1. admin@theinventbd.com : admin :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:০৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ

কল্যাণের মাস রমজান

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশকাল | শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৮৫ বার পঠিত

বছর ঘুরে আবারও এলো পবিত্র মাস রমজান। রমজানের তাৎপর্য ও রোজা সম্পর্কে নিশ্চয়ই বিস্তারিত বর্ণনার দরকার নেই। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকা অবশ্যই সহজ কাজ নয়। কিন্তু কোনো মানুষ দেখবে না এবং জানতেও পারবে না জানার পরও মুসলিমরা লুকিয়ে কিছু পানাহার করেন না। কারণ, তারা জানেন; আল্লাহতায়ালা সবই দেখছেন। আর রোজা যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সেহেতু কষ্ট যত বেশিই হোক না কেন, মুসলিমরা রোজা ভাঙেন না। পানাহার করেন না। এর মধ্য দিয়ে মুসলিমরা একদিকে অনাহারক্লিষ্ট গরিব মানুষের জীবন যন্ত্রণাবোধ করতে শেখেন, অন্যদিকে পরীক্ষা দেন ধৈর্যের। রোজাদাররা অন্যদের প্রতি সহমর্মিতার শিক্ষাও লাভ করেন। রোজা মানুষকে চরম ধৈর্যের শিক্ষা দেয়।

রমজানে আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদের জন্য নানামুখী সীমাহীন কল্যাণ রেখেছেন। এ মাসে পানাহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি চিন্তা ও কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলিমরা নিজেদের পরিশীলিত রাখেন। তারা কোনো অন্যায় কাজে অংশ নেন না, কারও সঙ্গে বিবাদে জড়ান না, অন্যের ক্ষতির চিন্তা তো এড়িয়ে চলেনই। সব মিলিয়েই রমজানের দিনগুলোতে মুসলিমরা আত্মশুদ্ধির এবং আল্লাহতায়ালার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টায় সচেষ্ট ও নিয়োজিত থাকেন। আল্লাহতায়ালাও দান করেন প্রচুর পরিমাণে। তিনি গোনাহগার বান্দাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ দেখান এবং তাদের মাফ করে দেন। ভালো কাজ না করার কারণে যারা দরিদ্র ও হীন অবস্থায় থাকে তারাও এ মাসের মাহাত্ম্যে এবং তওবা-ইস্তেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হয়ে উঠতে পারে।

রমজান মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদার দ্বিতীয় কারণ পবিত্র লাইলাতুল কদর। ২৬ রমজানের দিন শেষে অর্থাৎ ২৭ তারিখে, অনেকের মতে রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের যে কোনো বেজোড় রাতে নবী মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়। কোরআন এমন একটি মহাগ্রন্থ, যার মধ্যে আল্লাহর নাজিল করা পূর্ববর্তী সব গ্রন্থের সারবস্তু এবং ভূম-ল ও নভোম-লের যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের মৌল নির্দেশনা একত্রিত করা হয়েছে। বস্তুত আকাশ ও মাটিতে তথা সমগ্র সৃষ্টি জগতে এমন কোনো গোপন রহস্য নেই যার উল্লেখ কোরআনে আছে। পবিত্র এ গ্রন্থটিকে আল্লাহ মানুষের জন্য জীবন বিধান হিসেবে পাঠিয়েছেন। মক্কার নিকটবর্তী হেরা পর্বতের গুহায় শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। স্বয়ং আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’ সুরা কদরে আল্লাহ আরও বলেছেন, ‘এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।’

এই রাতে বেশি বেশি ইবাদতের তাগিদ দিয়েছেন হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি নিজেও কদরের সারা রাত আল্লাহর ইবাদতে কাটাতেন। রমজানের পবিত্র মাসে মুসলমানদের উচিত আল্লাহর মাগফিরাত ও রহমতের জন্য মোনাজাতে মশগুল থাকা। গোনাহ থেকেও মাফ ও মুক্তি চাইতে হবে। কারণ, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতপূর্ণ জীবনে মানুষ প্রতিদিনই গোনাহ করে। অন্যদিকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহ গোনাহগার বান্দাদের মাফ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ব্যভিচারী, মুশরিক ও আল্লাহর অবাধ্য বান্দা ছাড়া অন্যদের সব নেক আশা-আকাক্সক্ষা রমজান মাসে আল্লাহ পূরণ করেন। এমন একটি সুযোগকে তাই হাতছাড়া করা যায় না। কারণ, মনে ইবাদত ও ভালো কাজের স্পৃহা তৈরি হলে কারও পক্ষে খারাপ কাজ করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। প্রত্যেক মুসলিমেরই উচিত নিজেদের পাশাপাশি জনগণের কল্যাণ এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে প্রাণখুলে মোনাজাত করা।

আমরা মনে করি, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে রমজান পালনের পাশাপাশি সামগ্রিক বাস্তবতার আলোকেও নতুন করে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে। কারণ, সরকারের ব্যর্থতা এবং চঁাঁদাবাজি ও কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ নিয়ে অসৎ ব্যবসায়ীরা রমজান মাসে মুসলমানদের সর্বাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পণ্যের দামও শুধু বেড়েই চলে। নাভিশ্বাস ওঠে পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। ব্যবসায়ীদের উচিত অন্তত এই একটি মাসে রোজাদারসহ জনগণকে কষ্ট না দেওয়া। আর সরকারের উচিত প্রতিটি বিষয়ে সততার সঙ্গে তৎপর থাকা, যাতে রোজাদার মুসলিমদের কষ্ট কম হয়। এবারের রমজানে মানুষের কষ্ট কমানোর চেষ্টা করা উচিত বিশেষ করে করোনার কারণে। করোনায় প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা যেমন বেড়ে চলেছে তেমনি বাড়ছে নতুন নতুন আক্রান্তদের সংখ্যা। ওদিকে কমে আসছে চিকিৎসার সুযোগ। এজন্যই সংশ্লিষ্ট সবার লক্ষ্য রাখা এবং চেষ্টা করা দরকার, রোজাদার মুসলিমদের যাতে কষ্ট কম হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © The Invent
error: Content is protected !!