোক’ কথাটি সাহাবায়ে কেরামের জন্য কিছুটা ভারী মনে হলো। তাই তারা জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আমরা কোন বস্তুকে সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করব? তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, জিকিরকারী জবান, শোকরকারী অন্তর এবং এমন স্ত্রী, যে তার স্বামীকে দ্বীনের কাজে সহযোগিতা করবে।’ Ñতাফসিরে ইবনে কাসির : ২/৫৪৮

স্ত্রী হিসেবে নেককার নারী খোঁজ করা সব পুরুষের কর্তব্য। আর নারীর কর্তব্য- স্বামীকে দ্বীনের কাজে পরিপূর্ণ সহযোগিতা করা। নারী হিসেবে বিভিন্নভাবে স্বামীর হালাল উপার্জনে সহযোগিতা করা যায়, স্বামীকে দ্বীনের পথে আনা যায়। দায়িত্বশীল স্ত্রীর উচিত স্বামীকে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রতি ওয়াক্তে মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করা।

স্বামী নামাজ না পড়লে, রোজা না রাখলে স্ত্রীই পারেন বুঝিয়ে শুনিয়ে তাকে নেককার বানাতে, নামাজ রোজাসহ দ্বীনি আমলের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে। বুঝিয়ে শুনিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, আল্লাহর কাছে দোয়া করে স্বামীকে বিভিন্ন অন্যায় থেকে বিরত রাখা সম্ভব। যতদিন বিরত না হয়, ততদিন চেষ্টা করে যেতে হবে।

হতে পারে কারও স্বামীর উপার্জন হালাল নয়। বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সঙ্গে তার পেশা যুক্ত। তখন স্ত্রীকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নরমে-কঠোরে যেভাবেই হোক হারাম থেকে স্বামীকে মুক্ত করতে হবে। হারামের অভিশাপ থেকে নিজেদের বাঁচাতে হবে। হালাল রিজিকের প্রতি উৎসাহ দিতে হবে। পরিবারের অন্য সদস্যদের ধৈর্য ধারণের জন্য দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ করতে হবে। হতাশ হলে চলবে না। সবসময় তাকে বোঝাতে হবে- আমাদের অতিরিক্ত কিছু দরকার নেই। জৌলুসপূর্ণ-চাকচিক্যময় জীবন চাই না। সুস্থতা ও সম্মানের জীবনই যথেষ্ট। বাহারি কোনো কিছুর জন্য আমাদের কোনো আকুলতা কিংবা চাহিদা নেই। এভাবে স্ত্রী তার স্বামীকে বললে স্বামী অন্যায় পথে পা বাড়াবে না।

ঘরে পরিপূর্ণ দ্বীনি পরিবেশ তৈরির এবং শরিয়ত মোতাবেক পরিবার গড়ার জন্য দৃঢ়ভাবে নিজের ইচ্ছার ওপর অটল থাকতে হবে। একজন নারী হিম্মতের সঙ্গে, হেকমতের সঙ্গে যদি এগিয়ে যায় তাহলে তার দ্বারা একটি পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ কায়েম হওয়া সহজ।

স্বামী যদি ঘরে ঘুষের টাকা আনে, অবৈধ উপহার কিংবা বস্তু আনে, তাহলে হেকমতের সঙ্গে স্বামীকে বোঝাতে হবে। এ সবের বিভিন্ন কুফল তার সামনে তুলে ধরতে হবে এবং এ সবের প্রতি তার মনে ঘৃণা সৃষ্টি করে ঘর থেকে এগুলো দূর করতে হবে।

আবার এ সবের বিপরীতও হয়। যেমন স্বামী চান, তার স্ত্রী নামাজ পড়ুক, রোজা রাখুক, ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকুক, কিন্তু স্ত্রী চায় না। তিনি চান নামাজ- রোজা বাদ দিয়ে আনন্দ বিনোদন আর ভোগ বিলাসে মত্ত থাকতে। কিংবা তার বিভিন্ন অনৈতিক চাহিদা বেশি, তার এটা চাই, ওটা চাই। এক্ষেত্রে স্বামীকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং স্ত্রীকে বোঝাতে হবে, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা বেশ ভালো আছি, এই দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়। এরপরে চিরস্থায়ী একটি জীবন আছে। সেই জিন্দেগি হয় চিরশান্তির হবে, নয় তো চির দুঃখের। কে চায় তার জিন্দেগিটা দুঃখে ভরা থাক। সবাই তো চিরশান্তিই চায়।

পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ সৃষ্টি ও বজায় এবং পরিবারের লোকদের মধ্যে দ্বীনি মেজাজ তৈরির জন্য ঘরে বিভিন্ন ধর্মীয় বই-পুস্তকের তালিম, জীবনঘনিষ্ঠ একটি আয়াত কিংবা হাদিসের অনুবাদ শোনানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, স্বামীর সঙ্গে বোঝাপড়ার সবগুলো কাজ স্ত্রীকে করতে হবে ভেবেচিন্তে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে। হৃদ্যতা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সঙ্গে। স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া, অন্যায় আচরণ করা মোটেই সমীচীন নয়। নিজের দুনিয়াবি ভোগবিলাস পরিত্যাগ করে, নিজের অন্যায় চাহিদাগুলোকে বিলীন করে পরিপূর্ণ শরিয়তের আলোকে নিজে চলার চেষ্টা করা। স্বামীকে চলতে উৎসাহ দেওয়া এবং সন্তানদের সেভাবে চালানো।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!