1. admin@theinventbd.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সৈয়দপুরে ৮ বছরের শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একমাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ।। হাতেনাতে সৎ নানা আটক কিশোরগঞ্জে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগীদের ৯ মাসের টাকা বেহাত কিশোরগঞ্জে ১টি পরিবারকে ৫ দিন ধরে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ সৈয়দপুরে চালককে ছুরিকাঘাত করে ভ্যান ছিনতাই নীলফামারীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই শিক্ষার্থী পেল পোর্টেবল ভিডিও ম্যাগনিফায়ার জলঢাকায় ববিতা রানী সরকারের প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইল চেয়ার বিতরন আমজাদ সরকার সভাপতি ও খায়রুল সম্পাদক জলঢাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কমিটি গঠন জলঢাকায় হরিজন সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করবেন ব্যারিস্টার তুরিন মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিবাদে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সৈয়দপুরে গোয়াল ঘরের তালা কেটে গাভী চুরি

বান্দার জন্য আল্লাহর দশ নেয়ামত

মাওলানা আবদুল জাব্বার
  • প্রকাশকাল | শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
  • ২৯ বার পঠিত
দুনিয়াতে যেকোনো মুমিন-মুসলমানের পরম চাওয়া ও লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন। আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন কিংবা পাওয়ার পক্ষে প্রকাশ্য কোনো প্রমাণ দেখানোর কিছু নেই। তবে আল্লাহ যখন তার কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তাকে বিভিন্ন নেয়ামত দ্বারা ভূষিত করেন। ইসলামি স্কলারদের মতে, তখন বান্দাকে আল্লাহ দশটি শ্রেষ্ঠ নেয়ামত দান করেন। ওই নেয়ামতগুলো হলোএক. আল্লাহতায়ালা যে বান্দাকে ভালোবাসেন তাকে ভূমণ্ডলে গ্রহণযোগ্য ও প্রিয় করে দেন। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন আল্লাহ তার কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন হজরত জিবরাঈল (আ.) কে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাসো। অতঃপর জিবরাঈল (আ.) তাকে ভালোবাসতে থাকেন, তারপর আকাশবাসীকে বলেন, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন অতএব তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আকাশের সব ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে থাকে। অতঃপর আল্লাহ সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করেন। আর আল্লাহ যখন তার কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন তখন জিবরাঈল (আ.) কে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করি, তুমিও তাকে ঘৃণা করো। তখন জিবরাঈল (আ.) তাকে ঘৃণা করেন। অতঃপর আকাশবাসীকে বলে দেন, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, তোমরাও তাকে ঘৃণা করো। তখন আকাশবাসীও তাকে ঘৃণা করতে থাকেন। অতঃপর তার জন্য জমিনেও মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি করা হয়। সহিহ মুসলিম

দুই. আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তাকে প্রতিপালন ও পরিচর্যা দ্বারা পরিবেষ্টন করে রাখেন। সবকিছু তার অনুগত করে দেন। সব কঠিন তার জন্য সহজ করে দেন। সব দূরবর্তী জিনিস তার নিকটবর্তী করে দেন। দুনিয়ার সব কাজ তার জন্য সহজ করে দেন। ফলে সে কোনো ক্লান্তি ও কষ্ট অনুভব করে না। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের দয়াময় আল্লাহ ভালোবাসা দেবেন।’ সুরা মারইয়াম : ৯৬

বর্ণিত এই আয়াত ছাড়া এ বিষয়ে কোরআনে কারিমে আরও অনেক আয়াত রয়েছে। ওইসব আয়াতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করে ও ভালোবাসে আল্লাহ তাকে দুনিয়ার রোগ-শোক, বিপদ-মুসিবত থেকে মুক্তি দেবেন। সমস্যা থেকে উদ্ধারের কোনো না কোনো পথ বের করে দেবেন। তাকে এমন ব্যবস্থাপনায় রিজিকের ব্যবস্থা করবেন, যা বান্দা কল্পনাও করে না।

তিন. আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তাকে আপন সান্নিধ্যে স্থান দেন। যখন আল্লাহ বান্দাকে ভালোবাসেন তখন তাকে নিজের কাছে রেখে প্রতিপালন করেন এবং আপন পরিচর্যার দ্বারা তাকে পরিবেষ্টন করে রাখেন। তাকে কষ্ট দেওয়ার কিংবা ক্ষতি করার সাধ্য কারও থাকে না। এ বিষয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘মহান আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আমার অলিকে (বন্ধুকে) কষ্ট দেয় আমি তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেই। আমার বান্দা আমার আরোপিত ফরজ কাজের মাধ্যমে এবং নফল কাজের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। এভাবে (এক স্তরে) আমি তাকে ভালোবাসতে থাকি। আর যখন আমি তাকে ভালোবাসি তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলাফেরা করে। আর যদি সে আমার কাছে কিছু চায়, আমি তাকে দেই। আর যদি আমার কাছে আশ্রয় চায় তাহলে আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি যা করি সে বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি না। কিন্তু মুমিন যদি মৃত্যুকে অপছন্দ করে তবে আমি তার প্রাণ নিয়ে সংশয়ে ভুগি। কেননা তার কোনো ভুল হোক আমার পছন্দ নয়। সহিহ বোখারি

