1. admin@theinventbd.com : admin :
শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
জলঢাকায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচী পালন করছে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠন জলঢাকায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে উপজেলা যুবলীগ ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ এর জন্মদিনে জলঢাকার ফাউন্ডেশনে কর্মীদের মিষ্ট মুখ সৈয়দপুরে করোনায় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টসহ দুই জনের মৃত্যু নীলফামারীর সৈয়দপুরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অভিযান পরিচালনা করে ৫শ’৭০ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। জলঢাকায় ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গ্রেফতার – ১ সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসার জের, ভুড়ি বের করে দিলো প্রতিপক্ষ পাথর বোঝাই ৪০টি ওয়াগন নিয়ে বাংলাদেশে আসলো ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন ডিমলায় ভিজিডি কার্ডের চাল না দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নামে থানায় জিডি জলঢাকায় ক্যান্সার আক্রান্ত দুই শিক্ষককে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

জীবদ্দশায় উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন

মাহফুজ আবেদ
  • প্রকাশকাল | শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১
  • ৫৫ বার পঠিত

কোনো মুসলমান মারা গেলে তার স্ত্রী-সন্তান (স্বামীও হতে পারে) কিংবা অন্য আত্মীয়রা উত্তরাধিকার হিসেবে অবস্থাভেদে কী পরিমাণ সম্পত্তি পাবেন, তা ইসলামি শরিয়ত নির্দিষ্ট করে বলে দিয়েছে। আবার কেউ তার সম্ভাব্য ওয়ারিশদের নিজ হাতে কোনো সম্পদ দিতে চাইলে তার যথাযথ নীতিমালা ও পদ্ধতি শরিয়ত বাতলে দিয়েছে। এসব নীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমে একটি পরিবার ও সমাজ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যোগ্য হয়ে থাকে।

আফসোসের বিষয় হলো, বর্তমানে কিছু মানুষ ওই সব মূল্যবান নীতিমালা ও নির্দেশনা অনুসরণ করেন না। ফলে পরিবার ও সমাজ হয়ে ওঠে বিশৃঙ্খল ও অশান্তিপূর্ণ। শুধু তাই নয়, সম্পদের মালিক জীবদ্দশাতেও বিপাকে পড়েন অনেক ক্ষেত্রে।

অনেক সময় দেখা যায়, কোনো বাবা জীবদ্দশায় মেয়ে ও স্ত্রীকে বাদ দিয়ে শুধু ছেলেদের নামে সমুদয় সহায়-সম্পদ লিখে দেন। আবার কোনো ছেলেকে বেশি, অন্য ছেলেকে কম দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। স্ত্রী ও মেয়েদের এভাবে বঞ্চিত করে শুধু ছেলেদের সহায়-সম্পদের মালিক বানিয়ে দেওয়া ইসলাম বিরুদ্ধ কাজ। ক্ষেত্রবিশেষ ছেলে ও স্ত্রীর নামেও সম্পদ লিখে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কারও জীবদ্দশায় সম্পদ বণ্টন করার ক্ষেত্রে দুরকম উদ্দেশ্য হতে পারে। ১. সৎ উদ্দেশ্য, ২. অসৎ উদ্দেশ্য।

সৎ উদ্দেশ্য হলো, নিজের সম্পদ থেকে নিজের আপনজনদের উপকৃত করা। তারা যেন সম্পদ ভোগ করে উপকৃত হতে পারে, সেই চিন্তা করা। আর অসৎ উদ্দেশ্য হলো, পক্ষপাতিত্ব করা অথবা নিজের সম্পদ থেকে আল্লাহ প্রদত্ত মিরাসের অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা। যেমন কোনো ব্যক্তির শুধু কন্যা আর স্ত্রী রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পরে তার স্ত্রী এবং মেয়েরা তার সমুদয় সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে না। বরং তার ভাই ভাতিজারা (বিধানমতে) ইসলামি ফারায়েজ মোতাবেক সম্পত্তির অধিকারী হবে। এমতাবস্থায় ভাই ভাতিজাকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে জীবদ্দশায় যাবতীয় সম্পদ স্ত্রী কিংবা মেয়েদের নামে প্রদান করা। কিংবা সন্তানদের মধ্যে কাউকে অকারণে অধিক সম্পদ দিয়ে অন্য কাউকে অকারণে বঞ্চিত করার ইচ্ছা পোষণ করা। ইসলামি শরিয়তের মিরাস তথা উত্তরাধিকারনীতিতে এভাবে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার কোনো বিধান নেই।

একটি পরিবারে সাধারণত যেসব বিষয়ে দ্বন্দ্ব-কলহ সৃষ্টি হয়, অনেক ক্ষেত্রেই তার মূলে থাকে ধন-সম্পদ; পিতা-মাতা কর্র্তৃক সন্তানদের সম্পদ প্রদানে বৈষম্য ও উত্তরাধিকার বণ্টনে অনিয়ম। এগুলো ঝগড়া বিবাদ ও অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ জন্য মিরাসের আলোচনায় অনেকগুলো আয়াত বর্ণিত হয়েছে। অন্য বিধি বিধানের ক্ষেত্রে সাধারণত এমনটি দেখা যায় না। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসায় মিরাসের বিধি বিধানের আয়াতগুলো বর্ণনার মাঝখানে একটি আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের পিতা ও সন্তানদের মধ্যে তোমাদের জন্য কে বেশি উপকারী তা তোমরা অবগত নও। নিশ্চয়ই এটা আল্লাহর বিধান, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ সুরা নিসা : ১১

