1. admin@theinventbd.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

বাজেট পুরোপুরি ব্যবসাবান্ধব কর্মসংস্থান করবে ব্যবসায়ীরা

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
  • ২৮ বার পঠিত

প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পুরোটাই ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এবারের বাজেটে ব্যাপক কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন কোনো করহার বাড়ানো হয়নি। এসব সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। তিনি বলেন, এখন ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এর এক দিন পর যথারীতি নতুন বাজেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। গতকাল শুক্রবার সেই বাজেটোত্তর ভার্চুয়াল সংবাদ সংম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বাজেটের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন। নতুন বাজেটে যেসব বিষয়ে সমালোচনা হয়েছে তারও জবাব দেন অর্থমন্ত্রী। শুরুতে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। যারা বেশি আয় করবে তাদের ওপর বাড়তি কর আরোপ করা ছিল। অথচ বেসরকারি খাত হচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশ হয় বেসরকারি খাতে। এবারও বেসরকারি খাতকে চালকের আসনে বসতে হবে।

মুস্তফা কামাল বলেন, আগে আমরা মুদ্রানীতিকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়েছি। কিন্তু বাজেটে উল্লেখযোগ্যভাবে কর ছাড় দেওয়া হয়নি। এবারের বাজেটে ব্যাপক কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন কোনো করহার বাড়ানো হয়নি। কর ছাড় দেওয়া হয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য। যদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করা যায়, তাহলে কিছুই হবে না। সে জন্য বেসরকারি খাতকে সুযোগ-সুবিধা বেশি দেওয়া হয়েছে।

কর্মসংস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে কর্মসংস্থানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা আছে। বাজেটের পুরোটাই হলো ব্যবসায়ীবান্ধব। আমি মনে করি, বাজেট ব্যবসায়ীবান্ধব হলেই ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেবেন। আর ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেওয়ার মানে হচ্ছে উৎপাদনে যাওয়া। সেই উৎপাদনটি ঘটাবে আমাদের দেশের জনগোষ্ঠী। মানুষের কর্মসংস্থান না করা হলে কীভাবে তারা এগুলো করবেন? সে জন্য আমরা মনে করি, ব্যবসায়ীরাই এ কাজটি করবেন। সে জন্য ব্যবসায়ীদের আমরা সুযোগ দিয়েছি, আমরা কমিটেড।’

কালোটাকার বিষয়ে বাজেটে কোনো কিছু না থাকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কালোটাকা নিয়ে আমি কখনো কথা বলিনি। আমাদের বাজেটে আমরা যে প্রিভিউশনটি রেখেছিলাম তা হলো অপ্রদর্শিত আয়। কালোটাকা এবং অপ্রদর্শিত আয়ের মধ্যে ব্যাপক ডিফারেন্স। কালোটাকা দুর্নীতির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, আর অপ্রদর্শিত টাকা আমাদের সিস্টেমের কারণে সৃষ্টি হয়।’

তিনি বলেন, অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ কতটা সুফল এনেছে, এ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেছেন, অপ্রদর্শিত আয় এভাবে বৈধ করার সুযোগ দিলে সমাজে অবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। মিশ্র প্রতিক্রিয়াও পেয়েছি।’

বাজেটে করের হার কমানোর কারণে রাজস্ব আদায়ে প্রভাব বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য রেখেছি, আইনটিকে আমরা সহজ করব। আমরা মনে-প্রাণে বিশ^াস করি যদি আমরা আইনটিকে সহজ করতে পারি, ট্যাক্স পেয়ারদের যদি এ কাজে সম্পৃক্ত করতে পারি, তাহলে রেভিনিউ জেনারেশন অনেক বৃদ্ধি পাবে। রেভিনিউ জেনারেশন বাড়াতে পৃথিবীর অনেক দেশ চেষ্টা করেছিল। এমনকি আমেরিকায়ও কোনো একসময় ৭৫ শতাংশ ট্যাক্সের পরিমাণ ছিল, সেটা এখন নেই। বেশি করে ট্যাক্স আদায় করা যায় কি না, সেটি সবাই চেষ্টা করেছিল।’

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি মাসে ২৫ লাখ মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। হিসাব করে দেখা গেছে, দেশের সব মানুষকে করোনার টিকার আওতায় আনতে গেলে কমপক্ষে চার বছর সময় লাগবে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটি শুধু প্রাক্কলন করা হয়েছে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আরও বেশি পরিমাণে টিকা দেওয়া হবে। প্রথমে আমরা একটি উৎস থেকে টিকা আনার চেষ্টা করেছিলাম। তাতে সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। এখন আমরা বিকল্প উৎস থেকে চেষ্টা করছি। শিগগিরই টিকা আসবে। কিন্তু যখন প্রথম টিকা দেশে এসেছিল, তখন মাইকিং করেও টিকা দেওয়ার লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এখন আগ্রহ বেড়েছে। তবে মোদ্দাকথা, সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে। টিকা কেনায় কোনো সংকট হবে না আশা করছি।’

গতকালের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে রেকর্ড ঘাটতির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘ঘাটতি বাজেট নতুন নয়, আমরা উন্নয়নশীল দেশ, ঘাটতি বাজেট হবে। তবে সংশয় আছে ঘাটতির পরিমাণ নিয়ে। তবে আমি কনফিডেন্ট, অর্থমন্ত্রী এটিকে মোকাবিলা করতে পারবেন। আমরা একটি অনুমানের জগতে আছি। সেটাকে নিয়ে তর্ক করে কোনো লাভ হবে না।’

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের সম্ভাবনাময় খাত কৃষি। এখন সময় এসেছে আমাদের আমদানি কমানোর। এখন আমরা উৎপাদন করতে চাই। আমরা উৎপাদনে দেশীয় চাহিদা পূরণ করে রপ্তানিতে যাচ্ছি। এ জন্য রপ্তানিতে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে আর আমদানিতে ট্যারিফ বসানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই উৎপাদন বাড়–ক এবং উদ্যোক্তারা আরও সুযোগ পাক। এতে আমাদের উৎপাদন বাড়বে, আমদানি কমবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশ।’

প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি মেটাতে সরকার ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেবে। এর মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নেবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা। তবে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ৭৬ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হলেও এর প্রভাব ব্যাংক খাতে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি। গত এক বছরের ব্যবধানে অতিরিক্ত তারল্য বেড়েছে ৯২ দশমিক ৪২ শতাংশ। বিশাল এই তারল্যের একটি বড় অংশ বিলবন্ডে বিনিয়োগ হলেও এখনো ৪০ হাজার কোটি টাকার তারল্য রয়েছে।’

স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় অনিয়ম রোধ ও বাজেটের বরাদ্দ টাকা খরচের ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ বিষয়ে অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে কেনাকাটার সঙ্গে জড়িত প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) ক্রাশ প্রোগ্রাম নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ের একটা অংশ অব্যবহৃত থাকে। স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের সঙ্গে যারা জড়িত, সেখানে একটা সমস্যা আছে। যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য জিনিসের ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। নতুন অর্থবছরে এ দুটো নিয়ে আমরা কাজ করব। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে।’

নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘দেশীয় ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় আমদানি করা মাংসে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কেন মাংস আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো, সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে রাখার কথা বলা হয়েছে। এডিপি বা উন্নয়ন বাজেট ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট এটি। বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা; যা জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!