চার. আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তার দোয়া কবুল করেন। মুমিন বান্দাদের দোয়া কবুল করা তাদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার প্রমাণ। এমন বান্দা দোয়ার জন্য আকাশের দিকে হাত তুলতেই তাকে নেয়ামত দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেন। বান্দা যখন বলে, হে আমার রব! এই ডাকের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ জবাবে বলেন, ‘আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে। সুরা বাকারা : ১৮৬

পাঁচ. যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন ফেরেশতাদের তার মাগফিরাত কামনায় নিযুক্ত করেন। ফেরশতারা ওই ব্যক্তির মাগফিরাত ও রহমত কামনা করেন আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদের ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন। সুরা মুমিন : ৭

ছয়. আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন তাকে নেক আমলের ওপর মৃত্যু দেন। মুমিন বান্দা তার জীবনের শেষ অবস্থা নিয়ে সবচেয়ে বেশি পেরেশানি, চিন্তা ও অস্থির থাকে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে মধু পান করান। মধু পান করানো দ্বারা উদ্দেশ্য কী জিজ্ঞেস করলে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তাকে মৃত্যুর পূর্বে নেক আমলে অভ্যস্ত হওয়ার তওফিক দেন এবং এর ওপরই তার মৃত্যু দেন।’ আহমদ

সাত. আল্লাহর ভালোবাসা বান্দার তখনই নসিব হবে যখন বান্দা নবী কারিম (সা.)-এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে। একটি অপরটির পরিপূরক ও শর্তাধীন। নবী কারিম (সা.)-এর জীবনের সব দিক অনুসরণীয় এবং আদর্শ বানাতে পারলে আল্লাহ নিশ্চয়তা দিয়েছেন তাকে ভালোবাসার ও তার গোনাহ মার্জনা করে তাকে শুদ্ধ করার। এটা আল্লাহর প্রেমপিয়াসী বান্দাদের উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলো, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ সুরা আলে ইমরান : ৩১

আট. আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তাকে মৃত্যুর সময় অভয় ও নিরাপত্তা দান করেন এবং তাকে দুনিয়াতে নিরাপদ জীবন দান করেন। মৃত্যুর সময় তাকে ফেরেশতা দ্বারা অভয় ও নিরাপত্তার সুসংবাদ দেন এবং ইমানের ওপর অটল রাখেন। অতঃপর তার প্রতি ফেরেশতা পাঠান, যারা কোমলভাবে তার জান কবজ করে নেন। মৃত্যুর সময় তাকে ইমানের ওপর দৃঢ়পদ রেখে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর অবিচলিত থাকে, তাদের কাছে অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা এবং বলে, তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও।’ সুরা ফুসসিলাত : ৩০

নয়. আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তাকে চিরস্থায়ী জান্নাত দেন। আল্লাহ তাকে এমন সম্মান প্রদান করেন, যা সে কখনো চিন্তা করেননি এবং অন্য কারও ভাবনায় আসেনি। আল্লাহ তার প্রিয়দের এমন জান্নাত দান করবেন, যেখানে তারা যা কামনা করবে তাই পাবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সৎ কাজের প্রতিদানস্বরূপ তাদের জন্য চোখ শীতলকারী যে সব সম্পদ-সামগ্রী গোপন রাখা হয়েছে, কোনো প্রাণীই তার খবর রাখে না।’ সুরা হামিম আস সিজদা : আয়াত ১৭

দশ. মহান আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের সামনে স্বীয় নূরসহ প্রকাশিত হবেন। ফলে তাদের কাছে আল্লাহর দিদারের (দর্শন) চেয়ে প্রিয় কিছুই থাকবে না। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত সুহাইব (রা.) হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘জান্নাতিরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহ তাদের লক্ষ্য করে বলবেন, তোমরা কি চাও, আমি আরও আগ্রহ বাড়িয়ে দেই? তারা বলবে, আপনি কী আমাদের মুখম-ল আলোকোজ্জ্বল করেননি? আমাদের জান্নাতে দাখিল করেননি এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত দেননি? হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এরপর আল্লাহ পর্দা তুলে নেবেন। আল্লাহর দিদারের চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো বস্তু তাদের দেওয়া হয়নি।’ সহিহ মুসলিম

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!