সম্পদ থাকলে মানুষ চিন্তা করে, কে তার উপকারে বেশি আসবে? কখনো ভাবে ছেলে, কখনো ভাবে মেয়ে। কখনো ভাবে স্ত্রী তার বেশি সেবাযতœ ও উপকার করবে। কখনো আবার অন্য কারও ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে। এমন চিন্তার ভিত্তিতে সে তার সম্পদ বণ্টন করার চেষ্টা করে। তার এসব চিন্তাই মূলত মিরাসনীতির বিপরীত। মহান আল্লাহ এসব চিন্তা রদ করেছেন এই আয়াতে। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, কে উপকারে আসবে সেটা তুমি জানো না। তুমি ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা নও। মিরাস ওই দৃষ্টিকোণ থেকে ধার্য হয়নি। আল্লাহতায়ালা তার হেকমত ও প্রজ্ঞা দিয়ে এ ক্ষেত্রে যেভাবে উপযোগী মনে করেছেন সেভাবে সম্পদ স্থানান্তরের বিধান দান করেছেন। কে কার কতটুকু উপকারে আসবে এই চিন্তার ওপরে মিরাসের ভিত্তি রাখা হয়নি। এই একটি আয়াতের মর্মের প্রতি যদি মুসলমান মনোযোগ দিতেন, তাহলে মিরাসের ক্ষেত্রে নিজেদের তৈরি করা প্রান্তিকতা ও বাড়াবাড়ি থেকে অনেকেই বেঁচে যেতেন। সমাজও নানা ধরনের অশান্তি কলহ থেকে মুক্ত থাকত।

নিজের সম্পদে মনগড়া বণ্টনের ক্ষেত্রে যত ধরনের পদ্ধতি রয়েছে এর কোনোটাই ইসলামসম্মত মানসিকতা নয়, এসব পরিত্যাজ্য। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী কারুনকে হজরত মুসা (আ.) নসিহত করে বলেছেন, ‘এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলো না, তুমি অনুগ্রহ করো যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন।’ সুরা কাসাস : ৭৭

এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আমের ইবনে সাদ তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, বিদায় হজের সময় আমার এক কঠিন পীড়ায় হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখতে আসেন। তখন আমি বললাম, আমার মুমূর্ষু অবস্থা তো আপনি দেখছেন, এদিকে আমার অনেক সম্পদ আছে। আর আমার একমাত্র ওয়ারিশ আমার মেয়েই। আমি কি আমার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ (গরিবদের) সদকা করে দেব? হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? নবীজি বললেন, না। এক-তৃতীয়াংশ? নবী কারিম (সা.) বললেন, এক-তৃতীয়াংশ এবং এক-তৃতীয়াংশও অনেক। নিশ্চয়ই তুমি যদি তোমার ওয়ারিশদের সচ্ছল রেখে যাও, তাহলে সেটা উত্তম হবে তাদের এমন দরিদ্র রেখে যাওয়ার চেয়ে যে, তারা মানুষের কাছে হাত পাতবে। তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যা ব্যয় করবে তার উত্তম প্রতিদান পাবে। এমনকি স্বীয় স্ত্রীর মুখে তুলে দেওয়া লোকমার বিনিময়েও।’ -সহিহ্ বোখারি : ১২০

বর্ণিত হাদিসে দেখা যাচ্ছে, এক-তৃতীয়াংশ দান করার বিষয়টিকেও হজরত রাসুলে কারিম (সা.) বেশি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অর্থাৎ দান করলে এক-তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে কম করা যেতে পারে। এখান থেকে ইসলামি স্কলাররা বলেন, অসিয়ত সমুদয় সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের কিছু কম হতে হবে। এ হাদিসের শেষাংশে একটি বাক্য রয়েছে যেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তুমি যদি তোমার ওয়ারিসদের সচ্ছল রেখে যাও তাহলে সেটা উত্তম হবে তাদের এমন দরিদ্র রেখে যাওয়ার চেয়ে যে, তারা মানুষের কাছে হাত পাতবে।’

এ বাক্যের মর্মার্থ হলো উত্তরাধিকারীদের রিক্তহস্ত রেখে, পুরোপুরি বঞ্চিত রেখে সব সম্পদ দান করে দেওয়া উত্তম নয়, উচিত নয়। এ হাদিস থেকে এটা স্পষ্ট হয়, ইসলামে বৈরাগ্য নেই। ধন-সম্পদ সব দান করে দিলামÑ এটা ঠিক নয়। এই হাদিসের ব্যাখ্যা অন্য বহু হাদিসেও পাওয়া যায়। নিজের পরিবারের জন্য খরচ করাকেও হাদিসে সদকা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

