1. admin@theinventbd.com : admin :
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০১:০২ পূর্বাহ্ন

তাঁবু টানিয়ে চলছে ডায়রিয়ার চিকিৎসা!

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৯ বার পঠিত

বরিশালে করোনার সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। বরিশাল সদর (জেনারেল) হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের মেঝে ছাড়িয়ে রোগীদের স্থান হয়েছিল গাছতলায়। সেখানেই গাছের সঙ্গে স্যালাইন বেঁধে চলছিল চিকিৎসা। গাছতলার রোগীদের দুরবস্থা ঘোচাতে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সামনে প্যান্ডেল নির্মাণ করেছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। এরপরও জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সরাসরি মাটিতে প্লাস্টিকের মাদুরেও থাকতে হচ্ছে রোগীদের। আর প্যান্ডেলে স্থান পেলেও স্যালাইন ঝোলানোর স্ট্যান্ড পাননি রোগীরা। স্বজনরা বাধ্য হয়ে গাছের ডাল দিয়ে স্ট্যান্ড বানিয়ে স্যালাইন দিচ্ছেন রোগীদের। গতকাল শুক্রবার সকালে সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সামনের খালি জায়গায় রোগীদের জন্য প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। অস্থায়ী ওই প্যান্ডেলের ভেতরে নয়টি বেড দিয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত অতিরিক্ত রোগীদের রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এরপরও জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সরাসরি মাটিতে প্লাস্টিকের মাদুরেও থাকতে হচ্ছে রোগীদের। বরিশাল সদর হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ছিল। এত রোগীর জায়গা দেওয়া ওয়ার্ডে সম্ভব হয়নি। ফলে ডায়রিয়া রোগীদের বারান্দাসহ ওয়ার্ডের সামনের খোলা জায়গাতেও রাখতে হয়েছে। ওয়ার্ডের সামনের খালি জায়গায় যাতে রোগীদের খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদের মধ্যে থাকতে না হয়, সেজন্য অস্থায়ী প্যান্ডেল করা হয়েছে। বৃষ্টিতে সমস্যা না হয় সেজন্য দেওয়া হয়েছে ত্রিপল। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, রোগী ভর্তির সময় মাত্র একটি স্যালাইন সরকারিভাবে দেওয়া হয়। এরপর যত স্যালাইন প্রয়োজন তা বাইরের দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে। পুরো ডায়রিয়া ওয়ার্ড অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা। এখানে এসে নতুন করে ডায়রিয়াসহ অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন হোমায়রা বেগম বলেন, ‘এত রোগী যে ওয়ার্ডের ভেতরের মেঝেতে হাঁটা যাচ্ছে না। তার ওপর ভীষণ অপরিষ্কার। তাই আমার রোগী নিয়ে ওয়ার্ডের সামনের মাঠে প্যান্ডেলের নিচে এসেছি। কিন্তু এখানে বেড পেলেও স্যালাইন ঝোলানোর স্ট্যান্ড পাইনি। গাছের ডাল দিয়ে স্ট্যান্ড বানিয়ে নিয়েছি। আমার দেখাদেখি পাশের রোগীরাও একইভাবে স্যালাইন স্ট্যান্ড বানিয়ে নিয়েছেন।’ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গতকাল দুপুর ১২টার আগপর্যন্ত হাসপাতালটির ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৫৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড থেকে প্রায় ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স আয়শা আক্তার বলেন, ‘সরকারিভাবে যে ওষুধ এবং স্যালাইন বরাদ্দ আছে সেগুলো রোগীদের যথাসাধ্য দেওয়া হচ্ছে। আর রোগীদের চাপ থাকলেও লোকবল সংকট নিয়েই ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা সবসময় চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালে মাত্র চার শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ড। এর মধ্যে পুরুষ ওয়ার্ডে দুটি শয্যা এবং দুটি শয্যা মহিলা ওয়ার্ডে। তবে এখানে ১০টি করে মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের মধ্যে মোট ২৪টি শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনাসহ সবকিছুতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় প্যান্ডেল করে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সামনে আরও নয়টি শয্যা বসানো হয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ ম-ল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলতি মাসের শুরু থেকে করোনার পাশাপাশি বরিশালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় ২১ হাজার ৫০০ রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। মূলত সব জেলায়ই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বরগুনা জেলায়। এখানকার লোকজন গরমের এ সময়টাতেও বাসি খাবার খাচ্ছেন আর নদীর পানি সঠিকভাবে পরিশোধন না করেই পান করছেন। এ কারণেও অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।’

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!