মানুষ নিজের সম্পদের বণ্টনে শরিয়তের বিপরীত আরেকটি নীতি গ্রহণ করে। সেটি হচ্ছে, কোনো সন্তানকে বেশি সম্পদ দিয়ে অন্য সন্তানকে কম দেওয়া। হাদিসের বর্ণনায় এটাকেও নিষেধ করা হয়েছে। হজরত নোমান ইবনে বাশির (রা.)-এর এ বিষয়ক হাদিসটি বিখ্যাত। ইরশাদ হয়েছে, ‘নোমান ইবনে বাশির (রা.) বর্ণনা করেন, তার মা নিজ সন্তানের জন্য তার বাবার কাছে কিছু সম্পদের আবেদন করলেন। এ নিয়ে এক বছর পর্যন্ত তার বাবা দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন। তারপর দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হলেন। তখন তার মা বললেন, আমার সন্তানকে দেওয়া সম্পদের ওপর হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) কে সাক্ষী রাখতে চাই। তখন আমার বাবা আমার হাত ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিয়ে গেলেন, আমি তখন ছোট্ট বালক। বাবা বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এই ছেলের মা তাকে দেওয়া সম্পদের জন্য আপনাকে সাক্ষী রাখতে চাচ্ছেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন বললেন, হে বাশির! এ ছাড়াও কি তোমার আরও সন্তান আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী কারিম (সা.) বললেন, তাদের সবাইকে কি তুমি এ পরিমাণ সম্পদ দান করেছো? তিনি বললেন, না। রাসুলে কারিম (সা.) বললেন, তাহলে এ ক্ষেত্রে আমাকে সাক্ষী রেখো না। আমি এমন জুলুমের সাক্ষী হতে চাই না।’ সহিহ্ মুসলিম : ১২৪৩

এই হাদিস থেকেই ইসলামি স্কলাররা গবেষণা করে বলেছেন, সন্তানদের মধ্যে দান করতে চাইলে সমতা বজায় রাখতে হবে। অভিজ্ঞতার আলোয় দেখেছি, মুফতিদের কাছে এ বিষয়ক অসংখ্য প্রশ্ন আসে। পিতা-মাতা জীবদ্দশায় কোনো এক সন্তানকে বেশি সম্পদ দিয়ে গেছেন। এসব পরিস্থিতিতে পিতা-মাতার মৃত্যুর পর অন্য সন্তানরা প্রশ্ন নিয়ে আসে যে, পিতা-মাতা এটা (এক সন্তানকে বেশি দেওয়া) ঠিক করেছেন কি না? এখন তাদের গোনাহ হবে কি না? অন্য সন্তানদের মনের মধ্যে এক ধরনের অসন্তুষ্টি লক্ষ্য করা যায়।

আবার এমনও হয়েছে, যে সন্তানকে বেশি দান করা হয়েছে, সে এসে জানতে চেয়েছে, অতিরিক্তটুকু অন্য ভাই-বোনদের মধ্যে বণ্টন করে দিলে কোনো সমস্যা নেই তো! আসলে বিনা ওজরে এভাবে কোনো সন্তানকে কম দেওয়া, কোনো সন্তানকে বেশি দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়। অথচ আবেগ এবং অজ্ঞতার কারণে কোনো কোনো পিতা-মাতা এই ভুল কাজটি করে থাকেন।

জীবদ্দশায় সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে এখানে শুধু ওই সব ভুলগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, যেগুলো সম্পদের মালিক জীবদ্দশায় করে থাকেন। যারা মৃত্যুর পর এমনি সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবে, এমন কাউকে কোনো সম্পদ দিতে চাইলে, এ বিষয়ে অভিজ্ঞ মুফতিদের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

এমনও দেখা গেছে, ভবিষ্যতের সুখ, আরাম আয়েশ ও সেবাযতেœর কথা খেয়াল করে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর খুনোখুনির ঘটনা ঘটেছে। অনেক সময় ছেলেরা আর ওই বাবার খোঁজ নেন না। এমনকি স্ত্রী কর্র্তৃক ওই স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়ার ঘটনাও শোনা যায়। বিভিন্ন সময় এমন অমানবিক ঘটনার কথা গণমাধ্যমেও এসেছে।

আরেকটি বিষয়, কারও মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রেও শরিয়তের হুকুম লঙ্ঘন করার প্রবণতা বর্তমান সমাজে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। মেয়ে, বোন ও ফুফুদের অংশ তাদের হাতে বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করার ঘটনা তো অনেক শোনা যায়। এ সবকিছুই পরিত্যাজ্য।

ইসলামের আলোকে মিরাস, অসিয়ত ও ওয়াকফের বিধিবিধান সম্পর্কে সবপর্যায়ের মুসলমানদের জ্ঞান অর্জন এবং এ সংক্রান্ত মাসায়ালার ব্যাপক চর্চা হওয়া দরকার। বিষয়গুলো মুসলিম জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে হবে। যেন মানুষ সঠিকটি জেনে, সে অনুযায়ী আমল করতে পারেন এবং ভুলগুলো এড়িয়ে চলার সুযোগ পান।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!